চিনের হাত ছেড়ে বাংলাদেশ এখন পুরোপুরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকেছে। দুই বৃহৎ প্রতিবেশী চিন ও ভারতের সঙ্গে সমান সম্পর্ক রেখে চলা শেখ হাসিনা প্রশাসনের বিপরীতে হেঁটে ইউনূস প্রশাসন এখন ইসলামাবাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনকে খুশি করতে উদ্যোগী। মূলত মার্কিন ডিপ স্টেটের পরিকল্পনায় ও অর্থায়নেই যে গত বছর বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, সেটা আজ ওপেন সিক্রেট। কিন্তু ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনি যেভাবে মার্কিন ডিপ স্টেটের কোমর ভাঙার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সব তথ্য ফাঁস করেছিলেন তখন অনেকেই ভেবেছিলেন এবার জব্দ হবেন মুহাম্মদ ইউনূস। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস প্রথমদিকে জব্দ হয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব তাঁর কাঁধে থাকায় ওয়াশিংটনের কর্তারা এখনও তাঁর উপর ভরসা রাখছেন। এই ব্যাপারটা যে ভারত ভালোভাবে নিচ্ছে না সেটা আন্দাজ করেই বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান প্রথমদিকে আপত্তি তুলেছিলেন। তিনি রাখাইন করিডোর ইস্যুতে প্রবল বিরোধিতা করেছিলেন তদারকি সরকারের নীতির। কিন্তু সময় যত এগিয়েছে, ততই সুর নরম হয়েছে বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, জেনারেল ওয়াকার বুঝে গিয়েছেন যে কোনও সময় তাঁর পদ চলে যেতে পারে। ফলে তিনি জলে থেকে কুমীরের সঙ্গে দুসমনি করতে চাননি।
মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসন যেভাবে পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছেন, যে ভাবে গলাগলি করছেন তাতে যারপরনাই বিরক্ত ভারত। গোটা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে নয়া দিল্লি, সেটা বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র প্রকাশ্যেই বলেছেন। অন্যদিকে ভারতও নিজের সামরিক শক্তি ক্রমশ বাড়িয়ে চলেছে। সম্প্রতি ভারত বঙ্গোপসাগরে অগ্নি-৫ ক্ষেফণাস্ত্র পরীক্ষা করল। এর জন্য সমুদ্রের বিশাল এলাকাজুড়ে জারি হয়েছিল নোটাম। আর ওড়িশা উপকূল থেকে ফায়ার করা অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্রের বিধ্বংসী রূপ দেখা গিয়েছিল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা, মাদারিপুর, ফরিদপুর জেলা থেকেও খোলা চোখে দেখা গিয়েছিল। বাংলাদেশেরই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, ভারত এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করার পর থেকে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর মধ্যে একটা চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। সেনাবাহিনীর একটা বড় অংশের আধিকারিক খুব উদ্বেগে রয়েছেন এই ভেবে যে ভারত যদি কোনও কারণে বাংলাদেশে আক্রমণ করে তাহলে তাঁরা ঠেকাবেন কোন পথে। কারণ, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সেনার হাতে কোনও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থাই নেই। সবচেয়ে বড় বিষয় হল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হাতে একটাও ক্ষেপণাস্ত্র নেই। যা আছে তা আদ্যিকালের আর্টিলারি সিস্টেম। এ দিয়ে ভারতের আক্রমণ রুখে দেওয়ার স্বপ্ন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অতি সাহসী আধিকারিকরাও দেখছেন না। কিন্তু জেনারেল ওয়াকার উজ জামান মনে করছেন যদি ভারত আক্রমণ করে তাহলে বাংলাদেশকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে পাকিস্তান ও আমেরিকা। লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, তিনি চিনের নাম নেননি। বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অন্দরে এই কম্পন অনুভব করেই সেনাপ্রধান নাকি পাকিস্তান ও আমেরিকার অভয়বাণী শুনিয়েছেন। যা হাস্যকর দাবি বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর দোসররা রাজনৈতিকভাবে ভারতবিরোধী মনোভাব নিতেই পারে। কিন্তু সেনাবাহিনীর তো জানা উচিৎ প্রতিবেশী ভারতের সামরিক শক্তি বিশ্বের চতুর্থ। সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৫ তম। আধুনিক সমরাস্ত্রের যা সম্ভাব এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সেনার রয়েছে তা শেখ হাসিনার আমলেই কেনা। যদিও ইউনূস প্রশাসন তুরস্ক ও পাকিস্তান থেকে রকেট লঞ্চার, আর্টিলারি সরঞ্জাম বা ড্রোনের মতো কিছু অস্ত্রশস্ত্র কিনছে বলে খবর। আরও জানা যাচ্ছে ইউনূস প্রশাসন পাকিস্তান থেকে আব্দালি বা অন্য কোনও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে চলেছে। তবে সেগুলি আদৌ কবে সেনার হাতে আসবে তার ঠিক নেই। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান যদি পাকিস্তান ও আমেরিকার ওপর ভরসা করে থাকেন ভারত বা বহিরাগত কোনও শত্রুর আক্রমণ ঠেকানোর জন্য, তাতে দোষ কিছু নেই। কিন্তু সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যই বাংলাদেশকে বাঁচাতে আসবে? এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post