ফের বাংলাদেশে প্রবল আলোচনা শুরু হয়েছে, দেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা। তিনি নাকি এক মাসের মধ্যেই দেশে ফিরছেন। আর এই জল্পনা আরও উস্কে দিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এছাড়াও শেখ হাসিনা কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেই ভাইরাল হওয়া ভিডিও ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বলা হচ্ছে, শেখ হাসিনা ফিরছেন। ওবায়দুল কাদের নানা রকমের তত্ত্ব খাড়া করার চেষ্টা করছেন। ওবায়দুল কাদের একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি সেই সাক্ষাতকারে বহু কিছু তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। এমনকি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কথা বলেছেন। তবে তিনি নির্বাচনের আগেই দেশে ফিরছেন? নির্বাচনে কি আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করবে? অনেকে বলছেন, এগুলো নির্ভর করছে যে কতটা আওয়ামী লীগ আন্তর্জাতিক মহলকে নিজেদের পক্ষে নিয়ে যেতে পারছে? আন্তর্জাতিক মহল কে নিজেদের পক্ষে নিয়ে যেতে হলে যতটা কাঠ খর পোড়ানো প্রয়োজন, এবং যতটা সময় প্রয়োজন, সেই সময়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বাস্তবতা রয়েছে কিনা, সেই প্রসঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, শেখ হাসিনার দ্রুত ফিরছেন। দেশে ফেরার পর তিনি নির্বাচনে প্রস্তুতি নেবেন। তবে নির্দিষ্ট করে কোনও তারিখ বা সময়ের কথা উল্লেখ করেননি ওবায়দুল কাদের। প্রশ্ন উঠছে, বারবার ওবায়দুল কাদেরকে কেন সামনে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে? ওবায়দুল কাদেরকে কি আওয়ামী লীগের পরবর্তী নেতৃত্ব হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হবে? আসলে কি হতে চলেছে?
অন্যদিকে শেখ হাসিনা কন্যা, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিওটিকে কেন্দ্র করে সরগরম পরিস্থিতি। শেখ হাসিনা নাকি এক মাসের মধ্যে ফিরবেন এবং তিনি তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন। এদিকে বাংলাদেশের বর্তমান যা প্রেক্ষাপট, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এই বাস্তবতা কি রয়েছে? আসলে যদি মহম্মদ ইউনূস দীর্ঘ ক্ষমতায় থাকেন, তবে শেখ হাসিনার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা তো হবেই না, তার কারণ তার বিচারের জন্য যে আয়োজন করছে সরকার, তাতে নিশ্চিতভাবে শেখ হাসিনাকে বড় কোনও সাজা দেওয়া হবে, এমন মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ কতটা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারবে, সেটা নির্ভর করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপরই। কারণ এই সরকার আওয়ামী লীগের সমস্ত কর্মকাণ্ডের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর দুটি চাপ ছিল। একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এবং অন্যদিকে ভারতের। যদিও ভারতের চাপ রয়েছে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অনেকটাই কমেছে এই সরকারের থেকে। তার কারণ, করিডোর নিয়ে একটি সমঝোতার দিকে এগিয়ে গিয়েছে সরকার। তবে করিডোর দিতে ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি ঘুরে যেতে পারে। অন্যদিকে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে, সেটিকে বলা হচ্ছে ভুয়ো ভিডিও। প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সেই ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। তবে ওবায়দুল কাদের যে যে বিষয়গুলি বলছেন তাতেই, অনেকে বলছেন এর মধ্যে আত্মবিশ্বাস রয়েছে। ভারতে বসেই দুটি সাজাতে শুরু করেছেন শেখ হাসিনা। শুধু তাই নয়, তিনি বিভিন্ন আওয়ামীলীগ নেতৃত্বের সঙ্গে ভারতে বসেই বৈঠক করছেন। এদিকে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বলেছেন, তিনি দেশে ফিরছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে রয়েছে ভারতের মতো শক্তিশালী দেশ। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে, তার দেশে ফেরাটা কোনও কল্পনা নয়। বরং বাস্তবিকভাবে তিনি ফিরতেই পারেন। তবে কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে। সেই আইনি জটিলতা কাটিয়ে, কতটা পরিস্থিতি নিজেদের পক্ষে নিতে পারেন শেখ হাসিনা, সেটাই দেখার।












Discussion about this post