এই মুহূর্তে বাংলাদেশের যা পরিস্থিতি তাতে যে কোনও মুহূর্তে বড় কিছু ঘটতে পারে। যে কোনও মুহূর্তে একশনে নামবে সেনাবাহিনী। সেনা সদস্যদের মনবল ফেরাতে এবং আস্থা ফেরাতে মরিয়া সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার।
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এছাড়াও দেশের যে কোনও কঠিন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে থাকে। সেটা শান্তি মিশন হোক বা প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবিলা…পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে থাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এই মুহূর্তে আসন্ন বাংলাদেশে নির্বাচন। যাকে সামনে রেখে সমস্ত ধরণের প্রস্তুতি নিয়েছে সেনাবাহিনী। এমনটাই জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। মঙ্গলবার ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে অফিসার্স অ্যাড্রেস অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান বলেন, যারা আমাদের কটুক্তি করছেন তাদের কথা শুনে অখুশি হওয়ার কিছু নেই। তারা আমাদের সন্তানদের বয়সী। ওরা বড় হলে ওদের ভুল বুঝতে পারবে। তখন ওরা লজ্জিত হবে। তবে সেনা সদস্য এবং সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে কটুক্তি নিয়ে কিছুটা হুশিয়ারি সুরে বলেন, এগুলো লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি সেনা সদস্যদের ধৈর্য ধরার কথা বলেন।
সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে দেশটি অস্থিতিশীল করতে চায় একশ্রেণীর মানুষ। এবং সেটা নিজেদের স্বার্থে। তাই সেগুলি থেকে নজর ঘুরিয়ে নিজেদের পেশাদারিত্বের দিকে নজর দেওয়া উচিত বলে মনে করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার।
দেশ এখন নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, নির্বাচনের জন্য সেনাবাহিনীর সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। একটা নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু এবং অবাধ হয়, তাই সবরকম সহযোগিতা করবে সেনাবাহিনী।
দীর্ঘদিন ধরেই সেনাবাহিনী মাঠে রয়েছে। এই কথা উল্লেখ করে জেনারেল ওয়াকার বলেন, আগে কখনোই দীর্ঘ সময় ধরে সেনাবাহিনীকে মাঠে থাকতে হয়নি। তাই প্রত্যেকের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখা প্রয়োজন। দূরত্ব থাকলে সেটা দূর করতে হবে। এমনকি তিনি বলেন, একটি সেনা কর্তার সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা নিয়ে তদন্ত চলছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্যি হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান। সেনা সদস্যরা দেশের হয়ে কাজ করবে। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে তারা কাজ করতে পারে না। আর এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তাধীন। তিনি বলেন, সেই অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে অবশ্যই শাস্তি দেওয়া হবে। তবে সেটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রায়ালের মাধ্যমে নয়। একজন সেনা কর্তাকে গড়ে তুলতে রাষ্ট্রের বহু অর্থ খরচ হয়। এটা উল্লেখ করে এদিন সেনাপ্রধান বলেন, কেউ যাতে অপরাধী জড়াতে না পারে, সেদিকে নজর রাখতে হবে।
এছাড়াও সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কে নিয়ে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেটা নিয়েও উত্তর দেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, এসব অপপ্রচার দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। নিজেদের কাজ করুন এবং নিজেদের কাজের কেউ যাতে প্রশ্ন তুলতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
অর্থাৎ সেনাপ্রধান এতদিন ধরে সবকিছু দেখেছেন এবং হিসেব রেখেছেন। কিন্তু কখনও সেভাবে কারও বিরুদ্ধে একশন নেননি। কারণ তিনি ভালো করেই জানেন, দেশ কোন দিকে যাচ্ছে। মত ওয়াকিবহাল মহলের।












Discussion about this post