বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম এক শক্তিশালী উপদেষ্টা আসিফ মোহাম্মদ সজীব ভূঁইয়াকে নিয়ে নানা মন্তব্য উঠে আসছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠে আসছে। তিনি উপদেষ্টা পদে রয়েছেন। যার সম্মান মন্ত্রী পদমর্যাদার। তারপরও তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ। তার মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠে এসেছে। এলাকায় তার বাবার দাপটের অভিযোগ উঠে এসেছে। এবার উঠে এল, সরকারের একটি প্রকল্প থেকে তার ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে একেবারে ১২০০ কোটি টাকা বাড়িয়ে নেওয়া হল তার একার সিদ্ধান্তে। তার উপদেষ্টা পরিষদের সবাই যখন বিরোধিতা করেছেন, তার একার সিদ্ধান্তে ১২০০ কোটি টাকা বাড়ি নেওয়া হল। একনেকের সভাতে এটি পাশ হয়েছে। লুটপাট করা অর্থ ভাগে অশান্তি উপদেষ্টাদের।
জানা যায়, আওয়ামী লীগের সময়ে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নামে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটা করে স্টেডিয়াম করা হবে শেখ রসেলের নামে। শুরুতে এর ব্যয় ধরা হয়, কাজ শেষে এর ব্যয় দাঁড়িয়েছিল ৫১ লক্ষ টাকা। তা এখন বাড়তে বাড়তে সেই ৫১ লক্ষ টাকার খরচ দাঁড়াচ্ছে ১৪ কোটি টাকার বেশি। তাই বলে ৫১ লক্ষ টাকা থেকে একেবারে ১৪ কোটি টাকাতে দাড়িয়েছে। আওয়ামী লীগও বাড়িয়েছে।
২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১৩১টি মিনি স্টেডিয়ামের জন্য খরচ হয়েছিল ৬৬ কোটি ৭৮ লক্ষ ৬০ হাজার।
এক একটির জন্য ব্যয় দাঁড়িয়েছিল ৫১ লক্ষ টাকা।
২০১৯ এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায় শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়। তখন আওয়ামী লীগ প্রতিটির ব্যয় ধরেছিল ৮ কোটি ৮৬ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। ২০১৯ থেকে ২০২১ সালে ২ বছরের মধ্যে একেবারে ৮ কোটি ৮৬ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা হওয়ার তো কথা নয়। সেই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এই সরকার খুব সরব হয়। ৮০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির নাকি খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু তার সরকারের মধ্যে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা কী করছেন? যে কথিত গণ-অভ্যুত্থান বা গণবিপ্লব হয়েছে, একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য এটিই কি তার নমুনা? এটাই এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এইভাবে চলতে থাকলে ইউনুসকে জবাব দিতে হবে বাংলাদেশের জনগণের কাছে।












Discussion about this post