বাংলাদেশের আইনজীবী মহলের অত্যন্ত পরিচিত নাম ফজলুর রহমান। তাঁর আরও দুটি পরিচয় আছে, সেটা হল তিনি বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি বা বিএনপির অন্যতম নেতা এবং দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা। কিন্তু তাঁর প্রথম পরিচয় হল, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরের নেতৃত্বে তিনি এরিয়া কমান্ডার হিসেবে লড়াই করেছেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কিছু মন্তব্য করেছিলেন। যা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয় বাংলাদেশে। ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে সরব হয় এনসিপি-জামাত নেতারা। এমনকি তাঁর দল বিএনপিও এই মন্তব্যের জন্য তাঁর পাশে দাঁড়ায়নি। তাঁকে শোকজ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাবদিহি করতে বলা হয়েছিল বিএনপির তরফ থেকে। এমনকি এও শোনা যাচ্ছিল তাঁকে বহিস্কার করতে পারেন বিএনপির কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তারেক রহমান জিয়া। আপাতত কোনওটাই হয়নি, শোকজের জবাব দিয়েছেন ফজলুর রহমান। আর সেই জবাবও হয়েছে যথেষ্ট কড়া, যাকে বলে দাঁতভাঙা জবাব।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে দেওয়া তাঁর চিঠিতে কি লিখেছেন বিতর্কিত এই নেতা? মোট এগারোটি পয়েন্ট উত্থাপিত করে তিনি নিজের আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন। এমনকি সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিকভাবে ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে চিরদিন কথা বলেছি, আগামীতেও বলব। বিএনপির শোকজের জবাবে ফজলুর রহমান এগারোটি বিষয় উত্থাপন করেছেন। তিনি যেমন জামাত শিবিরকে বিঁধেছেন, তেমনই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও এনসিপি নেতাদেরও বিঁধেছেন। ওই চিঠিতে ফজলুর রহমান লিখেছেন, গণ অভ্যুত্থানের পর জামায়াত-শিবির এবং এনসিপি একসঙ্গে বলতে শুরু করল- ১৯৪৭ হল প্রথম স্বাধীনতা এবং ২০২৪ হল দ্বিতীয় স্বাধীনতা। আর ১৯৭১ হল ভাইয়ে ভাইয়ে ঝগড়া। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মনে হল এসব অশ্রাব্য এবং মিথ্যা তথ্য শুনার আগে আমার মৃত্যু হওয়া উচিত ছিল। তিনি কেন জামায়াত-শিবিরকে ‘কালো শক্তি’ চিহ্নিত করে এনসিপিকে তাদের সহযোগী বলতে শুরু করেছিলেন তার ব্যাখ্যা এভাবেই দিয়েছেন বিতর্কিত এই বিএনপি নেতা। সব শেষে তিনি এও লিখেছেন, আমার সার্বিক বক্তব্য উপস্থাপনায় যদি প্রমাণিত হয় আমি কোন ভুল বক্তব্য দিয়েছি তবে আমি দুঃখ প্রকাশ করব।
রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, বিএনপির শোকজের পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান যেভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং তাঁর চিঠি সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়ে গিয়েছে। তাতে ফজলুর রহমানকে বিতাড়িত করতে এখন বেগ পেতে হবে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে। কারণ, দুঁদে উকিল ফজলুর স্তরে স্তরে তাঁর যুক্তি সাজিয়েছেন। বোঝাতে চেয়েছেন, জামাত-এনসিপি জোট কিভাবে বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃতি করছে এবং কিভাবে তাঁরা বিএনপিকে সাইডলাইনে পাঠানোর ছক করছে। এই দাঁতভাঙা জবাবের পর বিএনপিও ঢোঁক গিলতে বাধ্য হবে বলেই মনে করছেন বাংলাদেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post