মিয়ানমারে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর উলাফা আইয়ের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। তারা বলছে, ভারতীয় সেনারা তাদের উপর ড্রোন স্ট্রাইক করেছে তাই নয়, তাদের দাবি মিসাইল স্ট্রাইক করা হয়েছে। এমনকি বলা হচ্ছে, সেটা আবার ভারত ফাইটার জেট ব্যবহার করে। এবং সেটি নিয়ে মিসাইল স্ট্রাইক করে। এবং তাতে উলফা আইয়ের আরও দুজন মারা যান। তবে এ বিষয়টি নিয়ে স্বীকার করেনি ভারতীয় সেনা। জঙ্গি দমনে কড়া অ্যাকশনে অজিত ডোভাল, সেটা পরিষ্কার।
জানা গিয়েছে, পরেশ বড়ুয়ার নেতৃত্বাধীন উলফা-আইয়ের একাধিক শিবিরে ড্রোন হামলা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, একটা নয় দু’বার ড্রোন হামলা হয়েছে। তাতে উলফা সহ ভারতের অন্যান্য বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সদস্যদের হতাহেতের খবর আছে। জানা যায়, প্রথমদিন ২০০-র বেশি ড্রোন হামলা হয়েছে। দ্বিতীয় দিন ১৫০-এর কাছাকাছি ড্রোন হামলা হয়েছে। প্রাণ গিয়েছে সেকেন্ড ইন কমান্ড-সহ একাধিক জঙ্গি নেতার। প্রথম হামলায় প্রাণ গিয়েছিল নয়ন অসম নামে এক উলফা নেতার। পরেরদিন তার শেষকৃত্যে অংশ নিতে এসে একাধিক জঙ্গিনেতার মৃত্যু হয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রদীপ অসম এবং গনেশ অসম।
ভারতের নিষিদ্ধ ঘোষিত উলফা আই বা ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অফ আসাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট, যেটা ২০১২ সালে গঠিত হয়। যারা আসামের স্বাধীনতা লড়াই করছে বলে দাবি। যার নেতৃত্বে পরেশ রয়েছেন বড়ুয়া, যিনি হয় চিনে নয়তো বাংলাদেশে রয়েছেন। এই জঙ্গিগোষ্ঠী ভারত- মায়ানমার সীমান্তের সাগিয়াং অঞ্চলে ঘন জঙ্গলের মধ্যে ঘাঁটি তৈরি করেছে। উলফা, কয়েক দশক ধরে ভারতে বিচ্ছিন্নতাবাদী কাজকর্ম চালিয়ে আসছিল। এই সংগঠনের একটি অংশ ইতিমধ্যেই ভারত সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। কিন্তু আরেকটি অংশ আলফা-আই বা ইনডিপেনডেন্স নামে নিজেদের বিচ্ছিন্নতাবাদী কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিল। এর নেতৃত্বে ছিলেন পরেশ বড়ুয়া। যাকে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে আজীবন কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে পরেশ বড়ুয়ার শাস্তি কমিয়ে ১৪ বছর কারাদণ্ড করা হয়। পরেশ বড়ুয়া পলাতক বলে খবর।
অন্যদিকে এনএসসিএন – কে বা ন্যাশনাল সোশাওলিস্ট কাউন্সিল অফ নাগাল্যান্ড – খাপলাং এটিও একটি জঙ্গি সংগঠন। যার উপর ভারত সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছে। এদের উদ্দেশ্য ছিল ভারতের টুকরো করার। এদের সঙ্গে আলফা আইয়ের যোগাযোগ রয়েছে। এদের ফান্ডিং যোগায় চীন এবং পাকিস্তান। এই গ্রুপগুলি একত্রে আমব্রেলা গ্রুপ নামে পরিচিত। অর্থাৎ ভারত বেছে বেছে জঙ্গি সংগঠন গুলিকে চিহ্নিত করে সেখানে স্ট্রাইক চালাচ্ছে একের পর এক। অপারেশনের সিঁদুরের পর থেমে নেই ভারত। অন্যদিকে ভয় পেয়েছে ইউনূসের বাংলাদেশ। কারণ বাংলাদেশ থেকে বারবার বলা হয়েছে, সেভেন সিস্টার্স নিয়ে। যদিও ভারত এর মাধ্যমে বানাদেশকেও বুঝিয়ে দিল বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, ভারতের পরবর্তী পদক্ষেপ কি থাকে!












Discussion about this post