গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনা কি পরিকল্পিত কোনও ষড়যন্ত্র? এমনই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক আঙিনায়। সম্প্রতি নুরুল হক নূরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল নূরের স্ত্রী দাবি করেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আট বছরেও আমার স্বামীর ওপর এত নৃশংস ও ন্যক্কারজনক হামলা হয়নি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত স্বামীকে দেখতে এসে নুরুল হক নূরের স্ত্রী মারিয়া সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, বর্তমানে ফ্যাসিস্টমুক্ত দেশে প্রশাসনের সময়ে এ ধরনের ভয়ঙ্কর হামলা হবে তা ছিল কল্পনাতীত।
অপরদিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকেও বিবৃতি জারি করে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা নুরুল হক নূরের ওপর হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশের জনগণকে আশ্বস্ত করছে যে, এই নৃশংস ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও নেতা সারজিস আলম আহত নূরকে দেখতে হাসপাতালে যান। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এমন একটা দিন দেখতে হবে আমরা তা কল্পনাও করিনি। এটা খুবই উদ্বেগজনক। গণঅভ্যুত্থানের দৃষ্টান্তকে কলঙ্কিত করতেই এই ধরণের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলেই দাবি করেন নাহিদ।
নুরুল হক নূরের ওপর হামলা এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কি ভয় পেয়ে গেল? সে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার যে দাবি উঠছে, তা নিয়ে সমস্যায় পড়তে চলেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যদিও সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে, জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে কোনও ভাবনাচিন্তা হয়নি। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর ইউনূস সরকারের উপর আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে। এতদিন ভারতই শুধু এই ব্যাপারে কথা বলতো, এখন ইউরোপীয় দেশগুলি থেকেও চাপ আসতে শুরু করেছে। এর পর যদি দাবি উঠতেই জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করা হয়, তাহলে সেই চাপ আরও বাড়বে। সরকার যে চাপে, তার প্রমান মঙ্গলবারই সাতটি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে বৈঠকে বসতে চলেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। জানা যাচ্ছে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। রবিবার তিনি বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। মঙ্গলবার আরও সাতটি দলের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। তবে কোন সাতটি দলের সঙ্গে বৈঠক হবে, তা এখনও জানা যায়নি।
অপরদিকে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও এই বৈঠক নাকি এর পিছনে অন্য কোনও বিষয় আছে, তা স্পষ্ট নয়। বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল যদিও দাবি করলেন, সেনাপ্রাধান ওয়াকার উজ জামানের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির বৈঠক নিয়ে কোনও তথ্য তাঁর কাছে নেই, এটা গুজব। যদিও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের বৈঠকের কথা তিনি স্বীকার করেছেন।
অনেকেই দাবি করছেন, নূরের উপর হামলার ঘটনাকে হাতিয়ার করে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চাইছেন মুহাম্মদ ইউনূস। সেই কারণেই তিনি প্রথমে জামাত, এনসিপি ও বিএনপির সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর সাতটি ছোট ছোট রাজনৈতিক দলকে ডেকে বৈঠক করছেন। আসলে মুহাম্মদ ইউনূস ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের দাবি করে এলেও জামাত ও এনসিপি তা চায় না। এখানেই আশঙ্কা করছেন অনেকে।












Discussion about this post