বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই নির্বাচন প্রসঙ্গে যেমন কথা বলেছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান, তেমন একই দাবি রেখেছিল বিএনপি। তারা স্পষ্ট জানিয়েছিল, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চায়। এবার মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার উপযুক্ত একটি সুযোগ পেয়ে গিয়েছে বিএনপির ডিসেম্বরে নির্বাচন চাওয়ার দাবি বন্ধ করতে। বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অর্থাৎ মোক্ষম চাল চেলে ফেলেছেন মহম্মদ ইউনূস। কেন বলছি এই কথা? আসলে সাদা চোখে দেখলেই সেটা মোটামুটি পরিষ্কার হয়ে যাবে। লন্ডনে গিয়েই বিএনপিকে মাত দেবেন ইউনূস, খলিলুররা। বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
চলতি বছরের এপ্রিল থেকে বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করানো নিয়ে জোরদার দাবি তুলতে থাকে। তারা আরও বেশি উৎসাহ পেয়ে যায়, যখন ২১ মে সেনানিবাসে সেনাপ্রধান ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চান। এমনকি তারপর প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করতে পারেন, সেই পরিস্থিতিতেও তাদের দাবিতে অনড় থাকে বিএনপি। এমনকি তারা বিভিন্ন সময় বলতে থাকে, কেন একটি যুক্তিযোগ্য সংস্কার আগামী এক মাসের মধ্যে করে ডিসেম্বরে নির্বাচন করা যাবে না? এমনকি তারেক রহমানও জানান, নির্বাচন ইস্যুতে সরকারের এত টালবাহানা চলবে না। এমনকি জাপান সফরে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন একটি মাত্র রাজনৈতিক দল চায়। এটা নিয়েই সর্বদলীয় বৈঠকে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ বলছিলেন, সেটা একেবারে ভুল। বহু রাজনৈতিক দল চাইছে নির্বাচন। তখনই মনে করা হচ্ছিল, বিএনপি কোনওভাবেই প্রধান উপদেষ্টার কথাতে গলে যাবে না। আর সেই পরিস্থিতিতে, এবার প্রধান উপদেষ্টা একটি মোক্ষম সুযোগ পেয়ে গেলেন। ২১ অগাষ্ট মামলার রায়ে তারেক রহমান সহ বেশ কিছু বিএনপি নেতৃত্ব যে খালাস পেয়েছে, সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমোদন পেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, হত্যাকাণ্ড এবং গ্রেনেড হামলা এবং বিস্ফোরক। শুধু তাই নয়, পয়লা জুলাই এর মধ্যেই রাষ্ট্রপক্ষকে আপিল করতে হবে। অর্থাৎ খারা ঝুলচ্ছে বিএনপির উপর। কারণ যদি সেট তারেক রহমান মামলায় জড়িয়ে পড়েন, তাহলে আগামী বছর ইউনুস নির্বাচন করালেও, তারেক রহমানের সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাটা কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে এই মুহূর্তে মোহাম্মদ ইউনূসের হয়ে কথা বলা ছাড়া উপায় নেই বিএনপির। বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আর সেই কারণেই দেখা যাচ্ছে, মোহাম্মদ ইউনূসের যতটা আগ্রহ রয়েছে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার, তার থেকে বেশি আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তারেক রহমানের। এবং দু ক্ষেত্রে বৈঠকের দায়িত্ব জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিষ্ঠা খলিলুর রহমানকে দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এমনটাই খবর উঠে আসছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, এই খলিলুর রহমানের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বিএনপি। তাদের দাবি ছিল, একজন বিদেশীর হাতে কিভাবে দেওয়া হয় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার মত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ? যদিও তখন খলিলুর রহমান বলেছিলেন, তিনি যদি বিদেশি নাগরিক হন, তবে তারিখ রহমানও বিদেশি নাগরিক। আর সেই মুহূর্তে বিএনপি খলিলুর রহমানের পদত্যাগের দাবি করেছিল। আর সেই খলিলুর রহমানী এখন মধ্যস্থতা করছেন তারেক রহমান ও মোহাম্মদ ইউনূসের বৈঠকের জন্য। তবে বলাই বাহুল্য, এই বৈঠক মোহাম্মদ ইউনূসের জন্য জয় নিয়ে আসবে। কারণ বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, সরকারের কোর্টেই বল রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বৈঠকের পর দুই তরফেই এমন ভাবে বিবৃতি দেওয়া হবে, যেন সমস্ত বোঝাপড়া ঠিক হয়ে গিয়েছে। ফলে মামলার ভয়ে আরও একবার বাংলাদেশের রাজনীতি খন্ডিত হবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি শক্তিশালী দল হিসেবে যদি সরকারের হয়েই কথা বলে, তবে সরকার প্রায় একপক্ষ হয়েই এখন কাজ করবে, সেটা বলাই বাহুল্য।












Discussion about this post