গতবছরের জুলাই এর স্মৃতি ফিরল বাংলাদেশে। ফের উত্তপ্ত জুলাই মাস। ক্ষমতা দেখাল শেখ হাসিনার দল। এদিকে সিঁদুরে মেঘ দেখছে ইউনূস-জামাত। তবে কি শেখ হাসিনার মতোই পরিণতি হবে ইউনূসের?
১৬ ই জুলাই, ২০২৪ সেদিনই মূলত বাংলাদেশে তৈরি হয়েছিল, হাসিনা হটাও আন্দোলন। বৈষম্য বিরোধী কোটা আন্দোলন ধীরে ধীরে মাথাচারা দিচ্ছিল। এরমধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র আবু সাঈদের মৃত্যু ঘটে পুলিশের গুলিতে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। তার কিছুদিনের মধ্যেই শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। দেশ ছাড়েন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গঠন করা হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ক্ষমতায় বসেন মহম্মদ ইউনূস। ক্রমাগত কট্টরবাদী পাকিস্তানপন্থী জামাত পিছন থেকে ইউনূসের সরকার কে চালনা করতে থাকে। তারাই প্রত্যেকে মিলে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছে। তবুও নির্বাচনের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছে জামাত বাহিনী। সেটার কারণ স্পষ্ট হল এই বছরের ১৬ জুলাইয়ে।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বর্ষপূর্তি চলছে। সেই উপলক্ষে ১৬ ই জুলাই দিনটিকে বেছে নিয়ে গোপালগঞ্জে কর্মসূচি ডাক দিয়েছিল ছাত্রনেতারা। এদিকে গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগের গড়। শেখ হাসিনার এলাকা। যেখানে এখনও মুক্তি যুদ্ধের চেতনা বিশ্বাসী মানুষেরা বসবাস করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কবরস্থান ওই গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। সেই কবরস্থান ভেঙ্গে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল ছাত্রনেতারা। কিন্তু আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ঘোষণার বড় যে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে রয়ে গিয়েছে সেটা জানা গেল ১৬ই জুলাই বুধবার। ছাত্রনেতারা তৈরি ছিল বুলডোজার এবং অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে বঙ্গবন্ধুর মাজার ভাঙাতে। কিন্তু রুখে দিয়েছে আওয়ামী লীগের কর্মী এবং গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষ। পালিয়ে বেঁচেছে ছাত্র নেতারা। তৈরি হয়েছে দফায় দফায় বিক্ষোভ, সংঘর্ষ। সেনাবাহিনীর গুলিতে মারা গিয়েছে চারজন। এই ঘটনায় প্রমাণ করে দেয়, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকার পরও দলের প্রাণ এখনো রয়েছে গোপালগঞ্জে।
এদিকে দেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। গত এক বছরে ইউনূসের আমলে বেড়েছে খুন, ধর্ষণ, লুঠ রাজ। কট্টরপন্থী জামাত বাহিনীর সঙ্গে ইউনূসের সরকার হাত মিলিয়ে দেশের পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলছে। ক্ষমতার স্বাদ আরও কিছুদিন জিইয়ে রাখতে জুনের আগে নির্বাচনের কথা বলছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এদিকে ইউনূসের মনোভাব বুঝতে পেরে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া চাইছে এ বছরের মধ্যে নির্বাচন হোক। এদিকে সামনেই রয়েছে ৫ ই আগস্ট। সেই দিনই দেশ ছেড়েছিলেন শেখ হাসিনা। ৮ ই আগস্ট ক্ষমতা হাতে নিয়েছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। সেই দিনটিকে বাংলাদেশ দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এদিকে জুলাই আগস্ট মাসজুড়ে যে জামাত এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির তান্ডব চলবে, এটা আগেই বোঝা গিয়েছিল। তবে বুধবার দেখা গেল শুধু আওয়ামী লীগ নয়, সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের মুখে পড়তে হল জামাত এবং এনসিপি বাহিনীকে। যে ছাত্র নেতারা ভারত দখলের হুমকি দিয়েছিল, বুধবার তাদের দেখা গেল সেনার বাঙ্কারে লুকচ্ছে তারা। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই তাদের এই হাল। সাধারণ মানুষের রোষের মুখে পড়ছে তারা। মহম্মদ ইউনূসকে কি এই ভাবেই দেশ ছাড়তে হবে? উঠছে প্রশ্ন।












Discussion about this post