বাংলাদেশের অন্তরবর্তী সরকার পিছু হটতে বাধ্য হল। সম্প্রতি বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি বাতিল প্রসঙ্গে জনমানষে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে তাতে নিজের সিদ্ধান্তকে সরে দাঁড়াতে হল ইউনুস সরকারকে। জনগণের চাপে পড়ে যখন পিছু হটলো সরকার তখন সব দায় পরলো সংবাদমাধ্যমের ঘাড়ে। এই বিভ্রান্ত মুলক খবরের বিরুদ্ধে প্রধান উপদেষ্টা। সাফাই প্রেস সচিব শফিকুল আলমের।
ভুল সংবাদে মানুষকে বিভ্রান্ত করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে সরকার। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনকালের শুরু থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বঙ্গবন্ধু কৃতিত্বকে মুছে ফেলতে একের পর এক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে চলেছে ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস। কিন্তু এবার সরাসরি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বাতিল করে দেওয়া হল রীতিমতো সরকারের তরফে অধ্যাদেশ জারি করে। তারপর দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশে জনগণের বিরূপ প্রতিক্রিয়া ধেয়ে আসতেই উল্টো পথে ইউনুস সরকার। সরকারের উপর থেকে নজর ঘোড়াতে এই ঘটনার দায় চাপানো হল সংবাদমাধ্যমের ওপর। যে সংবাদ মাধ্যমের কণ্ঠরোধ করে ইউনূস সরকার। যে সংবাদ মাধ্যম মব জাস্টিসের শিকার হয় শুধুমাত্র সঠিক খবর পরিবেশন এর জন্য। সেই সংবাদমাধ্যমে নাকি ভুল তথ্য সম্বলিত খবর প্রকাশ্যে এনেছে সরকারের বিরুদ্ধে। এটাও কি সম্ভব ইউনূসের বাংলাদেশে?
কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বারা নিপীড়িত সংবাদমাধ্যমকেই সামনে রেখে বাংলাদেশ প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ফ্যাক্টস বুধবার সমাজ মাধ্যমে তাদের ভেরিফাইড পেজে এক পোস্টে লিখেছে ‘শতাধিক নেতার মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিল বলে বাংলাদেশী কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর এবং সর্বোপরি তা উদ্দেশ্য প্রণোদিত।’
ওই পোস্টেই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজমের বরাত দিয়ে জানানো হয়, মুজিবনগর সরকারে যারা ছিলেন, তারাও ‘মুক্তিযোদ্ধা’। যারা সশস্ত্রভাবে মুক্তিযুদ্ধ করেছে, যারা পরিচালনা করেছে, তারা মুক্তিযোদ্ধা। তবে ওই সরকারের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা ‘সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা’।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবারই বাংলাদেশের জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল “জামুকা” অধ্যাদেশ জারি করে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ-সহ চারশত রাজনীতিক মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিল করে দিয়েছিল বাংলাদেশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্রপতির আদেশে এই অধ্যাদেশ পাশ হয়। ২০২২ সালের জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন অনুযায়ী, যারা স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন, এই নয়া অধ্যাদেশ অনুযায়ী, শুধু মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারই নয়, আরও চার ধরনের স্বীকৃতি থাকা মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় ‘মুক্তিযুদ্ধের সহকারী’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ, মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞা পরিবর্তিত করে মুক্তিযুদ্ধের সহকারীতে রূপান্তরিত করা হয়েছিল। বাংলাদেশের এইঅধ্যাদেশ সামনে আসতেই বাংলাদেশ জুড়ে সৃষ্টি হয় জনরস। দেশ-বিদেশ চারদিক থেকে চাপ আসতে শুরু করে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে। আর সেই চাপ সামাল দিতেই ফের সংবাদ মাধ্যমকে কাঠগড়ায় তুললো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।












Discussion about this post