নোবেলজয়ীর অধীনে থাকা বাংলাদেশে ভাঙা হচ্ছে অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র পরিচালক প্রয়াত সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ি। অন্ধকারের বাংলাদেশে আরেক অন্ধকার অধ্যায়। শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ওপার বাংলায় সাহিত্যিক থেকে সঙ্গীতশিল্পী, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বাড়িঘর হামলার মুখে পড়েছে। রেহাই পায়নি প্রথম নোবেলজয়ী বাঙালি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভিটেও। এবারে ইউনূস সরকারের টার্গেট সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক ভিটে। যে খবর প্রকাশিত হতেই সরব হয়েছিলেন এপার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ট্যুইট করে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারকে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানান। সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর্জি আসার পরই কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে অনুরোধ করে যে তারা যেন এই ঐতিহাসিক বাড়ি না ভাঙে। প্রয়োজনে সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের জন্য সব ধরণের সাহায্য করবে ভারত।
বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলায় হরিকিশোর রায় চৌধুরী রোডে অবস্থিত সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়িটি এখন জরাজীর্ণ। এটি সত্যজিৎ রায়ের ঠাকুরদা অর্থাৎ সাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর বাড়ি ছিল। শেখ হাসিনার আমল থেকে এই বাড়িটি বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমির ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হত। কিন্তু ইউনূস সরকার ও তাঁর দোসররা হাসিনা আমলের কোনও চিহ্ন রাখতে নারাজ। অন্যদিকে মুসলিম কট্টরপন্থীদের কোপে বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্মারক ও ভবন। এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের বার্তা বাংলাদেশের জন্য যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বিশিষ্ট লেখিকা ও সমাজসেবী তসলিমা নাসরিন এই প্রসঙ্গে ফের একহাত নিয়েছেন ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে। এক লম্বা ফেসবুক পোস্টে তিনি বাংলাদেশের ভাস্কর্য ও ঐতিহাসিক স্থাপত্য গুলি ভেঙে ফেলার প্রচেষ্টাকে নিয়ে প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি লেখেন, আমাদের আর ভালো কিছু হলো না। এক কাল অধ্যায় গিয়ে আরও এক কালো অধ্যায় আসে। এক কালো অধ্যায় সরাতে গিয়ে আমরা আরও ঘোর কালোর খপ্পরে পড়ি। ভালো বুঝি আমাদের ভাগ্যে নেই। লেখিকা তসলিমা নাসরিন দীর্ঘকাল ধরেই ভারতের রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। তিনি ইসলামিক কট্টরপন্থার প্রবল সমালোচক। ফলে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সঠিক পরিস্থিতি উঠে এসেছে তাঁর কলমে। তসলিমা ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর ভেঙে ফেলা হয়েছে। কারণ ইউনুস সরকার প্রজন্ম চত্বরের কোন স্মৃতি রাখতে চায় না। ২০১৩ সালে গণজাগরণের পরবর্তী সময় শাহবাগ এলাকায় গড়ে ওঠা প্রজন্ম চত্বর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও যুদ্ধাপরাধারীদের শাস্তির দাবির প্রতীক হয়ে ওঠে। বর্তমানে আন্দোলনকারীরা যে এটা রাখবে না তা বলাই বাহুল্য। তসলিমা আরও লিখছেন, প্রজন্ম চত্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে সেই জায়গায় জুলাই ভাস্কর্য স্থাপন করা হবে। তুই জুলাই যোদ্ধারা জামাত,জিহাদি, জঙ্গি, তারা ভাস্কর্যবিরোধী। তাদের তো ভাস্কর্য লোভ করা উচিত নয়? তাছাড়া জুলাইকে কেন এত স্মরণীয় করে রাখার প্রয়োজন?
তসলিমার বক্তব্য, আন্দোলন করে কোন সরকারকে সরিয়ে দেওয়া অভিনব কোনও ঘটনা নয়। গোটা পৃথিবীতে বহুবার ঘটছে এরকম ঘটনা। এমনকি বাংলাদেশেও এর আগে ঘটেছে। আন্দোলন করে এর আগে প্রবল স্বৈরাচারী শাসক এরশাদকেও নামানো হয়েছিল। কোন সরকার পতনের আন্দোলন মহান হতে পারে না। বিশেষ করে যখন হাসিনা সরকারের ভুল ত্রুটি এই সরকার সংশোধন করতে পারেনি। উল্টে তারা দেশকে ডুবিয়ে দিয়েছে অরাজকতা, সন্ত্রাস, নিরাপত্তাহীনতা, দুর্নীতি ও লুটতরাজে। তসলিমার সংযোজন, নতুন করে কোথাও ভাস্কর্য তৈরি করতে হবে না, দেশের মাদ্রাসা ও মসজিদ গুলোই এর প্রমাণ












Discussion about this post