বছর ঘুরলেই বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। এই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে ভারত, তাকিয়ে রয়েছে আমেরিকা ও তার মিত্রদেশ। অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ইউনূস জানিয়েছেন, ভোট হবে স্বচ্ছ এবং অবাধ। যদিও তাঁর এই আশ্বাস নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এমনিতে বাংলাদেশের আর্থ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ টলমল। কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিয়েছ মার্কিন শুল্ক। ট্রাম্প প্রশাসন ঢাকার ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে। ইউনূসের ক্ষমতা নেই ট্রাম্পের মুখের ওপর না বলার। এদিকে, সেদেশর বণিকমহল হোয়াইট হাউজের এই সিদ্ধান্তে রীতিমতো অসন্তুষ্ট।
বাংলাদেশ জারমেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্ট অ্যাশোশিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি রুবানা হক জানিয়েছেন, ‘এই শুল্ক বহাল থাকলে দেশের আর্থিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে। পোশাক রফতানিতে ভিয়েতনামকে শুল্ক দিতে হয় ২০ শতাংশ। সে ক্ষেত্রে আমাদের দিতে হবে ৩৫ শতাংশ। আমরা এখনও জানি না বর্তমানে ১৬ শতাংশ শুল্ক এর সঙ্গে যুক্ত হবে কি না। যদি হয় তাহলে পরিস্থিতি আরও সঙ্কটজনক হয়ে উঠবে। আমরা জানি না সরকার এই নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে কোনও আলোচনা করেছে কি না বা আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না। তবে আমরা মনে করি, এখনও আলোচনার সময় রয়েছে। আমি শুনেছি, সরকারের নীতি নির্ধারকেরা আমেরিকা যাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা অপেক্ষায় রয়েছি।’
সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের এগজিকিউটিভ ডাইরেক্টর ফাহমিদা খাতুন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘৩৫ শতাংশ মার্কিন শুল্ক বাংলাদেশের ওপর আরোপ করায় আন্তর্জাতিকবাজারে টিকে থাকা বেশ মুশকিল হয়ে পড়বে। ব্যবসা, বিশেষত রপ্তানি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কাছে এটা বিরাট বড় চ্যালেঞ্জ।’ ফাহমিদ খাতুনের মতে, এর প্রভাব অন্যান্য ক্ষেত্রেও পড়বে। ব্যাংকিং পরিষেবা, বীমা ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়বে। ঢাকা বণিকসভার প্রাক্তন সভাপতি আসিফ ইব্রাহিমও একই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পণ্যের সব থেকে বড় বাজার হল আমেরিকা। দেশের মোট উত্পাদিত পোশের ২০ শতাংশ রফতানি হয় আমেরিকায়। মুক্ত বাণিজ্যের সুবিধে তুলে দেওয়ায় বাংলাদেশ এমনিতেই চাপে রয়েছে। নতুন করে শুল্ক আরোপের ফল রফতানি হ্রাস পাবে। প্রতিযোগিতার বাজারে ঢাকার পক্ষে টিকে থাকা বেশ কঠিন হয়ে পড়বে। ’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পোশাক রপ্তানিকারক জানিয়েছেন, ‘সরকারের হাতে আরও তিন মাস সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ইউনুস সরকার সমাধানসূত্র বের করতে না পারলে, সেটা সরকারের ব্যর্থতা হিসেবেই ধরে নিতে হবে।’
বাংলাদেশে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র যে সব পোশাক পণ্য রপ্তানি করেছে, সেগুলিতে শূন্য থেকে সর্বোচ্চ ৩২ % পর্যন্ত শুল্ক ছিল। পোশাক রপ্তানিতে কার্যকর গড় শুল্কহার ছিল ১৬.৭৭। নতুন পাল্টা শুল্ক যুক্ত হলে বাংলাদেশের পোশাক পণ্যে কার্যকর গড় শুল্কহার হবে ৩৬.৭৭%। যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ শিডিউল অনুসারে, ম্যান মেড ফাইবার দিয়ে তৈরি সোয়েটারের ওপর শুল্কহার ৩২ শতাংশ। বাংলাদেশ সহ বেশিরভাগ দেশের জন্য এই শুল্কহার প্রযোজ্য। এখন এই সব পণ্য রপ্তানি করলে মোট শুল্কহার হবে ৫২ শতাংশ। অন্যদিকে, তুলোর সুতো দিয়ে তৈরি সোয়েটারে এখন শুল্ক হার ১৬.৫০%। পাল্টা শুল্ক যুক্ত হলে তা বেড়ে হবে ৩৬.৫০%। পোশাক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে জুতো রপ্তানিতে কার্যকর গড় শুল্কহার ছিল সা়ড়ে ৮ শতাংশ। পাল্টা শুল্ক আরোপের ফলে কার্যকর গড় শুল্ক বেড়ে দাঁড়াতে পারে ২৮.৫০%। চামড়াজাত পণ্যে গত বছর কার্যকর গড় শুল্কহার ছিল ১২.২০ %। পাল্টা শুল্ক কার্যকর হলে তা বেড়ে হবে ৩২.২০ %। চামড়ার পণ্যভেদে শূন্য থেকে ২০ % শুল্ক রয়েছে। চামড়ার হাতব্যাগের ওপর বর্তমান শুল্কহার ৯ %। পাল্টা শুল্ক আরোপের ফলে এই শুল্কহার বেড়ে দাঁড়াবে ৩১ %।
মার্কিন সিদ্ধান্ত কড়া নিন্দা করেছে বণিকমহল। আসিফ হাক জানিয়েছেন, ‘আমদানি শুল্ক সাধারণভাবে আমদানিকারীরাই বহন করে। এই সুযোগে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকেরা বিভিন্নরকম ছাড় দাবি করবে। ’












Discussion about this post