১৪ বছর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনবে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত। এর জন্য আগামী ২১ অক্টোবরে শুনানির দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ। অনেকেই আশা ও আশঙ্কায় ভুগছিলেন বুধবারই হয়তো এই বিষয়ে একটা ফয়সলা হয়ে যাবে। কিন্তু আপাতত অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ বুধবার ১৪ বছর আগে দেওয়া রায় পুনর্বিবেচনা বা রিভিউ চেয়ে করা আবেদনের ওপর শুনানি করলেন। রিভিউতে লিভ মঞ্জুর করে আপিল শুনানি, নাকি রিভিউ আবেদনের শুনানি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে এটা নিয়ে কৌতুহল ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে। অবশেষে রিভিউতে লিভ মঞ্জুর করে সাত সদস্যের বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়ে দিল আগামী ২১ অক্টোবর শুনানি শুরু হবে এই আবেদনের। এও জানা যাচ্ছে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফকরুল আলমগীরের দায়ের করা রিভিউ পিটিশনের ভিত্তিতেই এই রায় দেওয়া হল। তবে অক্টোবরে এই প্রসঙ্গে যতগুলি রিভিউ পিটিশন আছে, সব একত্রিত করে শুনানি চলবে।
গত ১৪ আগস্ট প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন। জানানো হয়, সাক্ষাতে দ্বিপক্ষীয় বিচারিক সহযোগিতা, মানবাধিকার সংরক্ষণ এবং আইনের শাসন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিচার বিভাগের উন্নয়নে গত এক বছরে নিজের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে তুলে ধরেন প্রধান বিচারপতি। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে, সমস্ত প্রথা ভেঙে কেন একজন বিদেশী রাষ্ট্রদূত দেশের প্রধান বিচারপতির বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করলেন? তাহলে কি বাংলাদেশের বিচার বিভাগেও নাক গলাতে চাইছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ঘটনা হল, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধিন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১১ সালের ১০ মে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন। সেই সংশোধনী অনুযায়ী বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক বা তদারকি সরকার ব্যবস্থা উঠে যায়। সেই অনুযায়ী মুহাম্মদ ইউনূসের তদারকি সরকার অবৈধ। এটা পাল্টেতেই ইউনূসের আমলে একাধিক রিভিউ পিটিশন দাখিল হয়েছিল আপিল বিভাগে। সুত্রের খবর, এই রিভিউ পিটিষশনের শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, ‘আমরা প্রথা অনুসরণ করব। লিভ দিয়ে পুরো বিষয়টি শুনব। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এটি নিয়ে সংকট সৃষ্টি না হয়। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, বাংলাদেশের প্রভাবশালী মহল চাইছে যে কোনও মূল্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। এদিন যদি আগের রায় পুনর্বহাল রাখা হতো, তাহলে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার ক্ষমতা হারাতো। ফলে একটা চাপ ছিলই বিচারপতিদের ওপর। ওয়াকিবহাল মহলের একটা অংশ দাবি করছে, আওয়ামী লীদের আমলে নিয়োগ হওয়া প্রায় ১২-১৩ জন বিচারপতিকে ইতিমধ্যেই হয় অপসারণ না হল স্বেচ্ছাবসর নিয়ে বাধ্য করা হয়েছে। এখন যারা আছেন, যা নতুন যারা এলেন বিচারপতির চেয়ারে তাঁরা জামাত-এনসিপির প্রভাবে এসেছেন। ফলে এই স্পষ্ট রায় না দিয়ে শুনানি পিছিয়ে যাওয়া আশ্চর্যের কিছু নয়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post