বছর ঘুরলেই বাংলাদেশে নির্বাচন। রবিবার বিএনপি, জামাত-ই-ইসলামি এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মহম্মদ ইউনুসের । শনিবার এই খবর দিয়েছেন তাঁর প্রেস সেক্রেটারি সাফিকুল আলাম। সাংবাদিক বৈঠকের আগে তাঁর দপ্তর থেকে এক বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্ঘবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে শান্তি ও স্থিতি।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রবল বিরোধিতায় সরব হয়েছে জামাত-ই-ইসলামি, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি। তারা জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন। নির্বাচনের নামে প্রহসন হতে চলেছে। সুষ্ঠু নির্বাচন যাতে কোনওভাবে না হয়, তার পাকা ব্যবস্থা করে রেখেছেন ইউনুস সরকার। জামাত নেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মহম্মদ তাহের জানিয়েছেন, ‘ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু নির্বাচন সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে হলে বেশ কয়েকটি সমস্যার আগাম সমাধান প্রয়োজন। তার মধ্য অন্যতম হল জুলাই সনদের আইনি বৈধতা। জুলাই সনদের ওপর ভিত্তি করে নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সেই জুলাই সনদকে আইনি স্বীকৃতি না দিয়েই নির্বাচন হতে চলেছে। আমি মনে করি এটা নির্বাচন নয়। নির্বাচন যাতে স্বচ্ছ এবং সুষ্ঠুভাবে না হয়, এটা তারই ব্লু প্রিন্ট।‘
তাহের আরও বলেন, ‘ভোট হবে কীভাবে – আগেকার পদ্ধতিতে না কি আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে – সেটা নির্বাচন কমিশন ঘোষণা না করে ভয়াবহ অপরাধ করেছে। ’ তাহের দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, ‘ নির্বাচন যাতে জুলাই সনদের ওপর ভিত্তি করে হয়, তার জন্য আমরা কমিশনের ওপর চাপ তৈরি করব।’
একই বক্তব্য এনসিপির যুক্ত আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই সনদের বিষয়টি নিষ্পত্তি না করেই নির্বাচন কমিশন ভোটের দিনতারিখ ঘোষণা করেছেন। এটা বিশ্বাসভঙ্গের সামিল। অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। সে দেশের একটি প্রথম সারির দৈনিককে দেওয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই সনদের বাস্তবায়নের কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ভোটের দিন তারিখ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এই নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই সনদের বাস্তবায়নের সম্পর্ক রয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম, সরকার নির্বাচনের দিন তারিখ ঘোষণার আগে জুলাই সনদের বিষয়টির নিষ্পত্তি ঘটাবে। সেটা না করায় সমস্যা আরও ঘনীভূত হবে। আর তার দায় সরকারকে নিতে হবে।’
এদিকে, ইউনুস গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ভোট হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়েই হবে। অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে সাধারণ নির্বাচন। তিনি বলেন, ‘ভোটের বিকল্প কিছু হতে পারে না। কেউ যদি মনে করেন অন্য বিকল্প কিছু আছে, তাহলে সেটা হবে ধ্বংসাত্মক। ’ ইউনুসের প্রেস সচিব শাফিকুল আলাম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান গতকাল পৃথকভাবে বিএনপি, জামাত-ই-ইসলামি, ন্যাশনাল পার্টির প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিএনপি বলেছে, নির্ধারিত সময়েই ভোট করাতে হবে। ভোটের দিনক্ষণ কোনওভাবেই পিছিয়ে দেওয়া যাবে না।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post