একদিকে সম্মুখ সমরে মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া। অন্যদিকে সারজিস, হাসনাতদের শোকজের নোটিস। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত করে তুলছে বাংলাদেশের।
জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না পাঁচ ছাত্রনেতা তথা উপদেষ্টা। আর সেই কারণেই তাদের কারণ দর্শানোর নোটিস ধরানো হয়েছে বলে খবর। সূত্রের খবর, তারা সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন কক্সবাজারে। তিনি বিষয়টি সামনে আসতে তারা গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। পরে এনসিপির দলীয় ফোরাম থেকে যারা কক্সবাজার গিয়েছিলেন, তাদের শোকোজ করা হয়েছে।
শোকোজ চিঠিতে উল্লেখ, ৫ই অগাষ্ট জুলাই বর্ষপূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠানে কেন তারা ব্যক্তিগত কারণে অনুপস্থিত ছিলেন, এবং যেন কক্সবাজার গিয়েছিলেন, কেন সেই বিষয়ে রাজনৈতিক পর্ষদ কে কোনও তথ্য বা ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়নি। জানা যাচ্ছে, যাদের শোকজ করা হয়েছে, তারা হলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলম, তাসনিম জারা, নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী এবং খালেদ সাইফুল্লাহ। অনেকে বলছেন, এই কারণ দর্শানোর নোটিস হল লোক দেখানো।
দলীয় ফোরামকে না জানিয়ে তারা চলে যাবে, এটা কি হতে পারে? কারণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দাবিদার তারা। যেখানে এত বড় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান হচ্ছে, এখানে তারা অনুপস্থিত থাকা মানে এর থেকেও গুরুত্বপূর্ণ কোনও কাজে তারা কক্সবাজার উপস্থিত হয়েছিলেন, এটা স্পষ্ট।
এদিকে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল বলছে, জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি নেতাদের দুর্নীতি, লুটপাট বা গণ অভ্যুত্থানের আগে কোনও প্লট তৈরি করা হয়েছে কিনা, সেটা নিয়ে খুব দ্রুতই জানা যাবে। তার কারণ আসিফ মোহাম্মদ সজীব ভূঁইয়া এবং মাহফুজ আলম তার সাম্প্রতিক সময়ে যে অবস্থান নিয়েছেন, তারপরে অনেক কিছুই পরিস্কার হয়ে যায়।
কিছুদিন আগেই মাহফুজ আলম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন, ১/১১ এর পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। পরে সমালোচনা হতে সেটা এডিট করেন এবং ডিলিট করে দেন পরবর্তী ক্ষেত্রে। সেটিকে আবার কেন্দ্র করে আসিফ মোহাম্মদ সজীব ভূঁইয়া তার ফেসবুকে লেখেন, আগে সরকারের ভয়ে জনগণ পোস্ট ডিলিট করত। এখন জনগণের ভয়ে সরকার পোস্ট ডিলিট করছে। সেটি যে তিনি মাহফুজ আলমের ফেসবুক পোস্টকে ইঙ্গিত করে লিখেছেন, সেটা পরিষ্কার। অর্থাৎ নিজেদের মধ্যে কোন্দল শুরু হয়ে গিয়েছে।
এমনকি জাতীয় নাগরিক পার্টি যখন আত্মপ্রকাশ করছিল, তখন দলের আহবায়ক কে হবেন সেটা নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। একদম চাইছিলেন মাহফুজ আলম আহবায়ক হন। অন্যদিকে একদল চাইছিলেন, নাহিদ ইসলাম। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দলের মধ্যে এরকম দ্বন্দ্ব স্বাভাবিক। কিন্তু আত্মপ্রকাশ এর আগে থেকেই যে সমস্ত গুরুতর অভিযোগ উঠছিল, সেটা বোধহয় কাম্য নয়। বাংলাদেশকে তারাই সোনার বাংলা গড়ে তুলবে বলে স্বপ্ন দেখিয়েছিল বাংলাদেশবাসীকে। কিন্তু এখন তারাই নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করছে। এখন দেখার, নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব কাটিয়ে দেশের কাজ করতে পারেন কিনা!












Discussion about this post