২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। ওই দিন এক সাজানো গণঅভ্যুত্থানের জেরে পতন হয় শেখ হাসিনা সরকারের। সেই ঘটনার এক বছর পর এসে জানা যাচ্ছে জুলাই বিপ্লব ও গণঅভ্যুত্থানের পিছনে হাসিনা সরকারের তিন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যেরও হাত ছিল। শেখ হাসিনা সরকারের তিনজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীকে মার্কিন ডিপ স্টেট নিজেদের কাজে লাগিয়েছিল বলে দাবি সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের। ভারতের নর্থ ইস্ট নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গণঅভ্যুত্থান পূর্ববর্তী ওই তিন মন্ত্রীকে আওয়ামী লীগ সরকারের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য বিশেষভাবে পরিচালিত হয়েছিল। মূলত পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্প উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আরাফাতের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট রাতে ঢাকার সদরঘাট এলাকা থেকে রহস্যজনকভাবে সালমান এফ রহমান এবং আনিসুল হককে একসাথে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অপরদিকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আরাফাতের অবস্থান সম্পর্কে কোনও তথ্য নেই সরকারের কাছে। মনে করা হচ্ছে তিনি অন্য দেশে পালিয়ে গিয়েছেন। বিগত আওয়ামী লীগের আমলে বিভিন্ন সূত্রকে উদ্ধৃতি করে ওই সংবাদপত্রে দাবি করা হয়েছে, রহমান, হক এবং আরাফাত এমনভাবে কাজ করেছিলেন যা সাধারণভাবে সরকারের এবং বিশেষ করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর “স্বার্থের ক্ষতি হয়। এমনকি হাসিনা সরকারের এক শীর্ষ মন্ত্রী ওই সংবাদপত্রকে জানিয়েছেন, সালমান এফ রহমান ওরফে ‘দরবেশ’- মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছিলেন। এই বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছিলেন। ওই প্রাক্তন মন্ত্রী আরও দাবি করেছেন যে, দরবেশ কার্যকরভাবে সরকারি কাজে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা থেকে কার্যত আমাদের “বন্ধ” করে দিয়েছিলেন। ফলে বাংলাদেশের তৎকালীন গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে তাঁরা অবহিত থাকলেও তা দলনেত্রীর কাছে পৌঁছে দিতে পারেননি। এর ফল ভুগতে হয়েছে দলকে, শেখ হাসিনাকে।
ক্ষমতাচ্যুত হাসিনার ঘনিষ্ঠ একজন আওয়ামী লীগের নেতা দাবি করেছেন, ওই তিনজন প্রাক্তন মন্ত্রী ছাড়াও বেশ কয়েকজন বাংলাদেশেই নয়, বিদেশে গিয়েও বারবার মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আর এই বৈঠকগুলি চলছিল ২০২৩ সাল থেকেই। তাঁরা মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগে ছিলেন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, হাসিনা যদিও কখনও সন্দেহ করেননি যে এই তিনজন তার এবং সরকারের সাথে “বিশ্বাসঘাতকতা” করছেন, কিন্তু এখন তিনি এই তিনজনের ভূমিকার সাথে ভালোভাবে পরিচিত। আওয়ামী লীগের ওই সুত্রগুলি দাবি করেছে, ২০১৮ সালে নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মার্কিন ডিপ স্টেট বাংলাদেশের দিকে নজর ঘোরায়। কিন্তু ২০২৩ সালের এপ্রিল-মে মাসে যখন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এবং ঢাকায় তাঁদের প্রতিনিধি, তৎকালীন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু বাংলাদেশে “অবাধ ও সুষ্ঠু” নির্বাচন নিয়ে প্রকাশ্য সমালোচনা করেন। মনে করা হচ্ছে, সেটাই ছিল হাসিনা সরকার পতনের গোড়াপত্তন। যদিও এই বিষয়ে ২০২২ সালের ২ জুন ভারতীয় কেন্দ্রীয় সংস্থার একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশ করছিল। তাতে বলা হয়েছে, “মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস, যিনি বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার কথা ক্রমাগত মনে করিয়ে দিচ্ছেন, তিনি হাসিনার সরকারকে পতনের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রয়েছেন বলেও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছিল ওই গোয়েন্দা রিপোর্টে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে, যখন হাসিনা তার শেষ সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যান, তখন তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে আমেরিকান ‘গভীর রাষ্ট্র’ তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে চায়। কিন্তু ক্রমাগত হাসিনার তিন ঘনিষ্ট মন্ত্রী তাঁকে ভুল বুঝিয়ে গিয়েছিলেন। ফলে তিনি ধরতেই পারেননি এত বড় চক্রান্ত চলছে তাঁর বিরুদ্ধে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post