বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির। নির্বাচন ইস্যুতে যেমন সরকার প্রশাসনের অন্দরে জটিলতা তেমনই দফায় দফায় গোপন বৈঠক। যা আরও বেশি করে ঘটনাপ্রবাহ উস্কে দিচ্ছে। এবার সামনে এল ঈদের দিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎ। সেনাপ্রধানের জেনারেল ওয়াকার উজ জামান প্রধান উপদেষ্টা মহুমুদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তারপরই বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আর এই খবর সামনে আসে মূলত সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেজ থেকে। সেখানেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সেনাপ্রধানের ছবি দেওয়া হয়। এদিকে ঈদগাহে নামাজ পড়তে যাননি রাষ্ট্রপতি। তবে কি রাষ্ট্রপতির উপর কোনও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে? তাকে কোণঠাসা করা হচ্ছে? অনেকে বলছেন, একপ্রকার গৃহবন্দী হয়ে রয়েছেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। তবে কি সেটাই সত্যি হল? আসলে কেমন রয়েছেন রাষ্ট্রপতি?
প্রত্যেকবারই ঈদের দিনগুলিতে যেমন সেজে ওঠে গোটা দেশ, ঠিক তেমনভাবেই সেজে ওঠে বঙ্গভবনও। কিন্তু এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে হয়ে পড়েছে জৌলুসহীন।রেওয়াজ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি জাতীয় ঈদগাহে প্রতিবছর ঈদের নামাজ আদায় করেন। কিন্তু গত ইদল ফিতর থেকে দেখা যাচ্ছে, জাতীয় ঈদগাহে যাচ্ছেন না তিনি। অনেকে বলছেন, একপ্রকার রাষ্ট্রপতির যাওয়াতে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এবারও তিনি বঙ্গভবনে নামাজ পড়েছেন। প্রতিবছর ঈদকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবনে একটি সম্বর্ধনার আয়োজন করা হয়। এখানে বিভিন্ন পেশা এবং ব্যক্তিত্ব উপস্থিত হন। কিন্তু এখন সেখানে এসব কিছুই লক্ষ্য করা যায় না। কিন্তু সেনাপ্রধান গিয়েছিলেন। গত ঈদেও দেখা গিয়েছিল বঙ্গভবনে গিয়েছেন সেনাপ্রধান। এখানে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, রাষ্ট্রপতিকে কি কোনওভাবে চাপে রাখা হচ্ছে? তার উপর অলিখিতভাবে কোনও চাপ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে? একমাত্র যে সেনাপ্রধান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বারেবারে দেখা করেন, সেই জেনারেল ওয়াকারের সম্মততিতে গঠিত হয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যার মাথায় বসানো হয়েছিল নোবেল জয়ী মহমুদ ইউনূসকে। তাই অনেকে সেনাপ্রধানকে প্রশ্ন করছেন, কেমন রয়েছেন রাষ্ট্রপতি? রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সেনাপ্রধান যখন সদ্ভাব রাখছেন, তখন কেমন রয়েছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, সেটা তাকেই জবাব দিতে হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার সীমিত। কিন্তু সে কোনও কাজে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর ছাড়া হয় না। কিন্তু সেই রাষ্ট্রপতিকে একপ্রকার গৃহবন্দী করে দেখা হয়েছে। এমনকি রাষ্ট্রপতির একটি প্রেস উইং থাকে। সেটিকেও প্রায় বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এমনকি বঙ্গভবনের ওয়েবসাইটে রাষ্ট্রপতির বাণী গুলোকে আপলোড করা হত। সেগুলিকেও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। অন্যদিকে রাষ্ট্রের একটা রেওয়াজ হল, দেশের প্রধান বা প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর করে এলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করেন। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস গত প্রায় ৯ মাসে ১০ বার বিদেশ সফর করেছেন। কিন্তু তিনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎকার করেননি। কার্যত রাষ্ট্রের যে রেওয়াজ, সেটা তিনি মানেন না। অন্তত তার কার্যকলাপে সেটা স্পষ্ট। অথচ সেই প্রধান উপদেষ্টায় গত বছর ৮ ই আগস্ট রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়ে শপথ গ্রহণ করেছেন। এমনকি এই সরকারের পক্ষ থেকেই রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয় একের পর এক অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করার জন্য। ইতিমধ্যেই তদারকি সরকারের আমলে প্রায় শতাধিক অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, আইনের দিক থেকে রাষ্ট্রপতি থেকে সমস্ত সাহায্য নেওয়া হচ্ছে, অথচ সেই রাষ্ট্রপতিকেই মানা হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, ভাষা দিবসেও দেখা গিয়েছে রাষ্ট্রপতি শহীদ বেদীতে পুষ্প অর্পণ করে বেরিয়ে গিয়েছেন। তারপর প্রধান উপদেষ্টা সেখানে পৌঁছেছেন। অথচ এই রেওয়াজ কোনদিনই রাষ্ট্রে ছিল না। নানা ভাবে রাষ্ট্রপতিকে অবমাননা করা হয়েছে তদারকি সরকারের আমলে। বলা ভালো মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী কালীন সরকারের তরফে। আর সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে, একপ্রকার বঙ্গভবনের বন্দী রাষ্ট্রপতি, সেটা বোধহয় বলা ভুল হবে না। কারণ তিনি বাইরে বেরোতে পারেন না। তার কোনও বক্তব্য সামনে আসে না। এমনকি রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছে এই ছাত্র নেতারা। কিন্তু যেই মুহূর্তে সেটা তারা পারেনি, নানা রকম ভাবেই রাষ্ট্রপতিকে অপমান অবমাননা করছেন। শুধু তাই নয়, এক প্রকার তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে বলেই অভিযোগ বিশেষজ্ঞ মহলের। অনেকে বলছেন, রাষ্ট্রপতি বা বঙ্গভবনকে অবরুদ্ধ করা মানে, গোটা বাংলাদেশকেই অবরুদ্ধ করা।












Discussion about this post