বাংলাদেশে চলছে এখন এক উদ্ভট পরিস্থিতি। প্রকাশ্যে চলছে মব কালচার। যা কোনওভাবেই আটকানোর চেষ্টায় করছে না অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেনাবাহিনী কোথায়? প্রশ্ন যেমন উঠছে, ঠিক একইভাবে প্রশ্ন উঠছে, আর কতদিন? যতদিন নির্বাচন না হয়ে নতুন সরকার আসছে,ততদিন চলবে এই কালচার? নিজের হাতেই আইন তুলে নেবেন নেতৃত্বরা? সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাকে তার উত্তরার বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে আসা হয়। তিনি নাকি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভোট চুরির কারিগর ছিলেন। তারপর তার গলায় জুতোর মালা পড়িয়ে ভিডিও করার পর পুলিশে দেওয়া হয়েছে। পরে সেখান থেকে সাবেক এই প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে গ্রেফতার দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ডিবি হেফাজতে। আর ছবি এখন সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে। দেখুন সেই ভিডিও
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সাবেক আমলা নূরুল হুদা ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচন-সহ বহু স সরকার নির্বাচন নিয়ে, নানারকম প্রশ্ন উঠেছিল। সেই কারণে সমালোচিত হয়েছিলেন নুরুল হুদা। সিইসি কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে আগের দিনের রাতে ভোট দেওয়ার অভিযোগ ছিল। সেই কারণেই সিইসি নূরল হুদাকে অনেকেই রাতের ভোটের সিইসি হিসেবেও আখ্যা দিয়ে থাকেন। আর সেই কারণেই একটি গোষ্ঠী ক্ষোভে তার বাড়ি থেকে তুলে আটক করেন। তারপর পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কেন এক বিশেষ গোষ্ঠী এই কাজ করবে? পুলিশ কোথায় ছিল? তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে কেন পুলিশ একশন নিল না? আইন শৃঙ্খলা কি জনগণই নিজের হাতে তুলে নেবে? উঠছে প্রশ্ন। বর্তমানে ডিবি হেফাজতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। তবে আগে কেন পুলিশ যথোপযুক্ত অভিযোগ দেখিয়ে আইন শৃঙ্খলা মেনে গ্রেফতার করল না? তবে কি এই মব কালচারের শিকার পুলিসও? নাকি জেনে বুঝে, জনগণের হাতেই সব কিছু ছেড়ে দিচ্ছে প্রশাসন?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত সরকার না এলে, অহরহ এই ঘটনায় দেখা যাবে বাংলাদেশের অন্দরে।












Discussion about this post