বঙ্গবন্ধুর হত্যা দিবসের দিন ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে দেখা গেল চূড়ান্ত মব কালচার। আর সবটাই নাকি হয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের নির্দেশে। এমন ভয়ংকর কথা বলছেন ধানমন্ডি থানার ওসি। এইভাবে কি জনগণের ওপর অত্যাচার করা যায়? কেন নিশ্চুপ মহম্মদ ইউনূস এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার?
১৫ই অগাষ্ট বাংলাদেশের জনগণের কাছে শোকের দিন। ওই দিনই ১৯৭৫ সালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ তার পরিবারকে হত্যা করা হয়েছিল। তারপর থেকেই ওই দিন শোকের দিন হিসাবে পালিত হয় বাংলাদেশে। এমনকি ওই বাড়িতে শ্রদ্ধা জানাতে চান বাংলাদেশের মানুষ। কিন্তু সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, এইদিন ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে কেউ শ্রদ্ধা জানাতে গেলে তাদের বিরুদ্ধে একশন নেওয়া হবে। আর হলও তাই। শুধু আওয়ামীলীগ সমর্থক নয়, সাধারণ মানুষ যারা বঙ্গবন্ধু প্রেমি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। এমনকি এই অভিযোগের বিএনপির দিকে। তাদের ডিজে বাজিয়ে উল্লাস করতেও দেখা গিয়েছে।
এছাড়াও বহু মানুষকে হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তাদের মধ্যে একজন রিক্সা চালকও ছিলেন। যিনি একটি ফুলের তোড়া নিয়ে আসেন। সেটার উপর লেখা ছিল, জাতীয় শোক দিবস, ১৫ই অগাষ্ট। এমনকি ওই রিকশাচালক জানিয়েছেন, তিনি খুব কষ্টের দিন গুজরান করেন। তারপরও বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে ৪০০ টাকা দিয়ে সেই ফুলের তোরা তিনি কিনেছেন। কিন্তু তারপরও তার থেকে ফুলে তোরা কেড়ে নিয়ে পা দিয়ে পিষে দেওয়া হয়েছে। এমনকি বহু মানুষের ওপরই মব করা হয়েছে। যারা কেউই আওয়ামী লীগ সমর্থক নন। তারা মুক্তিযুদ্ধকে সম্মান জানান এবং বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসেন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেটা আগামী বাংলাদেশের জন্য খুব একটা মঙ্গলজনক নয়। এমনকি প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, বিএনপি কি নিশ্চিত? যেকোনো বাধা ছাড়াই আগামী নির্বাচন সম্পন্ন হবে? পরিসংখ্যান বলছে, এখনো পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ মানুষ ভোট দিতে যায় না, বা ভোট দিতে চায় না। এই সংখ্যাটার মধ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগ এবং দেশের সচেতন নাগরিক। এমনকি রাজনৈতিক ওয়াকিবহুল মহল বলছে, বাকি ৩৫ শতাংশের মধ্যে দেশের এতগুলো রাজনৈতিক দলগুলির ভোট ভাগাভাগি হয়ে যায়। তার মধ্যে ৫ থেকে ৭ শতাংশ আওয়ামী লীগের ভোট রয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের যা পরিস্থিতি, তাতে কোনও রাজনৈতিক দলই সুবিধার মধ্যে নেই। ফলে কেন সরকার এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি আওয়ামী লীগকে কুলশিত করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলছে। এমনকি ১৫ই অগাষ্ট কে তারা মিলিয়ে ফেলল। ফলে ৬৫ শতাংশ মানুষ এই সমস্ত কিছু দেখছে এবং তারা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, আদেও ভোট দেবে কিনা।
এদিকে ১৫ই অগাষ্ট যা যা ঘটল, তাতে ধানমন্ডি থানার ওসি বলছেন, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব যা যা বলছে, সেই নির্দেশনা মেনেই তারা কাজ করছে। প্রশ্ন উঠছে, সরকারের প্রেস সচিব আদৌ প্রশাসনিক তরে কাউকে নির্দেশ দিতে পারে? তাহলে কি গোটা দেশের মানুষ ধরে নেবে? যে সরকারটা চালাচ্ছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শাফিকুল আলম?
এমনকি ১৪ই অগাষ্ট থেকে ধানমন্ডির 32 নম্বর বাড়ির আশেপাশে দেখা গিয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সেখানে রাখা ছিল, সাঁজোয়া যান। প্রশ্ন এখানেও, বঙ্গবন্ধুর হত্যা দিবসের দিন কেউ যদি শ্রদ্ধা জানাতে যায়, তবে সাঁজোয়া যান রাখার প্রয়োজন কি? আওয়ামী লীগ বা বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে কেউ শ্রদ্ধা জানালে, সেটা কি যুদ্ধ হিসাবে বিবেচনা করছে সরকার? তবে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষের এই সরকারের সমর্থন নয়। তারা সবকিছু দেখছে এবং সবটা প্রভাব পড়বে ভোট ব্যাংকের ওপর। বলছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post