প্রায় ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশ শাসন করেছেন শেখ হাসিনা। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ই অগাষ্ট ছাত্রদের বৈষম্য বিরোধী কোটা আন্দোলনের জেরে পতন ঘটে হাসিনার। এদিকে অভিযোগ, সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষমতা নাকি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেড়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন আইনের জেরে ১৬ বছর পর ক্ষমতা বাড়ছে সেনাবাহিনীর। এমনকি নির্বাচনে পূর্ণ ক্ষমতায় সেনা সদস্যরা।
জানা গিয়েছে, ২০০১ সালে সপ্তম জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে একটি পুলিশ কর্মকর্তার মতই নির্বাচনী অপরাধে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারবেন সেনা, নৌ বাহিনী বা বিমান বাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু ২০০৮ সালে নবম সংসদ জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সরকার ওই সংশোধনী অধ্যাদেশে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা থেকে সশস্ত্র বাহিনীকে বাদ দেয়। এর ফলে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশ, পুলিস র্যাব, ব্যাটেলিয়নের যা থাকে, সেটা সশস্ত্র বাহিনীর থাকে না।
২০২৫ সালের ১১ই অগাষ্ট নির্বাচন কমিশন এবং সংসদের জন্য যে প্রস্তাব অনুমোদন করে, তাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় সশস্ত্র বাহিনীকে ফের অন্তর্ভুক্তি করার কথা রয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থা এবং সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও রাজনৈতিক দলগুলির দাবি অনুসারে এই প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে বাস্তবায়নের পথে। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুল রহমানেল মাসুদ জানান, নির্বাচনে সেনাবাহিনী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসাবে দায়িত্ব পালন করলে সেটা সুষ্ঠ নির্বাচন হতে সাহায্য করবে। তাই গণ প্রতিনিধিত্ব আদেশ আর পি ও ১৯৭২ সংশোধন করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় সেনাবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে নির্বাচনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীকে কারও নির্দেশের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে না।
এদিকে মঙ্গলবার ঢাকার সেনানিবাসে অফিসার্স এড্রেস অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান বলেন, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি সমস্ত সেনা সদস্যকে আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের কথা বলেন। পাশাপাশি সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচনের জন্য তারা যে প্রস্তুত, সেটাও জানান তিনি। নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. আবদুল আলীম জানান, দেশের যে সমস্ত নির্বাচন সুষ্ঠভাবে হয়েছে, তার পিছনে সশস্ত্র সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল। তবে বেশ কিছু নির্বাচনে অংশ নেয়নি সেনাবাহিনী। এদিকে এবার নির্বাচন হলে সেনাবাহিনী সক্রিয়ভাবে থাকবে বলে জানান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান।
অনেকেই মনে করেন, দেশের সেনাবাহিনী যদি নির্বাচনে অংশ নেয়, তবে সেই নির্বাচন সুষ্ঠভাবে হবে। ১৬ বছর ধরে সেনা সদস্যরা তেমন কোনও ক্ষমতা পায়নি বলে অভিযোগ। কিন্তু শেষমেষ ক্ষমতা পেল সেনাবাহিনী। তবে সেনাবাহিনী তৎপরতায় সুষ্ঠ এবং অবাধ নির্বাচন হলে ফলাফল খানিকটা অবাক করবে দেশের জনগণকে। বলছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post