গোপালগঞ্জের ঘটনা অনেক কিছু ভাবাচ্ছে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ আর্মির বেশ কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। কেন তারা গুলি চালালো ? কেনই বা এই ধরনের অত্যাচার করলো, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে খোদ বাংলাদেশেই। সবচেয়ে বড় গল্প হল একটা স্বাধীন ও সর্বভৌমত্ব রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী সাজোয়া গাড়ি বা আর্মার্ড ভেহিকেল নিয়ে গোপালগঞ্জে ঢুকেছিল। কেন, কিসের প্রয়োজনে দেশের ভিতরেই থাকা এক শ্রেণীর মানুষের জন্য সেনাবাহিনীর ট্যাংক নিয়ে সেখানে গেল? এর পিছনে আসল কারণটা কি? উত্তর অজানা।
বৃষ্টির ইতিহাসে খুব কম nojirb আছে, যেখানে একটি সমাবেশে হামলার ঘটনায় চেনা ট্যাংক গিয়েছিল উদ্ধার করতে। এটা আফগানিস্তান বা আফ্রিকার কোন দাঙ্গাবিদ্ধস্ত এলাকা নয়, এটা বাংলাদেশ।
গোপালগঞ্জের ঘটনা প্রশ্ন তুলছে এটা কি বাংলাদেশে একটা গৃহযুদ্ধের সূচনা নাকি এমনই একটি সাধারণ ঘটনা? যে ধরনের ঘটনা গোটা বাংলাদেশে বিগত এক বছর ধরে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, গোপালগঞ্জের ঘটনা একটু আলাদা। সেনাবাহিনীর অতি সক্রিয়তা, এন সি পি নামক এক অর্বাচীন রাজনৈতিক দলকে প্রতিরক্ষা দেওয়া সবটাই যেন অন্য একটা প্রশ্ন চিহ্ন তুলে দিচ্ছে। যে নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহরা সেনাবাহিনী সাজোয়া গাড়িতে লুকিয়ে পালালেন তা অভূতপূর্ব। অন্যদিকে সেনাবাহিনী গুলি চালিয়ে সরকারিভাবে চারজন, বেসরকারিভাবে সাত পা আরো বেশি লোকের মৃত্যু ভাবাচ্ছে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণকে। কে সত্যি কে মিথ্যে, এটি এখন মূল চর্চার বিষয়।
বাংলাদেশ এখন নৈরাজ্যের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ভারতীয় গণমাধ্যম এটা বারবার বলে আসছে, ভারত সরকারের বিদেশ মন্ত্রকে এই দাবি করে আসছে। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার ও তাঁর দোসররা তা মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, ভারতীয় গণমাধ্যম মিথ্যে কথা বলছে। কিন্তু শাক দিয়ে কি মাছ ঢাকা যায়? গোপালগঞ্জের ঘটনা, সেটাই প্রমাণ করলো। গোপালগঞ্জে কারফিউ ম বা ১৪৪ ধারা জারি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিক্ষোভ থামানোর চেষ্টা করলেও আদৌ কি সফল হচ্ছে?
রাজাকার বনাম ১৯৭১-এর মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াই, এটা বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে। আজ সেই রাজাকার বাহিনী যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাইনি, যারা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিমুহূর্তে ফাঁদে ফেলতে চেয়েছেন তারাই ক্ষমতায়। এনসিপি নামক এই রাজনৈতিক দলের আলাদা কোন সত্তা আছে কিনা সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই মনে করেন এই রাজনৈতিক দলটি আসলে জামায়াতে ইসলামীর শাখা সংগঠন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী যা করছে তা অনেকগুলি প্রশ্নের উদ্রেক করে দিচ্ছে। গোপালগঞ্জে কেন সেনাবাহিনী গুলি চালালো, কেনই বা তারা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দমনমূলক নীতি নিল, তাহলে কি বাংলাদেশের সেনা প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের আসল উদ্দেশ্য অন্য?
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতদিন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারের বিরুদ্ধে বা বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ করেননি। গোপালগঞ্জের ঘটনার পরে তার মুখে সেনাবাহিনীর সমালোচনা শোনা গেল।
ঘটনাক্রম বিচার করলে যেটা সামনে আসে তাতে অবশ্যই সেনাবাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। গোপালগঞ্জের ঘটনা নিয়ে কি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বাড়তি তৎপরতা দেখায়নি? কেওই বা তাঁরা গুলি চালালো? এই বিষয়ে জেনারেল ওয়াকার উজ জামান অবশ্যই কাঠগড়ায় উঠবেন। কারণ, তিনি যে দাবি করেছিলেন মাস চারেক আগে, সেটা গোপালগঞ্জে পালিত হয়নি। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান সত্যিই বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসকে সেফ গার্ড দিচ্ছেন? তিনি কি এতদিন মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছেন? যেভাবে এনসিপি নেতাদের সেনাবাহিনীর সাজোয়া গাড়িতে তুলে গোপালগঞ্জ থেকে বের করে নিয়ে এসেছে সেনাবাহিনী, তাঁরা যেভাবে গুলি চালিয়েছে, তাতে অনেক কিছুই পরিষ্কার। বাংলাদেশ সেনা গোটা বিশ্বেই এক বিরল নজির সৃষ্টি করল। তা হল নিজের দেশের এক শ্রেনির নিরীহ নাগরিককে দমন করতে রাজপথে সেনা ট্যাঙ্ক নামিয়েছে, এবং গুলি করে হত্যা করেছে। এই ধরণের কাণ্ড গত বছর জুলাই আগস্ট আন্দোলনের সময় করেনি তাঁরা। এবারে করলেন।












Discussion about this post