পদ্মাপাড়ে নির্বাচন কবে হবে, আদৌ ফেব্রুয়ারিতে হবে কিনা, সেটা ঘিরেই এই জল্পনা তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফে। তবে এখনও আওয়ামী লীগের বড় সমর্থক বাংলাদেশেই রয়েছে। শেখ হাসিনা পদ্মা পাড়ের ভোট ফ্যাক্টর। অর্থাৎ বাংলাদেশের নির্বাচনে ভারতের ওপরই নির্ভর করতে হবে। কারণ ভারতে রয়েছেন শেখ হাসিনা। আদতে কি তত্ত্ব খাড়া করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা, চলুন আলোচনা করা যাক।
বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। ৫ই অগাষ্ট দেশ ছেড়ে ভারতে আসেন বাংলাদেশের পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৮ই আগস্ট বাংলাদেশে ক্ষমতা হাতে নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। যার মাথায় বসানো হয় মহম্মদ ইউনূসকে। ইউনূসের সরকার বারবার তুলে ধরার চেষ্টা করেছে শেখ হাসিনার আমলের দুর্নীতি, অপরাধ। শেখ হাসিনা বিরোধের সঙ্গে ভারতকে জড়ায় ইউনূসের দেশ। কারণ বাড়তে থাকে ভারত বিদ্বেষ। ভারত বিরোধীতা। শেখ হাসিনাকে প্রত্যপন্যের জন্য বাংলাদেশ সরব হয়েছে। কিন্তু ভারতের তরফে বিষয়টি নিয়ে কোনও উত্তর দেওয়া হয়নি। ভারত যে বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে না,সেটা বোঝাচ্ছে।
অন্যদিকে জানা যাচ্ছে,শেখ হাসিনাকে উচ্ছেদ করাই মূল লক্ষ্য ছিল। সেই কারণে জুলাই আন্দোলন হয়। ছাত্ররা প্রথমে কোটা বিরোধী আন্দোলন তৈরি করে। তারপরে পতন ঘটানো হয় শেখ হাসিনাকে। কিন্তু এই আন্দোলন নাকি পূর্ব পরিকল্পিত ছিল। যেখানে কাজে লাগানো হয় ছাত্রদের। কিন্তু তাদের পিছনে করা রয়েছে? বিএনপি? জামাত? কারা? ৫ই অগাস্টের পর দেখা গেল ফ্রান্স থেকে চলে এলেন মহম্মদ ইউনূস। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাথায় বসলেন। এমন একজনকে প্রধান উপদেষ্টা করা হল, যার সঙ্গে শেখ হাসিনার সম্পর্ক ভালো ছিল না। শুরু হল শেখ হাসিনা সহ আওয়ামী লীগের নেতাদের বিচার প্রক্রিয়া। এমনকি সম্প্রতি সামনে এসেছে, শেখ হাসিনার ১৮ সেকেন্ডের একটি অডিও। যেখানে তাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ছাত্রদের ওপর গুলি চালাতে। কিন্তু তাতেই কি প্রমাণ হয়ে গেল, শেখ হাসিনাই দোষী?
অন্যদিকে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন যারা দেখিয়েছিল, এখন দেখা যাচ্ছে তারাই নানা ভাবে অভিযুক্ত। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ এখন জ্বলছে। তার মধ্যে ইউনুস ক্ষমতা ছাড়তে চাইছেন না। বাংলাদেশে ভোট কবে হবে? যা ঘিরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তার আগেই ছাত্রনেতাদের দল গঠন করা হল। জাতীয় নাগরিক পার্টি। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, শেখ হাসিনা কবে বাংলাদেশে ফিরবেন? ফিরে এলেও কি ক্ষমতায় ফিরবেন? নাকি বিচারের মুখোমুখি হতে ফিরবেন? যদিও আওয়ামী লীগের তরফে বলা হয়েছে, দেশে ফিরে, তবেই তাদের দোষ বা ত্রুটি নিয়ে জনগণের কাছে জবাবদিহির বিষয় উঠবে। কিন্তু পদ্মাপাড়ে নির্বাচন হলে আদেও শেখ হাসিনার দল অংশ নিতে পারবে কিনা তার সন্দেহ রয়েছে। কারণ ইউনিসের সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগকে। তবে পদ্মা পারে নির্বাচন হলে শেখ হাসিনা একটা বড় ফ্যাক্টর। কারণ আওয়ামী লীগের বহু সমর্থক এখনো বাংলাদেশেই রয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের নির্বাচন ভারতের ওপরই নির্ভরশীল। কারণ শেখ হাসিনা এখনো ভারতেই।












Discussion about this post