বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এখন সাপে নেউলে। ইতিমধ্যে ঢাকার সঙ্গে রফতানি বন্ধ করছে সাউথ ব্লক। আর তার জেরে ঢাকা তাদের তিনটি স্থলবন্দর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনটি বন্দর হল চিলাহাটি, দৌলতগঞ্জ, তেগামুখ। হবিবগঞ্জের বাল্লা স্থলবন্দরে পণ্য ওঠা-নামা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সূত্রের খবর, সরকার মনে করছে এই সব বন্দরের খরচ বহন করার অর্থ বাড়তি বোঝা। ইউনূস সরকারের মতে, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য এখন তলানিতে। তাই বাড়তি বোঝা বহন করার কোনও মানে হয়না। তিনটি স্থলবন্দরের মধ্যে দুটি পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে। বাংলাদেশ সরকারের নিযুক্ত একটি কমিটি ১০ মাস আগে এই বন্দরগুলিকে অকার্যকর এবং অলাভজনক বলেছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস সেক্রেটারি শপিকুল আলম বলেন, পরিকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। সেই সঙ্গে কমেছে বাণিজ্য। তাই, তিনটি স্থলবন্দর আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বন্দর চালু রাখতে হলে কর্মী নিয়োগ করতে হবে। খরচ বাড়বে। বাণিজ্য যেখানে নেই, সেখানে সরকার বাড়তি খরচ করতে নারাজ। ওই তিন স্থলবন্দর ছাড়াও সে দেশের আরও কয়েকটি স্থলবন্দর প্রায় বন্ধের মুখে। ওই সব বন্দরে পণ্য ওঠা-নামার কাজ হচ্ছে না বললেই চলে। ওই সব বন্দর চালু রাখতে হলে সরকারকে আরও টাকা ঢালতে হবে।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রেস সেক্রেটারি বলেন, ‘দেশের অধিকাংশ স্থলবন্দরে পণ্য ওঠা-নামার জন্য সরকার থেকে সবুজ সংকেত মিলেছে। কিন্তু পরিকাঠামো হত সমস্যা, পণ্য রপ্তানি তলানিতে চলে যাওয়ায় বন্দরগুলি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। ওই সব বন্দর চালু রাখতে হলে অর্থের প্রয়োজন। দরকার কর্মী নিয়োগ। এতে সরকারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে। জণগনের টাকা খরচ করতে হবে।’
পূর্বতন শেখ হাসিনা সরকারকে নাম না করে খোঁচা দিয়েছেন শফিকুল। বলেন, ‘অতীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় সীমান্ত এলাকায় স্থলবন্দরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেখানে আশানরূপ বাণিজ্যিক কার্যক্রম গড়ে ওঠেনি। ফলে, এগুলি প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই শেষ হয়ে আসছে।’
যে বন্দরগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, বাণিজ্যিক লেনদেন চালানোর প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নেই বলেই দাবি ইউনুস সরকারের। একমাত্র হবিবগঞ্জের স্থলবন্দরটিতে পরিকাঠামো নির্মিত হয়েছিল। যদিও নৌ পরিবহণ মন্ত্রকের দাবি, ওই বন্দরের ভারতীয় অংশে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নেই। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব রয়েছে। ফলে পণ্য ওঠা-নামা আপাতত স্থগিত রাখাই বাঞ্ছনীয়।
যদিও রাজনৈতিকমহল মনে করছে, দিল্লির এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ইউনুসের সাম্প্রতিক একটি বিবৃতি। সাম্প্রতিক চিন সফরকালে ইউনুস বলেন, উত্তর-পূর্ব ভারত সম্পূর্ণভাবে স্থলবেষ্টিত। গোটা অঞ্চল বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ হল এই অঞ্চলের সাগর রক্ষক। এখানেই শেষ নয়। চিন সফরে গিয়ে সে দেশের সঙ্গে আমদানি-রফতানিরও প্রস্তাব দেন অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান। ইউনুসের এই বিতর্কিত মন্তব্যের জেরেই দিল্লি ঢাকার সঙ্গে আপাতত পণ্য আমদানি-রফতানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মোদির এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার রীতিমতো ফুঁসছে। অসন্তুষ্ট সে দেশের বণিকমহল। তাদের মতে, ইউনুসের আলটপকা মন্তব্যের জেরে ভুগছে সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ী শিল্পপতিরা। স্থল বন্দর দিয়ে ঢাকার সঙ্গে দিল্লির একাধিক পণ্য লেনদেন চলে। ভারতের রফতানির পাশাপাশি নেপাল বা ভূটানে পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ এই স্থলবন্দর ব্যবহার করে থাকে। চলতি বছরের মে মাস থেকে ভারত সরকার স্থলপথে বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। বলা হয়, বাংলাদেশের রেডিমেড পোশাক, ফল, সুতো, কাঠের আসবাবের মতো পণ্যগুলি স্থলবন্দর দিয়ে আর ভারতে প্রবেশ করতে পারবে না। তবে তিনটি স্থলবন্দর বন্ধ করে দেওয়া ভারতের ওপর তেমন কোনও প্রভাব পড়বে না বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
অন্তর্বর্তী সরকারের এই সিদ্ধান্তে নানা মহল থেকে প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে। তুষার দাস নামে এক নেটনাগরিক জানিয়েছেন, চাল রফতানি বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশ না খেয়ে মরবে।












Discussion about this post