ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হন স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা। ৫ আগস্টের পর দেশে ছেড়ে পালিয়েছেন তার বাধ্যগত আওয়ামী লীগ এবং দলের মদত দাতা নেতাকর্মী ও সংসদ সদস্যরা। এ ছাড়া পালিয়েছেন তাকে বিভিন্ন কাজে অনৈতিক সহযোগিতা করা আমলা, অবসরপ্রাপ্ত আমলা, ব্যবসায়ীরাও। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর ৮ আগস্ট শপথ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এর প্রধানের দায়িত্বে আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বর্তমানে বিভিন্ন কমিশন গঠন করে তারা দেশ সংস্কারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নির্বাচনি পরিবেশ সৃষ্টিতে যৌক্তিক সময় দিতে রাজি আছেন বলে জানিয়েছেন দেশের উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক দলগুলো। যদিও সেই নির্বাচনে শেখ হাসিনা বা তার নেতৃত্বাধীন দল আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করবে কি না, বা করতে পারবে কি না—তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। চলছে আলোচনা-সমালোচনাও। আর এর মধ্যেই একটি প্রশ্ন ঘুরে ফিলে উঠে আসছে যে দেশের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি ঠিক করতে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন কি হবে। তবে ইউনূসের আমলে বাংলাদেশে যে বিপর্যয় শুরু হয়েছে তাতে অনেকেই মনে করছেন যে সাধারণ মানুষ শেখ হাসিনাকে গদিচ্যুত করতে আন্দোলোন করেছিল, তারাই আবার আন্দোলোন করবে শেখ হাসিনাকে তার সিংহাসনটি ফিরিয়ে দিতে। কারণ এই এক বছরে বাংলাদেশের শুধু ব্যবসা বানিজ্যই বন্ধ হয়ে যায়নি, সমস্ত জিনিসের দাম দ্বিগুন হয়ে গেছে। বেড়েছে চাঁদাবাজি জোর জুলুম খুন ধর্ষণ। ফলে এই সরকারের বিরুদ্ধে বেড়েছে জনরোষ। এমনকি যারা হাসিনার পতনে বাইরে থেকে আওয়াজ উঠিয়েছিল তারাও বিরক্ত এই সরকারের উপর।
১৭ কোটির বেশি জনসংখ্যা এবং দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশের পুনর্গঠনের দায়িত্ব পড়েছে ছাত্রনেতা এবং সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর, যারা হাসিনাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছেন। এখন তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি চাঁদাবাজি মব সৃষ্টি করে মানুষ খুন এবং সংখ্যালঘুদের জমি জায়গা দখলের অভিযোগ উঠছে ফলে সংস্কার নামের ভাওতাটি ধরে ফেলেছে জনগন।যার বলেছিল সংস্কারের উদ্দেশ্য দেশকে একটি সুগঠিত জাতিতে পরিনত করা, তারাই এখন বলছে। আমরা জাতি হিসেবে পরাজিত। অন্যদিকে হাসিনার প্রত্যার্তন দ্রুত করতে হলে, দলকে এবং দলের সদস্যদের মনোবল ধরে রাখতে হবে।আর দলের নিজ সদস্যদের মধ্যেই সমর্থন ধরে রাখতে পারাটা এখন আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর দলের প্রায় সব শীর্ষস্থানীয় নেতা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। ফলে সাধারণ সদস্যদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’ এবং ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলটিকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন অনেকেই।অনেকেই আবার বলছেন দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার যে দলে এবং ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন এবং বৃহত্তম রাজনৈতিক দলকে কীভাবে নিষিদ্ধ করবেন? এটি আইনিভাবে সম্ভব নয়।’
এমনকি সংস্কারপন্থিরা এবং বিরোধী দলগুলোও নিশ্চিত নয়, একসময় ব্যাপক তৃণমূল সমর্থন পাওয়া একটি দলকে নিষিদ্ধ করে জাতীয় স্বার্থের কোনো লাভ হবে কিনা। বর্তমানে মূল লক্ষ্য গত কয়েক দশক ধরে চলে আসা প্রবল রাজনৈতিক প্রতিশোধের এই চক্র থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করা।












Discussion about this post