বছর যত গড়াচ্ছে, ততই বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ চড়ছে। হাসিনা গোষ্ঠী সহ দেশের রাজনৈতিক মহল এই ভোট নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এমন প্রশ্ন উঠছে যে ভোট প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেওয়ার একটা ব্লুপ্রিন্ট তৈরি হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ইউনূসের আশ্বাস, ভোট হবে সুষ্ঠু ও অবাধ। সোমবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংস এই তথ্য জানিয়ে বলেন, বৈঠক হবে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায়, বিকেল পাঁচটায় (বাংলাদেশের সময় অনুসারে)। ইউনূস রবিবার বৈঠক করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বাংলাদেশ জামাত-ই-ইসলামি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধানদের সঙ্গে।
যদিও সংস্কার ও জাতীয় নির্বাচন প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মতভিন্নতা কাটেনি। তবে প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট বলেছেন, ফেব্রুয়ারির প্রথম অর্ধেই নির্বাচন হবে। ভোটের কোনও বিকল্প নেই। হতেও পারে না। কেউ যদি নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প নিয়ে চিন্তাভাবনা করেন, সেটা দেশ তথা জাতির ক্ষেত্রে বিপজ্জনক হবে।
বিএনপি জানিয়েছে, আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে তারা অন্তর্বর্তী সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে। সোমবার দলের ৪৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জিয়া উদ্যানের একটি অনুষ্ঠানে দলের মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর এই আশ্বাস দিয়েছেন। ফকরুল বলেন, ‘আমাদের সামনে চ্যালঞ্জ হল আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে দল সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সাহায্য করবে।’ সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, সংস্কার কমিশনগুলো যে সব সংস্কার প্রস্তাব করেছে, সেই সব প্রস্তাব কার্যকর করতে দল সহযোগিতা করবে।
বিএনপিকে বারবার ধ্বংসের চেষ্টা করা হচ্ছে জানিয়ে দলের মহাসচিব বলেন, দলকে নিশ্চিহ্ন করতে ৬০ লক্ষ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দেওয়া হয়েছে। প্রায় ২০ হাজার মানুষকে খুন করা হয়েছে। এত কিছু পরেও বিএনপি বারবার গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আদর্শ নিয়ে দল ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠেছে। আন্দোলন সংগ্রাম নিয়ে তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে বিএনপি সংগ্রাম করছে। তারেক রহমান এই সংগ্রামের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। জনগণ এবং ছাত্র সমাজের আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে হাসিনাকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছি।’
এদিকে, দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান বলেন, সারা দেশে পরিস্থিতি অস্থির হওয়ার পিছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। তিনি তাঁর নিজস্ব ইউটুব চ্যানেলে এই মন্তব্য করেছেন। জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘প্রধান প্রধান উপদেষ্টা আনুষ্ঠানিকভাবে তিনটি বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠক নিয়ে শুরু হয় গুঞ্জন। বৈঠকে তিনি কী বলেছেন, দলগুলি কী প্রতিক্রিয়া দিয়েছে।’ এই বৈঠকের পরে পরেই গুঞ্জন তৈরি হয়, সেনা প্রধান নাকি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই সব খবর ঘিরে নানা জল্পনার তৈরি হয়েছে। অনেকে ভাবতে শুরু করেছেন, প্রধান উপদেষ্টা কি পদত্যাগ করতে চলেছেন? তিনি এর আগেও তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। তাহলে কি সেনা প্রধান এখন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে এই বিষয়ে নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। কেউ বলেছে হয়েছে, কেউ বলছে হয়নি। এই গুজব এবং পরিকল্পিত গোলযোগের পিছনে কুউদ্দেশ্য রয়েছে। মূল উদ্দেশ্য অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানকে দূর্বল দেখানো। যাতে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। জাহেদুরের কথায়, যাঁরা এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছেন, তাঁরা আসলে দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিরুদ্ধে কাজ করছেন। তাই, দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। যদিও বাংলাদেশের সুশীল সমাজ এই আসন্ন নির্বাচন নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান। তাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার মুখে সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বললেও আসলে নির্বাচনের নামে প্রহসন হবে। কমিশনের মূল লক্ষ্য যেভাবেই হোক জিয়াকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা।












Discussion about this post