শেখ হাসিনা যখন বিমানে উঠতে যাচ্ছিলেন, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আসার জন্য। তখন সেনাপ্রধান নাকি হাসিনাকে ফোন করে বলেছিলেন স্যার আপনি আমার উপর ভরসা রাখতে পারলেন না। এই কথা যদি সত্যি হয়, মানে মবের হাত থেকে হাসিনা প্রাণ বাঁচানোর জন্য যখন ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন, তখন যদি সেনা প্রধান হাসিনাকে ফোনে বলে থাকেন যে, আমার উপর আস্থা রাখেত পারলেন না স্যার। তাহলে তার এই ফোন অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। যখন মব ঢুকে যাচ্ছে গনভবনে তখন কি শেখ হাসিনা তার উপর আস্থা রেখে গণভবনে অবস্থান করবেন? আর তিনি যদি তা করতেন তাহলে মবের হাতে তার ঠিক কি পরিণতি হত, তা কল্পনার অতিত। সেটা কি সেনাপ্রধান ঠেকাতে পারতেন? নাকি সেনাপ্রধান চাইছিলেনই যে শেখ হাসিনার ভবিতব্য মবের হাতেই নির্ধারিত হোক। যখন হাজার হাজার উৎশৃঙ্খল মানুষ গণভবনের দিকে ছুটে আসছে তখন কি ঐ মবকে ঠেকানোর জন্য সেনার পক্ষ্য থেকে কোন টিমকে নিয়োগ করা হয়েছিল? তা তো হয়নি। যে কারণে মব সৃষ্টি কারী উৎশৃঙ্খল জনতা গণভবনে যথেচ্ছাচার করেছে। কারণ গণভবনে যারা পাহারাদার ছিলেন তারা গেট ছেড়ে দিয়েছিলেন। অনেক বিদেশী গণমাধ্যম সেনাপ্রধানের প্রশংসা করতে পারেন, রক্তপাতহীন ভাবে ক্ষমতার হস্তান্তর হওয়ার জন্য ।কিন্তু এর পরে যে বিশেষ প্রশ্নটি আসে সেটি হল, বালাদেশের আইন অনুযায়ী সেনাবাহিনী প্রতিরক্ষার অধীন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী হলেন শেখ হাসিনা। এবং রাষ্ট্রপ্রধান মহম্মদ শাহবু্দ্দিন চুপ্পু। তো সেই অস্থির সময়ে বাংলাদেশের নিয়ম শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সকল বাহীনিকে হাসিনা তার পরামর্শ দিয়েছেন,কিভাবে দেশে শৃঙ্খলা বোজায় রাখা যায়। সেই পরামর্শে ভুল ত্রুটি থেকে থাকলে, সেনাপ্রধান সহ সমস্ত আইনশৃঙ্খলা বিভাগের প্রধানদের উচিৎ ছিল সেই বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক পরামর্শ দেওয়া।বাংলাদেশের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজামান কামাল জানিয়েছেন যে, চার তারিখ রাতে হাসিনার সামনে আইন শৃঙ্খলা মন্ত্রকের সব বিভাগের প্রধানদের সঙ্গে আলাপ আলোচনার সময়, যেন কোন বিকল্প ব্যবস্থা না রাখা যায়, তার জন্য সেনাপ্রধান বলেছিলেন যে তার উপর আস্থা রাখতে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী যখন সেনাপ্রধানকে বলেছিলেন যে আপনি কি ঢাকা, গণভবন,এবং প্রধানমন্ত্রীর্ দায়িত্ব নিলেন? তখন সেনাপ্রধান বলেছিলেন সব দায়িত্ব আমার। যেমনটি তিনি দেশের মানুষকে বলেছিলেন ৫ই আগস্টের বক্তিতায়।ফলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পুলিশ বাহিনীর প্রধানকে বলেছিলেন সেনাপ্রধানকে অনুসরণ করতে। অথচ পরের দিনই দেখা গেল সারা দেশ থেকে যখন মব ঢাকার দিকে আসছে, তখন সেনাবাহীনি কোথাও তাদের আটকালো না। যেখানে যা ব্যারিকেট ছিল সব ব্যারিকেট খুলে দেওয়া হল।মানে মানুষকে গণভবনের দিকে এগিয়ে আসতে দিলেন। অথচ পুলিশকে সঠিক কোন নির্দেশ দেওয়া হল না। ফলে পুলিশ তখন পথ আটকানোর মরিয়া চেষ্টা করে, এবং স্বাভাবিক ভাবেই তারা মবের রোষের মুখে পড়ে যায়। এবং নির্মম হত্যাকান্ডের স্বীকার হয়। কিন্তু এই হত্যাকান্ডের যে নির্মমতা, সেই নির্মমতার দ্বায় কি সেনাপ্রধান অস্থিকার করতে পারেন।