ফের কি পূর্ব পাকিস্তানের দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ? গোপনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্তেই কি ফিরছে পূর্ব পাকিস্তান? কি হবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ?
পাকিস্তান ঘিরে মাতামাতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে বাংলাদেশে। এমনকি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে গভীর হচ্ছে সম্পর্ক বর্তমান সরকারের। আর এগুলি কোনও অমূলক খবর নয়। পাকিস্তানের অন্যতম একটি গণমাধ্যম দ্যা ক্যাচলাইনে প্রকাশিত হয়েছে একটি প্রতিবেদন। সাম্প্রদায়িকতা পূর্ণ এই লেখাটিকে জামাতের সাবেক আমির সাবেক সেনাকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত আব্দুল্লাহিল আজমিকে সেনাবাহিনীতে পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছে। শুধু মাত্র পুনর্বাসন নয়, সেনাপ্রধান করার দাবি জানানো হয়েছে। যদি তাকে সেটা করা না হয়, তবে যেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কিংবা জাতীয় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার পদ দেওয়া হয়। অর্থাৎ পাকিস্তান ধীরে ধীরে বাংলাদেশে ঢুকতে চাইছে। খানিকটা ঢুকে গিয়েছে। এবং সেটা অনুমতি দিচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
২০২৪ সালের ৫ ই আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর স্থানের একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দাবি করেছিলেন, পাকিস্তানের অঙ্গিভূত হবে। পাকিস্তানের মধ্যেই ঢুকবে বাংলাদেশ। এমনকি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাকদার বাংলাদেশকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করলেন, পাকিস্তান তার হারিয়ে যাওয়া ভাইকে খুঁজে পেয়েছে। আব্দুল্লাহিল আমন আজমীর বাংলাদেশের কয়েক সাবেক সেনা কর্তাকে নিয়ে ইসলামিক রেভোলেশনারি আর্মির তৈরি করা এটি পরিকল্পনা করছে এবং তৎপর রয়েছে।
এমনকি ১৯৭৩ সালে সৌদি আরবে জামাতের সঙ্গে আমির আজমীর অবস্থান করছিলেন, তখন পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি তৈরি করেছিলেন। এবং তিনি মন্তব্য করেছিলেন, পাকিস্তান ভাঙলেও দুই পাকিস্তান এক হবে। বাংলাদেশ পাকিস্তানের মধ্যে যাবে। অনেকে বলছে সেই ষড়যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে চলেছে। এখনো সেটি অব্যাহত রয়েছে।
এমনকি একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৫৪ বছর ধরে দেশপ্রেমী পাকিস্তানিরা খুবই যন্ত্রণা সহ্য করে আসছে। যখন ১৯৭১ সালে ১৬ ই ডিসেম্বর যখন পূর্ব পাকিস্তান বাংলাদেশে রূপান্তরিত হল তখন দেশদ্রোহী শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনের অধীনে আসে বাংলাদেশ। যিনি তার ভারতীয় প্রভুদের নির্দেশে মুষ্টিমেয় দেশপ্রেমী পাকিস্তানিদের পাশে রেখে, এই অঞ্চল থেকে হিন্দু আধিপত্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এমনকি এই আব্দুল্লাহিল আমন আজমীরকে পাকিস্তানের বীর ও জামাতের নেতা হিসাবে গন্য করা হয়। বলা হয় জেনারেল আজমীর তার বাবার মতই পাকিস্তানের একজন কট্টর দেশপ্রেমী। তিনি একাধিক বার প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান মানেন না, জাতীয় পতাকা মানেন না। জাতীয় সংগীত মানেন না। এমনকি জাতীয় উৎসব তিনি স্বীকার করেন না।
এখন প্রশ্ন, দেশের অন্দরে এইভাবে পাকিস্তান প্রীতি এবং পাকিস্তান নিয়ে এত মন্তব্য, সবটাই কি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সম্মতিতে চলছে? সেই কারণেই কি জামাত এর কাছের মহম্মদ ইউনূসের? এদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেবে সরকার? ওয়াকিবহাল মহল বলছে, যদি সরকার ব্যবস্থা না নেয়, তবে বুঝতে হবে এই সরকারের সম্মতিতে পাকিস্তানের দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ।












Discussion about this post