গোপালগঞ্জে গুলি চালানোর ঘটনায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে লজ্জা মহম্মদ ইউনূস। সেনাবাহিনী বিরুদ্ধে জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে চিঠি গিয়েছে। কেন গুলিবিদ্ধ চারজনের ময়না তদন্ত হল না, প্রশ্ন উঠছে।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বর্ষপূর্তিতে গোপালগঞ্জে কর্মসূচি রেখেছিল জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা। বুধবার সেই কর্মসূচি করতে গিয়ে এনসিপির আস্ফালনে বলি হল ৪টে প্রাণ। আহত হয়েছে বহু মানুষ। অস্ত্র হাতে নিয়ে সাধারণ মানুষ ও বিক্ষোভকারীদের উপর হামলা চালিয়েছে সেনাবাহিনী, সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। শান্তির নোবেল জয়ী মহম্মদ ইউনূসের শাসনামলে সেনাবাহিনী সাধারণ মানুষের উপর সরাসরি গুলি চালিয়েছে। এমন খবর খবর আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে উঠে এসেছে। আর সেই ছবি পুলিশ কন্ট্রোল রুমে জুস খেতে খেতে মনিটরিং করছেন আসিফ মোহাম্মদ সজীব ভূঁইয়া। সেই ছবি নিজেই ফেসবুকে দিয়েছেন। প্রশ্ন উঠছে, গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচি সফল করতে সরকার এত কেন উদ্যত হল? আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীকে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়ে কারা তাদের বিতর্কের মধ্যে ফেলে দিল? তারা কি মানবতা বিরোধী কাজ করলেন না? গত বছর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সেনাবাহিনী রাস্তায় নামলেও প্রাণঘাতী অস্ত্র হাতে তুলে নেয়নি। তাদের গুলি চালানোর বিষয়ে হুশিয়ারি করা হয়েছে বলে জাতিসংঘে মানবধিকার বিষয়ক কমিশনার ভলকর তুর্ক কয়েক মাস আগেই প্রকাশ করে দিয়েছিলেন। জাতিসংঘ শান্তি মিশন থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দেখানো হয়েছিল সেনাবাহিনীকে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সাধারণ মানুষের উপর গুলি চালানোর কালচার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেই। তাহলে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কে গুলি চালাতে নির্দেশ দিল গোপালগঞ্জে? মহম্মদ ইউনূস নাকি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নাকি আসিফ মোহাম্মদ সজীব ভূঁইয়া? সেই নির্দেশদাতার কি বিচার হবে না? যদিও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা গোয়েন্দা ব্যর্থতার কথা বলেছেন। কিন্তু আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া প্রতিপক্ষকে শেষ করে দেওয়ার যুদ্ধে মোটামুটি সফল বলে দাবি করেছেন। ঘটনা ঘটার একদিন পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সহিংসতার সময় আত্ম রক্ষার জন্য বল প্রয়োগ করতে বাধ্য হয়েছে। তবে সেই বল প্রয়োগ কি ধরনের, তার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এমনকি ৪ জন মানুষের কিভাবে মৃত্যু হল, সেই বিবৃতিতে কিছুই বলা হয়নি। ঠিক যেমনটা মৃত্যুর খবর চেপে গিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ১৬ ই জুলাইয়ের ঘটনার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, বুধবার গোপালগঞ্জে সংঘঠিত সহিংসতা সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য। যদিও বিবৃতিতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মারা যাওয়ার বিষয়ে কোনও শব্দ লেখা হয়নি। বরং বলা হচ্ছে, তার শান্তিপূর্ণভাবে সভা করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের বাধা দেওয়া হয়েছে। এনসিপি নেতাদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। সেটা অত্যন্ত লজ্জাজনক। এদিকে ১৫ই জুলাই রাত থেকেই ফেসবুক বঙ্গবন্ধুর সমাধি ভাঙার উস্কানি দিতে থাকে। তাহলে প্রশ্ন, কেন প্রশাসন আটকাল না? কেন আগেভাগে ব্যবস্থা নেওয়া হলো না? এর পরও প্রশাসন কি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ বলবে? ঠিক একইভাবে ফেসবুকে উস্কানি মূলক পোস্ট করে বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। এদিকে আলজাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সাইয়ের প্রশ্ন করেছেন, প্রধান উপদেষ্টা আপনাকে একটি বিষয় পরিষ্কার করে দিতে হবে, আপনি কি তরুণ নাগরিকদের কারোর শেষ বিশ্রামের স্থান ভাঙতে বা পুড়িয়ে ফেলতে সমর্থন করেন? আর সেই ব্যক্তিটি আসলে সেই নির্দিষ্ট এলাকা গোপালগঞ্জ আর মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। শেখ মুজিবুর রহমান যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন, সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই।
এদিকে বুধবার দেখা গেল, সেনাবাহিনীর বাঙ্কারে লুকোছেন এনসিপি নেতারা। অর্থাৎ যারা যে সাধারণ মানুষের মন থেকে মুছে যাচ্ছেন, সেটা পরিষ্কার। এরইমধ্যে গুলি করা ঘটনাটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। এমনকি বলা হচ্ছে, সরকার এই মৃত্যুর দায় এড়াতে পারে না। এমনকি আসক বলেছে, না পেলে জনগণের বিভ্রান্তি, ভয় এবং প্রশাসনের প্রতি অনাস্থা আরও বাড়বে। একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের দাবি জানিয়েছেন ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বেরগান। এমনকি গুলিতে নিহত চারজন ব্যক্তির সৎকার হয়েছে ময়নাতদন্ত ছাড়ায়। এমনকি এই বিষয়ে বাংলাদেশের সব থেকে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির কোনও প্রশ্নই করেনি সরকারকে। এদিকে গণহত্যার অভিযোগ তুলে জাতিসংঘের মহাসচিব এর কাছে চিঠি দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠন। সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলে দিয়েছে তারা। এখন দেখার, এরপর মহম্মদ ইউনূসের সরকার কিভাবে সামাল দেয়।












Discussion about this post