গত শুক্রবার ঝটিকা সফরে কলকাতায় এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কলকাতায় তিনি একসঙ্গে তিনটি মেট্রো রুটের পরিষেবা উদ্বোধন করেন। দুপুরে কলকাতায় এসে সন্ধ্যায় ফিরে যান দিল্লি। জানা যাচ্ছে, কলকাতা থেকে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রীর বিমান অবতরণ করেন দিল্লির হিন্ডন বিমানবন্দরে। যা নিয়ে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে। কয়েকটি বিশেষ সূত্রে জানা যাচ্ছে, নরেন্দ্র মোদি, হিন্ডন এয়ারবেসে নেমে সোজা পৌঁছে যান শেখ হাসিনার দিল্লির আস্তানায়। মিনিট পনেরো বৈঠক করে ফিরে যান নিজের বাসায়। যদিও দিল্লির আমলা মহল এই ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। সরকারিভাবে এই তথ্যের সত্যতা স্বীকার করা হয়নি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতেই আশ্রয় নিয়েছেন। ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার তাঁকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে, তাঁকে পুরোদস্তুর রাষ্ট্রপ্রধানের মর্যাদাই দিয়েছে। কিন্তু যেহেতু বাংলাদেশে একটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে, সেহেতু ভারতের প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বিতাড়িত শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারছেন না। ফলে যা হচ্ছে, তা অত্যন্ত গোপনে এবং টেলিফোনের মাধ্যমেই। কোনও কোনও মহল অবশ্য দাবি করছে, এই বৈঠক হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই বাংলাদেশে একটা বড়সড় ঘটনা ঘটতে চলেছে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ভুল চালে ভারত, চিন ও রাশিয়া কাছাকাছি চলে এসেছে। অপরদিকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দিয়ে ভারত ও রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। সবমিলিয়ে ব্রিকস গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলি অতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, বেজিং ভারতের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা চালাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশ সমস্যা সমাধানের এটাই সবচেয়ে প্রসস্ত সময় বলে মনে করছেন কুটনৈতিক মহল। এই মুহূর্তে দক্ষিণ এশিয়ার ভু-রাজনীতি ভারতকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। সম্প্রতি দিল্লি সফর করে গেলেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াই ই, অপরদিকে রাশিয়া সফরে গিয়েছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। আগস্টের শেষ দিকে চিনে যাবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিনের সঙ্গে যেমন বৈঠক হবে তাঁর, তেমনই বৈঠক হবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের ুপুতিনের সঙ্গে। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে বাংলাদেশের দিকে উৎসাহী নজর দিয়েছে, তা বেজিং বা ক্রেমলিন কোনও ভাবেই মেনে নেবে না। ভারতেরও আপত্তি থাকবে বাংলাদেশে মার্কিন সামরিক বেস তৈরি হলে। সবমিলিয়ে মার্কিন অগ্রাসন রুখতে যেমন তিন মহাশক্তি ভারত, চিন ও রাশিয়া একজোট হচ্ছে, তেমনই বাংলাদেশে মার্কিন বেসের বিরুদ্ধেও তাঁরা একমত হতে পারে। এই মধ্যেই নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠকের গুঞ্জন ছড়িয়েছে, যা যথেষ্টই ইঙ্গিতপূর্ণ।
কূটনৈতিক মহলের একটা অংশ বলছে, মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে মাখামাখি সম্পর্ক তৈরি করতে চাইছে, সেটা মোটেই ভালোভাবে নিচ্ছে না নয়া দিল্লি। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে আমেরিকা, তুর্কির নাক গলানোও পছন্দ করছে না ভারত। মুহাম্মদ ইউনূস এর আগে বেশ কয়েকবার ভারতের প্রতি আপত্তিকর ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন। যা নিয়ে ভারত সরকার সরাসরি কোনও বিবৃতি জারি না করলেও স্থল বন্দর বন্ধ করা ও ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান বুঝিয়ে দিয়েছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র সম্প্রতি তাৎপর্যপূর্ণভাবে বলেছেন, বাংলাদেশের দিকে কড়া নজর রাখছে নয়া দিল্লি। প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত মাসে ভারতে অবস্থানকারী আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে শেখ হাসিনার একাধিক বৈঠক হয়েছে। এরপরই বাংলাদেশে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল ও নানান কর্মসূচি দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি ওই বৈঠকের অনুমতি দিয়ে নয়া দিল্লি বুঝিয়ে দিয়েছিল, হাসিনা সম্পর্কে কতটা নরম মনোভাব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এবার জানা যাচ্ছে, তিনি হাসিনার সঙ্গে দেখা করে কথা বলেছেন। যদি এই তথ্য সত্য হয়, তাহলে আগামীদিনে বাংলাদেশ নিয়ে বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে ভারত।












Discussion about this post