তাহলে কী ইননূস রাজত্বের ইতি ঘটতে চলছে? পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশেও ফিরতে চলেছে সেনাশাসন। সপ্তাহের প্রথম কাজের দিন রাজধানী ঢাকা সহ নানা প্রান্তে এই একটা প্রশ্ন ঘোরাঘুরি করছে। তার কারণ রয়েছে। সোমবার প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস এবং সেনা প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বৈঠক করেন। সরকারের তরফে বলা হয়েছে, এটা নেহাতই সৌজন্য সাক্ষাৎ। সূত্রের খবর, বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনার ভূমিকা নিয়ে সবিস্তার আলোচনা করেন। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সেনাবাহিনীর ভূমিকা আরও সুসংগঠিত করা জরুরী। ইতিমধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কামরুল হাসান দেখা করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ইউনূসের সঙ্গে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি জাতির প্রতি অঙ্গীকার করেছি এমন একটি নির্বাচন উপহার দেওয়ার, যা ভোটার উপস্থিতি নতুন ভোটার, সেই সঙ্গে নতুন নারী ভোটারের অংশগ্রহণ, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়ে আস্থা এবং গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের উৎসব মুখর পরিবেশের দিক থেকে পৃথক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।’ এই বৈঠকে যোগ দানের আগে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ইউনূস বলেন, ভোট হবে নির্দিষ্ট সময়ে। ভোটের বিকল্প কিছু নেই।
প্রধান উপদেষ্টাকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তিনি গুজবে কান না দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। রবিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। স্বাভাবিকভাবেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই দুই হাইভোল্টেজ বৈঠক নিয়ে কৌতুহল ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে সেনা প্রধানের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে জল্পনার পারদ ক্রমেই চড়তে শুরু করেছে।
গতকাল বাহিনীর দুই শীর্ষকর্তার সঙ্গে বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকে ঢাকায় শুরু হয়েছে গুঞ্জন। অনেকেরই উদ্বেগ, বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কি সেনা শাসনের দিকে এগোচ্ছে?
এদিকে, সামনেই দুর্গাপুজো। পুজো যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তার দিকে কড়়া নজর রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের। শনিবার রাত থেকে একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছে ২০০ জন। প্রাণ হারিয়েছেন দুজন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর সঙ্গে একটি ছাত্রাবাসের রক্ষীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি বেঁধে যায়। পরে তা সংঘর্ষের আকার ধারণ করে। সংঘর্ষে প্রো ভিসি সহ ১৫০ জখম হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর জখমের সংখ্যা ২০। এলাকায় জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে (যদিও নিউজ বর্তমান সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি।)ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, দুই ছাত্রকে বহুতলের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার আরও সাতটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ইউনূসের বৈঠক করার কথা। সেই বৈঠকের আগে সেনাপ্রধানের সঙ্গে দেখা করলেন অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান। গত রবিবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদীদল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়েতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বৈঠক করেন।
এদিকে, প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন জামায়েত ইসলামি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি। তারা দাবি তোলে এরশাদের জাতীয় পার্টির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার। দুই দলের দাবি, জাতীয় পার্টি হাসিনার ‘পোষা বিরোধী দল’-য়ের ভূমিকা পালন করলেও আসলে তারা স্বৈরাচারীদের দোসর ছিল।
সোমবার ছিল বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল ভাষণ দেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র চলছে। আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী দেশকে অস্থির করে তোলার চেষ্টা চলছে।’
তবে ইউনুসের সঙ্গে আলোচনার পর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন নির্বাচন যথাসময়েই হবে।’ ইতিমধ্যে বাংলাদেশের সুশীল সমাজ আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, ভোট হলেও সেটা হবে একতরফা। হাসিনা গোষ্ঠীর সমর্থকেরা যাতে ভোট দিতে না পারে, তার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাবে ইউনূস সরার।












Discussion about this post