সেনা যে আর মবকে নিয়ন্ত্রন করবে না, সেটি তো পুলিশ বিভাগের প্রধানকে জানাতে পারত, তাহলে হাজার হাজার পুলিশের প্রাণ যেত না। সেনা যে মবকে গণভবনের দিকে আগিয়ে আসার জন্য রাস্তা খুলে দিল, সেটি তো নিশ্চয় কারো নির্দেশে হয়েছে। এবং সেই নির্দেশ কে দিতে পারেন, সেনাপ্রধান ছাড়া অন্য কেউ পারে কি? সেনাপ্রধান হয়তো চাননি যে তার নির্দেশ পুলিশ প্রধানের কাছে পাঠানো হোক এবং সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চলে যাক। এবং তার গোপন ইচ্ছাটি ফাঁস হয়ে যাক। এখন অনেকের মনে হতে পারে সেনাপ্রধান তো হাসিনার লোক, তাহলে তিনি হাসিনার বিরোধীতা কেন করবেন? তার কারণ তিনি বুদ্ধিমান কিন্তু দক্ষ নন। তিনি দেশের পরিস্থিতি নিয়ে যখন জুনিয়র সেনা অফিসার দের সঙ্গে কথা বলেন, তখনই তিনি বুঝে যান তিনি সরকারের দিকে থাকলে তিনি গদিতো হারাবেনই,হয়তো প্রাণও হারাতে পারেন। তাই তিনি পাল্টি খান। এটি তার বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। কিন্তু তিনি অদক্ষ সেনাপ্রধান, কারণ তিনি পুরো বিষয়টিকে দক্ষতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে বুঝিয়ে কোন একটি সমাধানে আনতে পারেন নি। আবার অনেকের মতে, হাসিনা চার তারিখের রাতেই জানেত পারেনে সেনাপ্রধান তার নির্দেশ অমান্য করতে চলেছেন। তাই তার খুব কাছের কিছু সেনা অফিসার চার তারিখের রাতেই চেয়েছিল যে সেনাপ্রধানকেই সরিয়ে দিতে। কিন্তু সেনাপ্রধান ঐ রাতে নিজেকে এমন এক জায়গায় বন্দি করে রেখেছিলেন যে কেউ তার খোঁজ পায়নি। এবং পরদিন তিনি জনতার সঙ্গে আছি বলে পুরো বিষয়টিকে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যান। তিনি যে বলেছিলেন তিনি জনাতার সঙ্গে আছেন, সেই জনতা কারা, আজ কি তিনি বুঝতে পারছেন। পাকিস্তান মুখি বা পাকিস্তান প্রেমী কিছু উৎশৃঙ্খল মানুষ।তাই তিনি নিষিদ্ধ দলের নেতা নেত্রীদের খোঁজ নেন। অথচ দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের উপর মবের হামলা হলে কোন প্রতিবাদ করেন না। সেনাপ্রধান তিন বাহীনির প্রধানের কথা শুনলেন না। অর্থাৎ হাসিনা বলেছিলেন যে, ঢাকায় যেন কোন উৎশৃঙ্খল বাহিনী প্রবেশ করতে না পারে, তার জন্য নিদৃষ্ট ব্যবস্থা নিতে হবে, কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল সেনাপ্রধান, প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনলেন না।প্রশ্ন হল কার কথা শুনলেন তিনি, কার নির্দেশ মানলেন সেটাই এখন সারা দেশে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সেনাপ্রধান চার তারিখেই জেনারেল আকবরকে বলেছিলেন সব বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে, অর্থাৎ তখনই কি তিনি ঠিক করে নিয়েছিলেন, কি করবেন? অথচ হাসিনার কাছে গিয়ে বললেন তার উপর আস্থা রাখতে। আসলে তিনি শুধু নিজেকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন, দেশ বাঁচাতে চাইলে তিনি বাংলাদেশকে পাকিস্তানের পথে নিয়ে যেতেন না।আর হাসিনাকেও গদিচ্যুত হতে হত না।












Discussion about this post