বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে যেমন হাসিমুখে দেখা যায় না, তেমন বাংলাদেশের উপদেষ্টাদেরও আর হাসি মুখে দেখা যায় না। উত্তাল বাংলাদেশে মব আতঙ্কে আতঙ্কিত সবাই।সে সরকার পক্ষ্যের লোক হোক অথবা বিরোধী পক্ষ্যের লোক। সব চেয়ে বড় সমস্যা হল, বাংলাদেশ হাসিনার সময়ে ভারতের দিকেই ছিল ধরে নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ কোন দিকে? বাংলাদেশের ভুমি এখনও ভাগাভাগি হয়নি ঠিকই, যদিও কিছু বন্দর এবং দ্বীপ আর বাংলাদেশীদের জন্য উন্মুক্ত নেই।তাই চাইলেই আর কোন বাংলাদেশী সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমন করতে যেতে পরবেন না। তবুও সরকারী ভাবে বাংলাদেশের কোন অংশ এখনও হাত ছাড়া হয়ে যায়নি। যদিও অনেকে বলবেন যে আরাকানরা তো বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকার বেশ কিছু অংশ দখল করে নিয়েছে। কিন্তু সেখানেও মানবিক করডর বলে বিষয়টিকে সামাল দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ যে এখন কতগুলি দেশের মুখাপেক্ষী হয়ে আছে সেটির খবর কে রাখছে? একটি দল চিনের দিকে ঝুকে আছে, তো একটি দল আমেরিকার দিকে। আবার জামাতের মত দলের নেতারা পাকিস্তানের দিকে বেশী ঝুঁকে আছে। আর মুলত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যতরকম বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্য কলাপ এবং মব জাস্টিস হচ্ছে তার মুলেই পাকিস্তানের আইএসআই এবং জামাত। এখন প্রশ্ন হল বাংলাদেশের মানুষরা কি পাকিস্তানকেই তাদের দেশ মনে করে পূর্বপাকিস্তানি হয়ে যাবে। নাকি তারা আবার একটা ৭১এর প্রস্তুতি নেবে। নাকি এখনও তারা বুঝতে পারছে না, এই ইউনূস বাহীনি কি চাইছে। মুক্তি যুদ্ধের স্বপক্ষে কথা বললেই যদি আওয়ামীলীগ তকমা এবং দেশদ্রোহী আইনে গ্রেফতার করা হয়। তাহলে আর বুঝতে কি বাকি থাকে এখন বাংলাদেশ কারা চালাচ্ছে, আর কাদের দখলে আছে? আর দেশের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বিএনপির মত একটি বৃহত দল রোজ নির্বাচনের গাজর খাচ্ছে। তারা ভাবছে এই বুঝি নির্বাচন হবে, আর তারা জিতে ক্ষমতায় আসবে।যদিও তারেক রহমানের সুর কেমন বদলে গেছে, তিনি এখন বলছেন ক্ষমতায় আসি আর না আসি আমরা মানুষের সেবা করব। অর্থাৎ তিনিও বুঝতে পারছেন আর কিছু হবে না।শেষ মহুর্তে যদি নরমে নরমে কিছু বাগানো যায়।কিন্তু ফেব্রুয়ারী যত কাছে আসবে দিন তত কঠিন হবে পাকিস্তান বিরোধী প্রতিটি মানুষের জন্য, আগে শেষ করা হয়েছে আওয়ামীলীগকে, এবার মুক্তি যুদ্ধের চেতনা কে শেষ করার ষড়যন্ত্র চলছে, এবং সেটিতে কোন লুকো চাপা নেই। তার পর বিএনপির পালা। এখন তো বাংলাদেশের নদীতে মাছ কম, লাশ বেশী দেখতে পাওয়া যায়। এই লাশগুলি কাদের, এই উত্তর দেওয়ার ক্ষমতা আছে সরকারে? সরকার পক্ষ্যের লোকজনদের শুধু বিদেশেই হামলার শিকার হতে হচ্ছে এমন নয়। তাদের উপর মব হওয়ার সম্ভাবনা দেশেও খুব প্রবল হয়ে উঠছে, আর সেটা তারাও ভালো করেই বুঝতে পারছে। যেমন আসিফ নজরুল, যিনি আইনি উপদেষ্টা, তিনি ভিপি নুরকে হাসপাতালে দেখতে গেলে, স্লোগান উঠে জুতো মারো তালে তালে, আসিফ নজরুলের দুই গালে। কিন্তু এটিকে শুধু আক্রান্ত দলের নেতা কর্মীদের ক্ষোভ বলে ধরে নিলে ভুল হবে। কারণ ভিপি নুরের উপর আক্রমনের দায় গেছে সরাসির সেনার উপর। আর সেনা বলছে তাদের উপর সরকারের কঠোর নির্দেশ ছিল, যে কোন ধরণের মবকে কড়া হাতে দমন করতে হবে। অর্থাৎ নুরের উপর হামলার দায় শুধু সেনার নয়, সরকারেরও। আর সেই সরকারের আইনি উপদেষ্টা এই হামলার পর পোস্ট করেন যে, ভিপি নুরের উপর বর্বোরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। তার নিচে বাংলাদেশের সব থেকে বেশী মব করার ক্ষমতাধারী ছাত্রনেতা হাসনাত যা লিখেছে তাতে আসিফ নজরুলকে কোন না কোন অজুহাতে বিদেশে পালাতেই হবে। শুধু আসিফ নজরুল নন। আরও সাত জন উপদেষ্টা পদে থাকা অবস্থাতেই দেশ ছেড়ে পালাতে চাইছেন। এবং তাদের আত্মীয়রা আশঙ্কা করছেন যে তারা হয়তো আর দেশে ফিরে তাদের দেখার সাহস এবং সুযোগ পাবেন না। এই অবস্থায় সেনাকে বলা হচ্ছে ব্যারাকে ফিরতে। কিন্তু যারা এই কথা বলছে তারাই তো কিছুদিন আগে সেনার সাজোয়া গাড়ীতে করে গোপালগঞ্জ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। তবুও সেনার যদি নিজস্ব কোন ক্ষমতা না থাকে, ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার নিয়েও যদি তাদের সাধারণ মানুষের মত হুমকির মুখ পড়তে হয় এই সরকারের আমলে, তাহলে সেনার উচিত রাষ্ট্রপতির থেকে ক্ষমতা নিয়ে এই সরকারকে ফেলে দিয়ে একটি সামরিক শাষনের ব্যবস্থা করা। এখন দেশকে জামাত এবং পাকিস্তানের হাত থেকে বাঁচাতে হলে এটিই একমাত্র পথ। আর সেনাও যদি পাকিস্তানেই তাদের গন্তব্য মনে করে তাহলে আবার একটি ৭১ হওয়া থেকে বাংলাদেশকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।












Discussion about this post