গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের কবর ভাঙার উদ্যোগ গ্রহণ করলে গোপালগঞ্জের মানুষ এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে সেটা রুখে দেয়। এমনকি ছাত্র নেতাদের উপর চড়াও হয়। এমনকি তারা প্রাণ ভয়ে পালিয়ে বাঁচে। তারা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সামনে বলছে, পুলিশ নাকি নীরব দর্শক। তাদেরকে নিরাপত্তা দিতে পারছে না। যে পুলিশকে হাতিয়ার করে এতদিন ধরে ছাত্র নেতারা বিভিন্ন কর্মকান্ড করে চলল, সেই পুলিশ ও বাংলাদেশের ছাত্র নেতাদের বাঁচাতে পারলো না। অর্থাৎ গোপালগঞ্জে নিজের অকাত বোঝাল আওয়ামী লীগ। অনেকে বলছে, এর মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের শেখ হাসিনার ফেরার পথ প্রশস্ত হল খানিকটা। এই ঘটনার পর কি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরাতে ভারত পদক্ষেপ করবে?
১৬ই জুলাই বুধবার ছিল গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির কর্মসূচি। তাদের মূল উদ্দেশ্যে, বঙ্গবন্ধুর কবর ভেঙে দেওয়া। আগেভাগেই সমস্ত প্রস্তুতি সেরে রেখেছিল ছাত্রনেতারা। আনা হয়েছিল বুলডোজার। সঙ্গে ছিল একাধিক সরঞ্জাম। এমনকি তাদের কর্মসূচি যাতে নির্বিঘ্নে পালন করা যায়, তার জন্য সক্রিয় ছিল পুলিশও। কিন্তু তাদের কর্মসূচিতে প্রতিরোধ গড়ে তোলা আওয়ামী লীগ নেতা, কর্মীরা এবং গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষ। যখন পুলিশ প্রশাসন টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুরের মাজার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে,তখনই প্রতিরোধ গড়ে তোলে আওয়ামী লীগের কর্মীরা। চলে দু পক্ষের মধ্যে প্রবল সংঘর্ষ। এমনকি গোপালগঞ্জের পুর পার্ক এবং লঞ্চঘাট এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরি হয় আওয়ামী লীগের। পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ থেকে সেনাবাহিনী পর্যন্ত হিমশিম খায়। শেষমেষ কারফিউ জারি করা হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর প্রহরায় এলাকা ছাড়েন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা। রণক্ষেত্র হয়ে উঠল গোপালগঞ্জ। প্রবল সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু ঘটেছে বলে খবর। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে জারি করা হয়েছে কারফিউ।
ছাত্র নেতারা বলছে, আমাদের মঞ্চ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশ সুরক্ষা দিতে পারল না। আসলে অনেকে বলছেন, গোপালগঞ্জে জয় হয়েছে মুক্তি যুদ্ধের চেতনা। তবে কি গোপালগঞ্জ দিয়েই মহম্মদ ইউনূসের বিদায়ের ঘণ্টা বাজতে শুরু করলো? যে ক্ষোভ তৈরি হল তাতে সাধারণ মানুষ আর ইউনূসকে ক্ষমতায় রাখবে না। পাশাপাশি একটি বিক্ষোভ ঠেকাতে ইউনূসের পুলিশ তো ব্যর্থ। কিন্তু যেভাবে সেনাবাহিনী গুলি চালিয়েছে, তাতে সেনাবাহিনীর উপরও সাধারণ মানুষের আস্থা হারিয়েছে।











Discussion about this post