আসন্ন ১৫ই অগাষ্ট। এই দিনই ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে হত্যা করা হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ১৯৭৫ সালের পর থেকে প্রত্যেক বছর এই দিনটিতে বঙ্গবন্ধু প্রেমী তথা গোটা দেশবাসী শ্রদ্ধা জানায় মুজিবর রহমানকে। বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে। এমনকি ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন বহু মানুষ। কিন্তু এই বছর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, ১৫ই আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ এ কেউ কোন কর্মসূচি পালন করলে বা বঙ্গবন্ধুর হত্যা দিবস হিসেবে দেশের কোনও প্রান্তে কোনও কর্মসূচি করা হলে তা বাধা দেওয়া হবে। তিনি ১০ই অগাষ্ট রবিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এই কথা জানান। তিনি বলেন, ১৫ই অগাষ্ট নাকি অগাস্টের অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক। তবে কি শেখ হাসিনাকে ভয় পাচ্ছে ইউনূসের সরকার? যদি ফের এই সুযোগে আওয়ামী লীগ সক্রিয় হয়ে উঠে বাংলাদেশে?
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের কথা সরকারের তরফ থেকে আশাব্যঞ্জক। তার কারণ, যেভাবে ইউনূসের সরকার মুক্তিযুদ্ধকে মুছে ফেলতে চাইছে, তাতে বঙ্গবন্ধুর হত্যা দিবসের দিন সরকারের তরফে কোনও কর্মসূচি পালন করা হবে না। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দেশের অন্যান্য মানুষ যদি সেদিন কোনও কর্মসূচি পালন করে তবে আইনানুপ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা সচিব সফিকুল আলম। কিন্তু কেন? আওয়ামী লীগের ব্যানারে যদি কেউ কোনও কর্মসূচি পালন করতে যায়, তবে সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে পারে সরকার। কারণ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। কিন্তু সাধারণ মানুষ যদি বঙ্গবন্ধুর ছবিকে সামনে রেখে কোনও কর্মসূচি পালন করে, তবে সরকার বাধা দেওয়ার কে? এটা কি মৌলিক অধিকার হনন নয়?
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন এই বাংলাদেশে আদালত কতৃক প্রমাণিত এবং দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের ছবি যখন প্রদর্শন করা হয় ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের মত এলাকায়, যখন জামাত শিবির এই ছবি ব্যবহার করে, তখন কেন শফিকুল আলোমরা প্রতিবাদ জানান না? তবে কি সেগুলিকে সরকার উচ্ছ্বাসের সঙ্গে উদযাপন করে?
মানবধিকার কর্মী সিনিয়র আইনজীবী মুক্তিযোদ্ধা জেদাই খান পান্না এবং ড. কামাল হোসেন , ১৫ই অগাষ্ট তারা মঞ্চ ৭১ এর পক্ষ থেকে একটি মিছিল করে ধানমন্ডির ৩২ পর্যন্ত যাবেন। এমন একটি খবর চাউর হয়েছে।যদিও মঞ্চ ৭১ এর তরফে বলা হয়েছে, এমন কোনও কর্মসূচি নেওয়া হয়নি। এটা কেবলই গুঞ্জন। প্রশ্ন, যদি নেওয়া হয়েও থাকে তবে কেন সরকারের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হবে? একজন দেশের নাগরিক হিসাবে অধিকার লঙ্ঘন নয় কি? এমন নানা প্রশ্ন উঠে আসছে। এর পাশাপাশি এটাও উঠে আসছে, তবে কি মহম্মদ ইউনূসের সরকার হাসিনাকে ভয় পাচ্ছে? যদি এই সুযোগে ফের সক্রিয় হয়ে উঠে আওয়ামীলীগ?












Discussion about this post