ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দেশে কবে ফিরবেন, আদেও ফিরবেন কিনা কিংবা ফিরলেও মামলার জন্য ফিরবেন নাকি ফের প্রধানমন্ত্রী হতে ফিরবেন… এমন নানা প্রশ্ন যেমন উঠছে, ঠিক তেমনই তার দেওয়া বিভিন্ন অডিও বার্তাতে জল্পনা ছড়াচ্ছে। আর তার মাঝে মহম্মদ ইউনূস বলে বসলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরানোর ক্ষমতা আমাদের নেই, সরকারের নেই। তবে কি শেখ হাসিনার কাছে হার স্বীকার করে নিলেন ইউনূস? বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাতকারে এমন মন্তব্যে তোলপাড় বাংলাদেশ। ব্রিটেন সফরে গিয়ে বিবিসিকে তিনি একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। আর সেখানে তিনি এই বক্তব্য রেখেছেন। রোহিঙ্গা বিষয় থেকে আওয়ামী লীগ..নানা বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। যেগুলি তার আগের দেওয়া সাক্ষাতকারগুলির থেকে একটু আলাদাভাবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এমনিতেই আওয়ামী লীগের সমস্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তাই সবথেকে বড় প্রশ্ন, শেখ হাসিনার দল কি আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে? এদিকে বিবিসির তরফে প্রশ্ন করা হয়েছিল দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে। এমনিতেই সরকার নির্বাচনের সময় ঘোষণা করেছে। এদিকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ। সেক্ষেত্রে কি অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দিতে চায় না? কিন্তু কেন? এই উত্তরে ইউনূস বলেন, এটি নিয়ে আমরা বহুবার কথা বলেছি। ফের বলছি। আওয়ামী লীগ না থাকলে নির্বাচন অন্তর্ভুক্তি মূলক হবে কিনা, সম্প্রতি ঢাকায় জাতি সংঘের রেসিডেন্ট কো অর্ডিনেটর ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি নাকি বলেছিলেন, কোন দল অংশ গ্রহণ করতে পারল, তার থেকে বড় বিষয় হল সমস্ত জনগণ ভোট দিতে পারল কিনা!
অন্যদিকে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, দেশের বহু মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে। তখন ইউনূস জানান, এটা জনগণদের সিদ্ধান্ত নিতে দিন, যে তারা আদতে আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে চান কিনা।
তারপরই ইউনূসকে বলা হয়, তবে কি আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে পারবে না? যদিও উত্তরে বলেন, তারা দেশের নাগরিক, ভোটার কার্ড রয়েছে। নিশ্চয় চাইলে দিতে পারবে। যদি আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকে। কারণ তাদের আমরা নিষিদ্ধ করিনি। তখন প্রশ্ন করা হয়, তাহলে কি নির্বাচনে আওয়ামীলীগ অংশগ্রহণ করতে পারবে? প্রধান উপদেষ্টা বলেন বিষয়টা পরিষ্কার করি। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তখন প্রশ্ন করা হয়, এর মধ্যে কি নির্বাচন অন্তর্ভুক্ত? উত্তরে জানানো হয়, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে থাকবে কিনা, সেটা সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু ওয়াকিবহুল মহলের একটা অংশ বলছেন, সরকারের পরামর্শিত নির্বাচন কমিশন তাদের নিবন্ধন বাতিল করেছে। তাহলে কি বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন আদৌ স্বাধীনভাবে কাজ করছে?
অন্যদিকে তাকে প্রশ্ন করা হয়, শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটেছে। তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিচ্ছেন। সেক্ষেত্রে আপনারা কি শেখ হাসিনাকে ফেরাবেন? তার বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ রয়েছে, সেটা কি তার মুখোমুখি করতে চান? উত্তরে ইউনুস জানান, বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। আমরা চাই, তিনি বিচারের মুখোমুখি হন। তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য সমস্ত রকম আন্তর্জাতিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। তখন তাকে প্রশ্ন করা হয়, কিভাবে ফিরিয়ে আনবেন শেখ হাসিনাকে? এমনিতেও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎকার হয়েছে ইউনূসের। তখন তিনি বলেন, তাকে ধরে ফিরিয়ে আনার ক্ষমতা আমাদের নেই। তারপরই তাকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কি ভারতের উপর বিরক্ত? জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে থাকাতে কোনও ইস্যু না। সমস্যা হল, তিনি অডিও বার্তা দিচ্ছেন। যা নিয়ে দেশের মানুষ বিব্রত।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করা হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কে। প্রশ্ন করা হয়, আওয়ামী লীগ সরকার যা যা করেছে বলে অভিযোগ, সেগুলোই কি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার করছে না? উল্টে তিনি সাংবাদিককে আক্রমণ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে তুলনা টানলে বুঝতে হবে, আপনি বাংলাদেশের বাস্তবতা বোঝেন না।
তবে এটা পরিষ্কার, ইউনূস নিজের মুখে স্বীকার করে নিলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরাতে অক্ষম তিনি। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের দিকে বল ঠেলে দিলেন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, জাতিসংঘের রেসিডেন্ট কোঅর্ডিনেটর যে বক্তব্য রেখেছেন বলে তিনি উল্লেখ করলেন, পরবর্তীকালে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান বলেছেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে তিনি উদ্বিগ্ন। তিনি চান ইনক্লুসিভ নির্বাচন হোক। অর্থাৎ সমস্ত দলের অংশগ্রহণের কথা বলেছে জাতিসংঘ। কিন্তু মহম্মদ ইউনূস জানেন না জাতিসংঘের অবস্থান বদলের কথা। তবে এখন দেখার, আগামী নির্বাচনে আদতে শেখ হাসিনার দল কোনও চমক নিয়ে আসে কিনা।












Discussion about this post