আগে তো সেনাপ্রধান নির্বাচনের মাধ্যমে জনগনের দ্বারা নির্বাচিত সরকারের জন্য বার বার হুশিয়ারী দিয়েছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন ভাবে সেনাপ্রধানকে থামিয়ে রাখা হয়েছিল। এখন শুধু এই সরকারের উপর সেনাপ্রধান একা আস্থা হারিয়েছন তা নয়। আস্থা হারিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও।তারা যে আর সময় দিতে চাইছে না ইউনূস সরকারকে,তা নির্বাচন নিয়ে তাদের ব্যস্ততা দেখেই বোঝা যাচ্ছে। তারা দেশে তো বৈঠক এবং নজরদারী চালাচ্ছেন, সেই সঙ্গে দল ক্ষমতায় আসলে প্রধানমন্ত্রী হতে পারে এমন বিএনপির নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করতে লন্ডনেও ছুটছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আমেরিকান রাষ্ট্রদুত। ফলে বোঝা যাচ্ছে শুধু সেনাপ্রধান একা নয়, ইউনূসে আস্থা হারিয়েছে আমেরিকারও। সেনাপ্রধানের আস্থা না থাকার কারণ হল, ইউনূসের রাজত্বে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার,চাঁদাবাজি লুঠ খুন ধর্ষণ সবকিছুই ছাপিয়ে গেছে আওয়ামীলীগের সরকারকেও। আর আমেরিকা আখুশি তাদের এজেন্ডা ইউনূসের দ্বারা বাস্তবায়িত না হওয়ার জন্য।তারা এখন প্ল্যান এ ছেড়ে প্ল্যান বি অথবা সি এর দিকে ঝুঁকছে।
হাসিনা যে আবার ফিরবেন, এবং আবার নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে আগের থেকে অনেক বেশী ভোটে জিতবেন, তা বললে অনেকেই হয়তো মুখ বেঁকাবেন। কিন্তু দেশের পরিস্থিতি ঠিক কোন দিকে এগোচ্ছে, সেটির বিষয়ে নজর রাখলে দেখা যাবে ভোট পিছানোর ব্যাপারে আর সায় নেই এই সরকারের। আর সেটির পিছনে কলকাঠি নাড়ছে সেনাপ্রধান। তাই এনসিপি এবং ছাত্রনেতাদের আক্রমনের মূল কেন্দ্রে সেনা এবং সেনাপ্রধান। আসলে তিনিও যে গভীর জলের মাছ তা এখন সবাই বুঝতে পারছে । তাই তিনি বাচ্চা ছেলেদের আক্রমনের প্রতি আক্রমন বা উত্তর দিতে চাননি।কিন্তু তিনি যখনই সুযোগ পেয়েছেন তখনই বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তিনি কি চান। বাংলাদেশে সংখ্যা লঘুদের উপর যখন সবচেয়ে বেশী অত্যাচার হচ্ছে ঠিক তখন তিনি এবং তিন বাহীনীর প্রধান মিলে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর দিন সারা দেশের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিলেন যে আপনাদের কোন ভয় নেই, এই দেশ সবার আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন। যেদেশে শিক্ষকদের কে জোর করে ধর্মান্তরিত করতে বাধ্য করা হয়, না হলে স্বেচ্ছায় শিক্ষকতা ছাড়ছি লিখিত দিয়ে চলে যেতে হয়। সেই দেশে হঠাৎ সেনাপ্রধান যদি বলেন আপনারা নিশ্চিন্তে বসবাস করুন এ দেশ সবার আমরা আপনাদের রক্ষা করব। তাতেই তো সব ভয় চলে যায় না। কিন্তু পরিস্থিতির যে বদল হচ্ছে, সেটি বোঝা যাচ্ছে। অর্থাৎ অন্দরে যুদ্ধ চলছে। তাই দেশে সব সময় সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার মাধ্যমে সব ধর্ম-বর্ণের সবার শান্তিতে সুন্দরভাবে বসবাসের প্রত্যাশার কথা জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তুলে ধরেছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান।সনাতন ধর্মালম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, “আপনারা নিশ্চিন্তে এ দেশে বসবাস করবেন এবং আপনারা ধর্মীয় উৎসব আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করবেন।”
শনিবার বিকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রার উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। এই যে পরিবর্তন তার পিছনের কারণটি কি । হাসিনা পতনের জন্য ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা দায়ী নয়। তবে তারা যে সম্পূর্ণ ফেল তা বলাই যায়। এত বড় ঘটনা ঘটে গেল অথচ তারা বুঝতে পারলা না। এটা তাদের পরাজয় সেটা মানতেই হবে। তবে হাসিনার পতনে অন্যদের থেকে বেশী দায়ী হাসিনা নিজেই। তিনি বেশী আমলা নির্ভর হয়ে উঠে ছিলেন। নিচু স্তরের কর্মী নেতাদের কথা না শুনে আমলা সচিবদের কথা বেশী শুনেছেন। তাই বেশী বেশী করে দুর্নীতি তাকে ঘিরে ধরেছে। এছাড়া আমেরিকার সঙ্গে মতবিরোধ,আমেরিকাকে বাধ্য করেছিল তার সরকারে আঘাত আনেত। কিন্তু বাংলাদেশ নিয়ে যে স্বপ্ন আমেরিকা দেখেছিল, তা এখন দুঃস্বপ্নে পরিনত হয়েছে।ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা আমেরিকার।তাই যে কোন ভাবে দ্রুত ভোট করিয়ে বাংলাদেশ থেকে পাত্তাড়ি গুটোতে চাইছে ট্রাম্প। ভারত আমেরিকাকে যে ধাক্কাটি দিয়েছে সে বিষয়ে আসার আগে বলে নিই, কেন বাংলাদেশে দ্রুত ভোট করিয়ে পালাতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।যেখানে প্রধান উপদেষ্টা সিঙ্গুপুর ভিত্তিক একটি চ্যানেলের সাখ্যাতকারে বলেছিলেন যে নির্বাচন যদি আন্তজার্তিক বৈধতা না পায় তাহলে নির্বাচন করিয়ে কি লাভ। অর্থাৎ এই নির্বাচনে জামাত এনসিপি অংশ নিতে চাইছে না। কারণ এনসিপির অনেক নেতাই বলছিল যে, বিচার ছাড়া ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচন হবে না কোনভাবেই। কিন্তু আইনি উপদেষ্টা পরিস্কার করে দিয়েছেন নির্বাচন ফেব্রুয়ারীতেই হবে। আসলে দ্রুত নির্বাচন দিয়ে পালাতে চাইছেন ইউনূস। হয়তো পরিস্থিতি এমন হল যে তিনি আর দেশ ছাড়তে পারছেন না । হাসিনার পরিবর্তে তারই হয়তো বিচার হবে।এবং তিনি তার সম্মান হারাবেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post