শুধুমাত্র বাংলাদেশেই ইউনূস বিরোধী বিক্ষোভ নয়, লন্ডনেও দেখা গেল প্রবল ইউনূস বিরোধী প্রতিবাদ বিক্ষোভ। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস লন্ডন সফরে গিয়েছেন। সেখানে নাকি ব্যাপক প্রতিবাদ প্রতিরোধের মুখে পড়েছেন তিনি। বাংলাদেশে থাকতে তিনি যখন বন্দর দেওয়ার কথা বলেছিলেন, তখন তিনি জানিয়েছিলেন, বন্দর দেওয়ার বিষয়ে যারা বিপক্ষে থাকবেন, তারা প্রতিরোধ করুন। তার কয়েকদিনের মধ্যেই দেখা গেল, এক ধরনের প্রতিরোধের মুখেই পড়লেন ইউনূস। জানা যাচ্ছে, তিনি যে হোটেলে উঠেছেন, সেখানে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন তিনি। এমনকি লন্ডনের বিভিন্ন জায়গাতে বিক্ষোভ লক্ষ্য করা গিয়েছে। এমনকি বিভিন্ন পোস্টারের মাধ্যমে ইউনূসের পদত্যাগের দাবি, শেখ হাসিনার দলের বৈধতা.. এমন নানা বিষয় উঠে আসছে। তবে কি এর প্রভাব বাংলাদেশে পড়তে চলেছে? অন্যদিকে লন্ডনে মহম্মদ ইউনূসের পুরস্কার প্রাপ্তির বিষয় নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বলা হচ্ছে, পুরস্কার প্রাপ্তির তালিকায় নামই নেই ইউনূসের। আসলে কি ঘটছে লন্ডনে?
এমনিতেই বাংলাদেশের অন্দরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরোধী শক্তিগুলি মাথাচারা দিয়েছে। বিক্ষোভ, আন্দোলনে মুখরিত দেশের রাজপথ। এবার দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও বিক্ষোভের মুখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। অন্তত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবি থেকে সেটা স্পষ্ট নজরে আসছে। একদিকে ইউনূসের বিরুদ্ধে পোস্টার লক্ষ্য করা যাচ্ছে, অন্যদিকে হাসিনার পক্ষে পোস্টার নজরে আসছে। পাশাপাশি হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর মুক্তির দাবিতে ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে। খবর পাওয়া যাচ্ছে, প্রধান উপদেষ্টা যে হোটেলে রয়েছেন, সেখানে শত শত মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে তারা। এছাড়াও লন্ডনের বিভিন্ন জায়গাতে প্রতিবাদ বিক্ষিপ্তকারে লক্ষ্য করা গিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার লন্ডন সফরের আগেই মনে করা হচ্ছিল, তিনি বিক্ষোভের মুখে পড়তে পারেন। তার কারণ বাংলাদেশের বাইরে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী সমর্থক ও নেতা রয়েছেন লন্ডনে। আর সেখানেই আওয়ামী লীগের প্রতিরোধের মুখেই পড়লেন তিনি। তারা এককাট্টা হয়ে এই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে বলে খবর। এটি একটি দৃষ্টান্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে। কারণ বিদেশের মাটিতে কোনও রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে কোনও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়নি সম্ভবত। বলছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। এদিকে জানা যাচ্ছে, প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস চারদিনের সফরে লন্ডনের উদ্দেশে সোমবার রওনা দেন একগুচ্ছ কর্মসূচির জন্য। খবর রয়েছে, লন্ডন সফরে কিং চার্লস তৃতীয় হারমনি অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ দেওয়া হবে মহম্মদ ইউনূসকে। ব্রিটেনের বিদেশমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির সঙ্গে বৈঠক হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। এখানেই তার অ্যাওয়ার্ড পাওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা দেখছেন অনেকে। কারণ কিং ফাউন্ডেশনের ঘোষিত যে তালিকা, সেই তালিকার নাম নেই মহম্মদ ইউনূসের। সেখানেই এই বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এদিকে ১২ তারিখ পুরস্কার দেওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে কি মহম্মদ ইউনূস পুরস্কার পাবেন না? এদিকে তার লন্ডন সফরের মূল উদ্দেশ্যই ছিল, হারমনি পুরস্কার প্রাপ্তি। তাহলে প্রধান উপদেষ্টার পুরস্কার প্রাপ্তি নিয়ে যে এত প্রচার করা হল, তার কি হবে? এটা হলে বিশ্বব্যাপী চরম অসম্মানজনক পরিস্থিতিতে পড়তে হবে মহম্মদ ইউনূসকে। নাকি তালিকা পরে সংশোধিত করে ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে? অবশ্য সেটা পরেই বোঝা যাবে। এদিকে শুক্রবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে প্রধান উপদেষ্টার। নির্বাচন ইস্যুতে এই বৈঠকে কি উঠে আসে, সেদিকেও নজর রয়েছে প্রত্যেকের। এখন দেখার, কি পরিস্থিতি তৈরি হয়।












Discussion about this post