ক্ষমতায় ফিরতে আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান। তার অঙ্গ হিসেবে এবার বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার আশ্বাস দিল তদারকি সরকার।
চিফ প্রসিকিউটর মহম্মদ তাজমুল ইসলাম বলেন, ২০২৬-য়ের ফেব্রুয়ারি মাসের আগেই বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালে হাসিনার বিরুদ্ধে চলা একাধিক মামলার নিষ্পত্তি হবে। সে দেশের একটি সংবাদসংস্থার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে চিফ প্রসিকিউটার বলেন, বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া চ্যালেঞ্জের বিষয়। তবে খুব দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া জনসাধারণের কাছে আরও স্পষ্ট হবে।
তাঁর কথায়, ‘গত বছর জুলাই-অগাষ্টের আন্দোলনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে ঘটনা ঘটেছিল, তার সঙ্গে অনেক পুলিশকর্মী জড়িত। তাই, বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বাধা ছিল। ’
চিফ প্রসিকিউটরের দাবি, যেহেতু অনেক পুলিশকর্মী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল তাই, তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নষ্ট হয়েছে। তারপরেও তদন্তে উল্লেখযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আন্তর্জাতিকমানের সঙ্গে মিলিয়ে বিচার হচ্ছে। তাই, এই বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে কারও প্রশ্ন তোলার অবকাশ থাকছে না।’
বর্তমানে বিচারপ্রক্রিয়া কোন পর্যায়ে রয়েছে জানতে চাওয়া হলে মহম্মদ তাজমুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে সাক্ষ্য গ্রহণ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন ভিডিও, কলরেকর্ড, ফরেন্সিক রিপোর্ট আদালতে জমা পড়েছে।’
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ইউনূস আগেই জানিয়েছিলেন, রমজান শুরুর আগে ২০২৬-য়ের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদের নির্বাচন। সেই মতো প্রস্তুতিও চলছে। শনিবার জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ইউনূস সরকার একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। সেই বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনের ব্যাপারে দেশবাসীর কাছে অন্তর্বর্তী সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। নির্বাচন বানচাল অথবা বিলম্বিত করার যাবতীয় প্রচেষ্টা সরকার প্রতিহত করবে।
মহম্মদ তাজমুল ইসলামের এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের হাসিনা যাতে কোনওভাবেই আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারে, তার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিচারপ্রক্রিয়া কতটা নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়েও তাদের প্রশ্ন রয়েছে। রাজনৈতিকমহলের মতে, হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা অনেক আগেই দায়ের হয়েছিল। বিচারপক্রিয়া চলছিল ঢিমে তালে। আচমকাই অন্তর্বর্তী সরকার এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব) জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী সোমবার জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে কাজে লাগানো হবে। এদিন দুপুরে সিলেট জেলা প্রশাসন কক্ষে পুলিশ, বিজিবি, আনসার, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ দফতর, কৃষি মন্ত্রকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অবসরপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এই মন্তব্য করেন। জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী বলেন, ভোটের ক্ষেত্রে আনসারের ভূমিকা সব চেয়ে বেশি। প্রতিটি কেন্দ্রে ১০ জন করে আনসার রাখা হবে। প্রিসডাইডিং অফিসারের জন্য থাকবেন একজন আনসার। প্রতি কেন্দ্রে পুলিশ থাকবে দুই থেকে তিনজন। থাকবে সেনাবাহিনীর মোবাইল টিম, বিজিবি, এবিপিএন। শুধু সেনা নয়, আগামী ভোটে নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীকেও কাজে লাগানো হবে।
এত কিছুর পরেও একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বাংলাদেশে কি আদৌ সুষ্ঠ নির্বাচন হবে? বিরোধীরা কী স্বেচ্ছায় ভোট দিতে পারবেন? ভোট অবাধ এবং সুষ্ঠ হবে কি?
ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানের পর থেকে এখনও ৮১জন পুলিশ কর্মী পলাতক। এই বিষয়ে জাহাঙ্গির আলমের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে যে ব্যবস্থা নেওয়ার সেটা করা হবে। এর আগে চার হাজারের মতো ট্রেনিং করে যোগ দিয়েছেন। এখন একটি ব্যাচ প্রশিক্ষণে রয়েছে। আরও একটি ব্যাচের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ’












Discussion about this post