জাতীয় নাগরিক পার্টির ভাঙনের শুরু। এই গুঞ্জন অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে। কিন্তু এখন দেখা গেল, সেই গুঞ্জন সত্যি হচ্ছে। মধ্যরাতে এনসিপি নেতা মাহীন সরকারকে বহিষ্কার করল দল। কিন্তু হঠাৎ মধ্যরাতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানালো হল কেন? তবে কি ভেঙে পড়ছে এনসিপি? চরম খেলা শুরু বাংলাদেশে।
সোমবার দুপুরে ডিইউ ফার্স্ট নামে একটি স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে ডাকসুর জিএস পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করেন মাহিন। রাত ১১টার দিকে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহউদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়ে দেওয়া হয়, মাহিন সরকার দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে তাকে পদ ও দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে জানানো হয়।
এদিকে মাহিন সরকার জানিয়েছেন, বহিষ্কারের আগে তাকে কোনরকম শোকজ করা হয়নি। সরাসরি তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি দলীয় শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চেয়েছেন। তিনি নমিনেশন তুলেছেন। জিএস পদে তিনি লড়বেন। অন্য একটা গ্রুপের প্রতিনিধিত্ব করবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা মাহিন সরকার। এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে এনসিপি।
এখান থেকেই অনেকে বলছেন, এনসিপির নেতৃত্বের অভাব। সেই কারণেই তাদের ভাঙ্গন প্রকাশ্যে চলে এল। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার জন্য, সাধারণ জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে হয়। কিন্তু সেটা হওয়ার আগেই তাদের ভাঙ্গন শুরু হয়ে গেল। কেউ কেউ বলেন, এন সি পির রাজনৈতিক আদর্শতা হল আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করা। এটা ছাড়া তাদের কোনও রাজনৈতিক আদর্শতা নেই। একটি রাজনৈতিক দলের আদর্শতা যদি অন্য একটি রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা করা হয়ে থাকে, তবে তাদের সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াটা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জ। মত ওয়াকিবহাল মহলের।












Discussion about this post