১৬ই জুলাই বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কবর ভাঙা কে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির উত্তাল হয়ে ওঠে। জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গোপালগঞ্জের উদযাপন করতে গেলে বঙ্গবন্ধুর সমাধিস্থল ভেঙে ফেলার উদ্যোগ গ্রহণ করে। কিন্তু আগেভাগেই খবর পেয়ে যায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তারা এবং গোপালগঞ্জের মানুষ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। ফলে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে যেমন একইভাবে আক্রান্ত হয়েছেন বহু সাধারণ মানুষও। সেখানে গুলি চালিয়েছে সেনা বাহিনী। আর তাতেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, হাসিনার অপেক্ষায় ক্যান্টনমেন্টে রয়েছেন সেনাপ্রধান?
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬ই জুলাই এর গোপালগঞ্জ এর সংঘর্ষের ছবি বলে দিচ্ছে, সেনাবাহিনীর ইচ্ছাকৃতভাবে গুলি চালিয়েছে। নিজেদের আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালেও মেনে নেওয়া যেত। কিন্তু কেন গুলি চালানো হল? প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। অন্যদিকে গোপালগঞ্জের বিষয়টি মনিটরিং করছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টা আসিফ মোহাম্মদ সজীব ভূঁইয়া। প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মনিটারিং করছেন। কিন্তু আসিফ মোহাম্মদ সজীব ভূঁইয়াকে কেন দায়িত্ব দেওয়া হল? তিনি পুলিশ কন্ট্রোল রুমে বসে একটি ছবি দিয়েছেন ফেসবুকে। তিনি লিখছেন, গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি করা হয়েছে। জীবন মরণ পরিস্থিতি তৈরি না হলে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বেরোবেন না। সমস্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাসীদের তিনটি হাইপেন দিয়ে লেখা হয়েছে (_)ভেঙে দেওয়া হবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কি ভেঙে দেওয়ার কথা বলছেন তিনি? একজন উপদেষ্টা কি এইভাবে কথা বলতে পারেন? এছাড়াও গোপালগঞ্জের শুধু আওয়ামী লীগ কর্মীরা নন, সাধারণ মানুষও প্রতিরোধ করে তুলেছিল। তবে কি তাদের উদ্দেশ্যে ওই বার্তা দিলেন উপদেষ্টা? তিনি কি মানবাধিকার লঙ্ঘনের মত ভাষা প্রয়োগ করছেন না? যেটা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা হয়েছিল বলে অভিযোগ! এছাড়াও তিনি পুলিশ কন্ট্রোল রুমের তার পেশাদারিত্বের খাতিরে যেতে পারেন, সেই প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। তিনি নিশ্চয়ই সেখানে বসে কোনও নির্দেশনা দিচ্ছিলেন। তাহলে কোন নির্দেশনা দিলেন তিনি? এমন প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন উঠে আসছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে যে গুলি চালানো হয়েছে, সেই নির্দেশের পিছনে কি তিনি ছিলেন?
অন্যদিকে জামাত এবং বিএনপি বুঝতে পারছে না, তারা কোন পক্ষে থাকবে! এমনই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তারা। তারা জুলাই আন্দোলনের পক্ষে থাকবে নাকি আওয়ামী লীগের পক্ষে থাকবে, নাকি কার বিপক্ষে থাকবে বিএনপি বুঝে উঠতে পারছে না। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি রাজনৈতিক দলের জন্য সবথেকে দুর্বলতার জায়গা।
অন্যদিকে গোপালগঞ্জের ঘটনায় আওয়ামী লীগের দিকেই আঙুল তোলা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের ওপরেও কি এইভাবে নির্বিচারে গুলি চালানো যায়? যেরকম জুলাই আন্দোলনে গুলি চালানো হয়েছিল, তার সমালোচনা যেমন হচ্ছে, এক্ষেত্রেও প্রশ্ন উঠবে। এখানে প্রশ্ন উঠছে, এই সরকার যে মানবাধিকার লংঘন করল, তার পক্ষে থাকবে বিএনপি? প্রথম দিকে আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার সময় বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিল। পরে তারা পক্ষে অবস্থান নেয়। অর্থাৎ বিএনপির দ্বিধাগ্রস্থ একটি দল। তারা নিজেরাই জানে না, কোন পক্ষে তারা যাবে। তাদের দলীয় আদর্শ তা ধরে রাখতে পারছে না। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে এখন যা ঘটছে, যা ঘটবে তা দেশের জন্য নিঃসন্দেহে মঙ্গল জনক নয়।












Discussion about this post