এর আগে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান একাধিকবার বলেছেন, দেশে কোনওভাবে মব কালচার চলবে না। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছিলেন। এমনকি সেনাবাহিনীও একাধিকবার সাংবাদিক সম্মেলন থেকে এটা বলেছে। সেখানেও মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। তখন বাংলাদেশের বহু মানুষ আশ্বস্ত হয়েছিলেন। কিন্তু এখনও জনগণ সেই আতঙ্ক থেকে বেরোতে পারেননি। কারণ এখনও মব কালচার চলছে। খানিকটা কমলেও, মানুষ আশ্বস্ত হওয়ার জায়গায় পৌঁছয়নি। বলছেন বহু মানুষ। কেন লাগাম টানতে পারছে না সেনাবাহিনী এবং সেনাপ্রধান? প্রশ্ন উঠছে, তবে কি সেনাপ্রধানকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না? নাকি কোথাও কোনও গাফিলতি রয়েছে? কারণ প্রশ্ন উঠছে, সেনাপ্রধানের উপর থেকে কি আস্থা হারাচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ?
জানা যাচ্ছে, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের বক্তব্যের পর নারায়নগঞ্জে বিচারালয়ের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজের উপর মবের আক্রমণ। খুলনাতে আওয়ামী লীগ নেতার উপর আক্রমণ করা হয়। এমনকি রংপুরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জে এম কাদেরের বাড়িতে মবের আক্রমণ চলেছে। এরকম বহু ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে রবিবার দেখা গেল, সাবেক সিইসি নুরুল হুদাকে আটক করে তার গলায় জুতার মালা পরানো হয়। সেটা করে এক বিশেষ গোষ্ঠীর মানুষ। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি সেনাবাহিনী আর আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে পারছে না? কেন সেনাপ্রধানের স্পষ্ট হুশিয়ারির পরও এমন দৃশ্য বাংলাদেশের অন্দরে? আসলে অনেক বলছেন, মবের বিরুদ্ধে এমন কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে কি দৃষ্টান্ত শাস্তি দেওয়া হয়েছে? যে কারণে ভয় পাবে অপরাধীরা? তেমন কোনও রেকর্ড নেই বলে উল্লেখ করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। জে এম কাদেরের বাড়িতে যারা আক্রমণ করলেন, তাদের তো চিহ্নিত করা গিয়েছিল। তাহলে কেন তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হল না? কেন বিচারের মুখোমুখি দাড় করানো হল না? শুধুমাত্র বিএনপি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির তরফে সরি বলা হল। ব্যাস এটুকুই? আর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি সরকারের তরফে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস বলেছেন, আজ জুলাইয়ে মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এমনকি জুলাইয়ে সংগঠিত মানবতা বিরোধী তদন্ত এবং বিচারের জন্য। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল 1971 সালের মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য। হঠাৎ এমন বিষয় কেন উত্থাপিত করছেন মহম্মদ ইউনূস? এমনকি তিনি বলেন, এই একটি বিচার দেখতে চায় মানুষ। এমনকি তিনি বলেন আমরা একটি ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে। এক বছরের জুলাই গণ অভ্যুত্থান আমরা উদযাপন করব। আসলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিহিংসার জায়গা থেকে মহম্মদ ইউনূস একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করছেন। আর সেই জায়গা থেকে নিশ্চুপ সেনাবাহিনী এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার। কিন্তু কেন? তাহলে কি সত্যিই তাদের কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না? কোনভাবে কি চাপে রয়েছে সেনাবাহিনী? সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে অনেকে আবার বলছেন, বাংলাদেশের জনগণ শেষে ক্ষিপ্ত হয়ে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নির্মূল করে দেয় কিনা, সেটা দেখার।












Discussion about this post