সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় রোজই একাধিক ঘটনা সামনে আসছে। তারমধ্যে সামনে এল একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বাংলাদেশের উত্থান পতনের আবহে হাড়োয়া সীমান্তের হাকিমপুর এলাকায় আটক হলেন বাংলাদেশের উচ্চ পদস্থ পুলিশ আধিকারিক। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, প্রাণ বাঁচাতে ভারতে পালানোর সময় সীমান্ত থেকে আটক হয়েছেন বিএসএফের হাতে। ক্ষমতা দেখাল ভারতীয় সেনা।
প্রাথমিক তথ্য অনুসারে জানা গিয়েছে, ওই বাংলাদেশ পুলিশের নাম আরিফ জামান। তিনি রংপুর পুলিশে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ, শনিবার দুপুরে সীমান্ত বেরিয়ে অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার করে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। আর সেই সময় সন্দেহ হয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর। তাকে বাধা দেন বিএসএফের ১৪৩ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা। তারপরও ওই পুলিশ আধিকারিক পালানোর চেষ্টা করেন। তারপরই কুইক রেসপন্স টিমের সদস্যরা ধাওয়া করে ফেলেন তাকে। তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওই পুলিশ আধিকারিক বলেন, গত বছর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন পুলিশ আধিকারিকদের উপর হামলা বেড়েছে কট্টরপন্থী গোষ্ঠীদের। তিনি জানান, শেখ হাসিনার শাসনকালে যারা কট্টরপন্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল, তাদেরকে নিশানা করা হচ্ছে। আর সেই কট্টরপন্থীদের হাত থেকে রেহাই পেতেই ভারতে পালিয়ে প্রাণ বাঁচাতে চেয়েছিলেন।
যদিও তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পর বিএসএফের জওয়ানরা সরুপনগর থানার হাতে তুলে দেন। তবে কি কারণে তিনি বাড়ি এসেছেন, তার বয়ান ছাড়া আর কোনও প্রমাণ মেলেনি। সত্যিই তিনি প্রাণ বাঁচাতে ভারতে পালিয়ে আসার চেষ্টা করছিলেন নাকি এ পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, সেটা তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছর শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে নিশানা করা হচ্ছে আওয়ামী লীগের আমলের সমস্ত উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের। কখনও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইনের আওতায় নিয়ে এসে শাস্তি দিচ্ছে। আবার কখনো দেখা যাচ্ছে উন্মুক্ত ছাত্র জনতা মবের মাধ্যমে হামলা চালাচ্ছে। রেহাই পায়নি সাবেক নির্বাচন কমিশনার থেকে শুরু করে বিভিন্ন উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকরা। তাদের একটাই অপরাধ, তারা শেখ হাসিনার সময়ের আধিকারি।
তাই ওই বাংলাদেশ পুলিশ আধিকারিকের বয়ান পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না এখানকার পুলিস আধিকারিকরা। তবে যেহেতু নিয়ম লঙ্ঘন করে তিনি পালিয়ে আসার চেষ্টা করেছেন, তাই এই বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন।












Discussion about this post