বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের মাখামাখি সম্পর্ক শুধুমাত্র বাণিজ্যিক বা আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে জন্য নয়। বরং মুক্তিযুদ্ধকে ভুলে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। পূর্ব পাকিস্তানকেই ফিরে পেতে চায় পাকিস্তান। আর সেটা নাকি বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বার্থেই। এমন একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত একটি গণমাধ্যম দা ক্যাচ লাইন। সেখানে লেখা রয়েছে, ৫৪ বছর পর পূর্ব পাকিস্তানকে নিয়ে হিসাব-নিকাশের সময় এসেছে। স্পষ্ট দাবি, পূর্ব পাকিস্তানকে ফেরত পেতে চায়। এই নিবন্ধ প্রকাশিত হতেই নজরে এসেছে আওয়ামী লীগের। পাকিস্তানের এই মনোভাবকে তীব্র সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, মোহাম্মদ ইউনূসের আমলে বাংলাদেশ মোটেই সুরক্ষিত নয়। তিনি নাকি বিদেশের কাছে বাংলাদেশকে বিক্রি করে দিতে চান।
গতবছর ৫ ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গঠিত হয়েছে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তারপর থেকেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়েছে বাংলাদেশের। উল্টে পাকিস্তান প্রীতি বেড়েছে পদ্মাপারের। এদিকে মঙ্গলবারই ঢাকায় নিযুক্ত নতুন পাকিস্তানি হাই কমিশনার ইমরান হায়দার রাষ্ট্রপতির শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর কাছে নিজের পরিচয় পত্র পেশ করেছেন। জানা যাচ্ছে, এই মাসেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইসাক দার বাংলাদেশ সফরে আছেন। তার মধ্যে পাকিস্তান পত্রিকাতে এমন খবর। যারা রাজনৈতিক অঙ্গনে শোরগোল ফেলেছে। অনেকে বলছেন, একাত্তরের পরাজয় মেনে নিতে পারেনি পাকিস্তান। তাই তারা বাংলাদেশকে নতুন করে অশান্ত করতে চাইছে।
এমনকি সেই নমুনা মাঝে মাঝেই লক্ষ্য করা যায়। সম্প্রতি বরগুনা সরকারি পলিটিকাল ইনস্টিটিউটের গ্রন্থাগারের আগুন লাগায় এনসিপি এবং জামাত সমর্থককারী বলে পরিচিত কয়েকটি ব্যক্তি। জানা যায়, ওই গ্রন্থাগারের আওয়ামী লীগ সমর্থিত এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বহু বই রয়েছে। অভিযোগ, ইউনূসের মদতেই এই কাজ করেছে এনসিপি এবং জামাত। সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানপন্থিরাও সক্রিয় হয়ে উঠছে। আওয়ামী লীগের তরফের স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এর সমস্ত বিচার করবে।
বাংলাদেশের এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে আবার ভারত সরকারকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে ইউনূসের অন্তবর্তী সরকার। বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক দাবি করেছে, ভারতের একাধিক শহরগুলিতে নাকি আওয়ামী লীগের অফিস খোলা হয়েছে। সেখান থেকেই নাকি তারা কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। তবে তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জবাব দিয়েছে ভারত। ভারত জানিয়েছে, শেখ হাসিনার দলের কোনও কর্মকাণ্ড এই দেশের কোনও শহরে চলছে কিনা, কিংবা বাংলাদেশ বিরোধী কর্মকাণ্ড চলছে কিনা, এই বিষয়ে তারা অবগত নয়।
এমনকি বুধবার ভারতের বিদেশ মঞ্চকে তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভারতের আওয়ামীলীগ সদস্যদের দ্বারা বাংলাদেশ বিরোধী কোনও কার্যকলাপ বা ভারতীয় আইনের পরিপন্থী কোনও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ভারত সরকার অবগত নয়। ভারতের ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে অন্য দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ভারত অনুমতি দেয় না। তাই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী কালীন সরকারের প্লেস বিবৃতি ভুল।
অর্থাৎ বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভুল তথ্য দিয়ে ভারতকে সতর্ক করার চেষ্টা করছে। এমনিতেই ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক তলা নিতে গিয়ে পৌঁছে যায়। এই পরিস্থিতিতে সেই সম্পর্কে যে আরো অবনতি ঘটলো, সেটার বলার অপেক্ষা রাখে না। তার মধ্যেই পাকিস্তান চাইছে পূর্ব পাকিস্তানকে। মহম্মদ ইউনূস বুঝতে পারছেন না, একাতরে বদলা নিতে চাইছে পাকিস্তান। এবং সেই কারণেই বাংলাদেশকে অশান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। যে ফাঁদে পা দেবার চেষ্টা করছেন ইউনূস, তাতে গোটা দেশ বিপদে পড়বে। আর সেটার কথাই বারবার উল্লেখ করছেন ভারতে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।












Discussion about this post