বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এমনকি পরে দেখা গিয়েছে, আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু কোথাও গিয়ে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম কে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেটা খুব প্রতাপের সঙ্গে বলতে পারছে না বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। তবে কি হাসিনা প্রসঙ্গে ডিগবাজি খেতে চাইছেন ইউনূস? অনেকে আবার বলছেন, নির্লজ্জতায় বিশেষ নিদর্শন! হাসিনাকে কিসের এত ভয় তার?
প্রথমে এই বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়, চ্যাথম হাউসে। সেখানে বলা হয়, জুলাই সনদ বা নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে তো সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলিকে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হচ্ছে না। যেমন আওয়ামী লীগ। তখন তিনি বলেন, আওয়ামিলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়নি। আপাতত কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলতে চেয়েছেন, ৫ ই আগস্ট আওয়ামী লীগের পতন ঘটে। তারা দেশ থেকে চলে গেলে উদযাপনে মাতে দেশের জনগণ। কিন্তু তারপরও তাদের পুরোপুরি কার্যক্রম বন্ধ করা যায়নি। তারা বিভিন্ন সময় কর্মসূচি পালন করছিল। যে কারণে দেশের জনগণ এবং ছাত্র নেতারা নিরাপদ বোধ করছিল না। তাদের নিরাপত্তা দিতেই এই পদক্ষেপ সরকারের।
তবে মোহাম্মদ ইউনুছ সেদিন সাময়িক স্থগিত বলতে কী বলতে চেয়েছেন? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে অবশ্য বিবিসি থেকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। সেখানে প্রশ্ন করা হয়, সাময়িক স্থগিত মানে কি নির্বাচন পর্যন্ত? তবে কি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে আওয়ামীলীগ? তখন অবশ্যই ইউনুস জবাব দেন, সেটা তো তার এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না। সেটা নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে। তিনি আরো বলেন, আমি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করিনি। তাদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে মাত্র। তখন প্রশ্ন করা হয়, তবে কি নির্বাচন অন্তর্ভুক্ত? আওয়ামী লীগ না থাকলে নির্বাচন অন্তর্ভুক্তি মূলক হবে কিনা, সম্প্রতি ঢাকায় জাতি সংঘের রেসিডেন্ট কো অর্ডিনেটর ব্যাখ্যা করেছেন। এমনটাই বলেন তিনি। তিনি নাকি বলেছিলেন, কোন দল অংশ গ্রহণ করতে পারল, তার থেকে বড় বিষয় হল সমস্ত জনগণ ভোট দিতে পারল কিনা! অন্যদিকে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, দেশের বহু মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে। তখন ইউনূস জানান, এটা জনগণদের সিদ্ধান্ত নিতে দিন, যে তারা আদতে আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে চান কিনা।
তারপরই ইউনূসকে বলা হয়, তবে কি আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে পারবে না? যদিও উত্তরে বলেন, তারা দেশের নাগরিক, ভোটার কার্ড রয়েছে। নিশ্চয় চাইলে দিতে পারবে। যদি আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকে। কারণ তাদের আমরা নিষিদ্ধ করিনি। তখন প্রশ্ন করা হয়, তাহলে কি নির্বাচনে আওয়ামীলীগ অংশগ্রহণ করতে পারবে? প্রধান উপদেষ্টা বলেন বিষয়টা পরিষ্কার করি। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু ওয়াকিবহুল মহলের একটা অংশ বলছেন, সরকারের পরামর্শে তো নির্বাচন কমিশন তাদের নিবন্ধন বাতিল করেছে। তাহলে কি বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন আদৌ স্বাধীনভাবে কাজ করছে?
অন্যদিকে তিনি যে বারবার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা নিয়ে বারবার স্পষ্ট করে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, সেটা কেন? কোথাও গিয়ে ভয় কাজ করছে? এমন প্রশ্নই উঠছে বাংলাদেশে?












Discussion about this post