খেলাধুলোর জগতের ডোপ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। কেন বা কীসের জন্য সব অ্যাথলিটদের এই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক, তা সকলেরই জানা। তাই বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্বাচনেও প্রার্থীদের ডোপ পরীক্ষায় বসতে হবে। শুনতে খটকা লাগলে এমনই কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ৩৫ বছর পর আগামী ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হত চলেছে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। এই ভোটের জন্য কমিশন ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করেছে। রিপোর্ট পজিটিভ হলে তাঁর প্রার্থীপদ বাতিল হবে। যদিও বাতিলের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী।
এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করতে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মুনির উদ্দিন বলেন, ‘মনোনয়নপত্র নেওয়ার সময় প্রত্যেক প্রার্থী ডোপ পরীক্ষার জন্য একটি কার্ড পাবেন। ওই কার্ড নিয়ে প্রার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে মুত্রের নমুনা জমা দিতে হবে, যা পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হবে। পরীক্ষার ফলাফল জানাবেন মেডিকেলের প্রধান কর্তা। পরীক্ষার যাবতীয় খরচ প্রার্থীকেই বহন করতে হবে। রিপোর্ট পজিটিভ হলে প্রার্থীপদ বাতিল হয়ে যাবে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন।‘
কী কারণে এই সিদ্ধান্ত, সে বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সবিস্তারে কিছু জানাননি। তবে মনে করা হচ্ছে সাম্প্রতিক অতীতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক বিভাগের একটি ঘটনার নিরিখে কমিশন এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি বছর অগাস্টে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক পদে দুই প্রার্থী গোলাম রব্বানি এবং ড. ইমরুল আসাদ ডোপ পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ হওয়ায় তাঁদের নিয়োগ করা হয়নি। যদিও অভিযুক্ত দুই জন লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষায় ভালোভাবেই উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। সেই ঘটনার নিরিখে নির্বাচন কমিশনের এই বেনজির সিদ্ধান্ত।
পাশাপাশি নির্বাচন ঘিরে এক গুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেই সব নির্দেশিকার মধ্য রয়েছে – মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ ও দাখিলের সময় কোনওরকম মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না। মনোনয়নপত্র দাখিল এবং প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের সময় অন্য কোনও ব্যক্ত বা ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা অন্য কোনও সংগঠনের কেউ কোনও প্রকার বাধা বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা যাবে না। প্রার্থীকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে হবে।
প্রচারের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন। সময় সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। তবে রাত নটার পর কোনওরকম মাইক ব্যবহার করা যাবে না। সামাজিক মাধ্যমেও প্রচার চলতে পারে। তবে আইন মেনেই তা করতে হবে। কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা যাবে না। গুজব ছড়ানো, উস্কানিমূলক মন্তব্য, মিথ্যে আশ্বাস দেওয়া যাবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্যাথল্যাবের উদ্বোধন হয়েছে। গত ২৫ অগাস্ট এই প্যাথল্যাবের উদ্বোধন করেন প্রো ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা)ড. মহম্মদ শামিম উদ্দিন খান, প্রো ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন। অন্য বিশিষ্টবর্গদের মধ্যে প্রফেসর ড. মহম্মদ আল আমিন, ড. মহম্মদ গোলাম কিবরিয়া, অধ্যাপক এনাউল্লা পাটওয়ারি, অধ্যাপক শাদাত হোসেন, চিফ মেডিক্যাল অফিসার আবু তায়েব।
মহম্মদ শামিম উদ্দিন জানিয়েছেন, ‘মেডিকেলের আধিকারিকদের প্রধান দায়িত্ব হবে নিয়ম করে ছাত্রদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা। প্রয়োজন বোধ করলে তাদের বড় হাসপাতালে পাঠানোর সুপারিশ করতে পারেন। পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেই এই প্যাথল্যাব খোলা হয়েছে। আগামীদিনে এই প্যাথল্যাবটিকে একটি মেডিক্যাল সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।’
অধ্যাপক কামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, ‘প্যাথল্যাবে রয়েছে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। প্রত্যেক পড়ুয়ার কাছে আমাদের অনুরোধ, তারা তাদের চিকিত্সা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্যাথল্যাবেই করুক। চিকিত্সার খরচ খুব কম। ’
বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্যাথল্যাব চালু হওয়ায় পড়ুয়া থেকে অভিভাবক সকলেই খুশি। তাদের বক্তব্য, নানা ধরনের শারীরিক পরীক্ষার জন্য এবার আর তাদের বেসরকারি প্যাথল্যাবে যেতে হবে না। ক্যাম্পাসেই মিলবে পরিষেবা।












Discussion about this post