গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরের আক্রান্তের ঘটনা নিয়ে এখন তুমুল হইচই বাংলাদেশে। এমনকি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানা রাজনৈতিক বয়ান দেওয়া হচ্ছে। এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ যে কথা বলেছেন, সেটা নতুন করে সংকট তৈরি করতে পারে কিংবা নতুন আলোচনার বিষয় হতে পারে, সেরকম মনে হচ্ছে অনেকের। কারণ তিনি বলেছেন, আমাদের নিয়তি ভিপি নূরের মতো হতে পারে। তাদের পরিণতি কেন এমন হবে? সেই প্রশ্নই উঠছে। শুধু তাই নয়, এরকম বহু এনসিপি নেতারা লিখতে শুরু করেছেন, ভিপি নুর মার খেলেন, এবার হয়তো আমরা মার খেতে পারি। তবে কি নুরুল হক নূরকে আওয়ামী লীগের পরিকল্পনাতে মারা হল? এটা বলতে চাইছেন তারা? তার কারণ, সেনাবাহিনী বা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন নূরুল হক নূর। কেন আতঙ্কে রয়েছেন হাসনাতরা? তবে কি এবার টার্গেট এনসিপি? আসলে নতুন করে চক্রান্তের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
হাসনাত আব্দুল্লাহ একটি মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, সংস্কার না হলে আমাদের পরিণতিও ভিপি নূরের মত হবে। এমনকি এই ঘটনা ঘটার রাত থেকে তিনি একাধিক জনকে আক্রমণ করেছেন। শুধু তাই নয়, হাসনাত আব্দুল্লাহ জামাতকেও ছাড় দেননি। এমনকি সেনাবাহিনীকে কেন সেফ জোনে রাখা হয়েছে, সেটা নিয়েও তিনি মন্তব্য করেছেন। কি তার টার্গেটে সেনাবাহিনী এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। এমনকি এটাও আলোচনা হচ্ছে, সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাও।
যদি সেনাবাহিনী সত্যিই ব্যারাকে ফিরে যায়, তাহলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেদিকে যেতে পারে, সেটা মোকাবিলা করার মত শক্তি কি বর্তমান সরকারের কিংবা পুলিশ বাহিনীর আছে? সেদেশেরই বহু মানুষ বলবেন, সেই পরিস্থিতি নেই। সেনাবাহিনী যদি সেনানিবাসে ফিরে যায়, তীব্র পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। অন্যদিকে কেন তাদের মনে হচ্ছে নুরুল হক নূরের মত পরিস্থিতি তাদের হবে? সেটা ভেবে দেখার মত বিষয়। এমনকি সরকারকে দেখা গেল, সাংবাদিক সন্মেলন করে ঘোষণা করল, তারা নাকি বিভিন্ন দলের সঙ্গে সংলাপ করবে। এর আগেও দেখা গিয়েছে, সরকার যখনই কোনও সংকটে পরে, তখন রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসে সরকার। এমনকি দলগুলিকে কাছে টানার চেষ্টা করে। ফলে এক্ষেত্রেও বড় রাজনৈতিক সংকট হিসাবে দেখছে সরকার, সেটা বলাই বাহুল্য। এখন এনসিপি যেভাবে দায় চাপাচ্ছে তাতে সরকারের যে বিবৃতি তাতে এটার বিপরীতে সেনাবাহিনীর যে বিবৃতি সেটা মেলে না।
সেনাবাহিনীর বিবৃতি, সেখানে যে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেখানে বল প্রয়োগ করা ছাড়া কোনও উপায় ছিল না। এদিকে সরকার নুরুল হোক নূরের বিষয়ে যে বিবৃতি দিয়েছে, তাতে সমস্যা সমাধানের পথে অন্তরায় হতে পারে।
এখন প্রশ্ন, হাসনাত আব্দুল্লাহ বলছেন, সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের উপর যে হামলা ঘটেছে, সেটা একটি ম্যসেজ। তারেক জিয়াকে দেখেছি, মুচলেখা দিয়ে দেশ ছেড়েছে। উনাকে মেরে নৃশংসভাবে তার মাজা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। খালেদা জিয়ার যে পরিণতি হয়েছিল, আমাদের জন্য সেই একই পরিণতি অপেক্ষা করছে। যদি আমরা এই নিয়ম পরিবর্তন করতে না পারি, নিয়ম পরিবর্তনের জন্য যে নাম আমরা দিয়েছি সংস্কার, তার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অর্থাৎ তারা বলতে চাইছে, জুলাই সনদ এবং সংস্কার হলে তবেই এই পরিস্থিতি থেকে তারা বেরোতে পারবে। তবে সংস্কার এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়ন হতে গেলে সংসদ প্রয়োজন। সংসদের বিকল্প হিসেবে তারা বলছে গণ পরিষদ নির্বাচন। এর মাধ্যমে নতুন সংবিধান আনতে হবে। যেটা আবার বিএনপি মানছে না। এবং বলছে বাস্তব সম্মত নয়।
কিন্তু বিষয় হল, কেন হাসনাতরা বলছেন, তারা এরপর মার খাবে? নুরুল হক নূরকে তো আওয়ামী লীগ মারেনি। তাকে তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মেরেছে। তাহলে কি তিনি বলতে চাইলেন, যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে আওয়ামী লীগ শক্তি হিসাবে চালাচ্ছে? এবার তাদের থেকে হাসনাত বা এনসিপি রা মার খাবে? বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইল শৃঙ্খলা বাহিনী কেন তাদের মার দেবেন? তারা তো নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে গোটা বাংলাদেশকে। সেক্ষেত্রে আসলে হাসনাত বা এনসিপি নেতাদের ভয় কোন জায়গায়, সেটাই ঘিরেই রহস্য ঘণীভূত হচ্ছে।












Discussion about this post