বাংলাদেশে দিনে দিনে আওয়ামী লীগের মিছিলের বহর বেড়েই চলেছে। বিগত এক মাসে রাজধানী ঢাকা সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঝটিকা মিছিল বের করে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে চাপে ফেলছে কার্যত নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ। রবিবার রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি ২৭ নম্বর মূল সড়কে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ মিলে একটি ঝটিকা মিছিল করেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রাথমিকভাবে ওই মিছিলে একশো থেকে দেড়শো মানুষ ছিলেন। কিন্তু পরে পথ চলতি মানুষজনও সেই মিছিলে যোগদান করেছেন। ফলে অচিরেই মিছিলে প্রায় আড়াই-তিনশো লোক জড়ো হয়ে যায়। স্থানীয়দের আরও দাবি, ওই মিছিলে একটি ককটেল বোমাও ফেটেছে। তবে কে বা কারা ওই বোমা ছুঁড়েছিল তা জানা যায়নি। প্রসঙ্গত, গত ৩১ আগস্ট দুপুরের দিকে ঢাকায় এমনই একটি মিছিল করে আওয়া্মী লীগ। বিভিন্ন পোস্টার ও ব্যানার হাতে মিছিল নিয়ে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের মূল সড়কে মিছিলটি হয়েছিল। রবিবার ওই একই জায়গায় ফের মিছিল করে আওয়ামী লীগ বুঝিয়ে দিল তাঁরা কোনও অংশে কম যায় না। ধানমন্ডি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি ক্যশৈন্যু মারমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, বেশ স্বতঃস্ফুর্তভাবে মিছিলটি হয়েছে। মিছিল যত এগিয়েছে, ততই পথ চলতি মানুষজন উৎসাহের সঙ্গে মিছিলে যোগ দিয়েছেন। রাস্তার ধার থেকেও জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় শেখ হাসিনা স্লোগান দিয়েছেন সাধারণ মানুষ। পথে মোটর বাইক বা গাড়ি থামিয়েও মানুষজন মিছিলকে উৎসাহ দিয়েছেন। চুম্বকে এটাই মূল বৈশিষ্ট। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত, যত দিন যাচ্ছে ততই আওয়ামী সভ্য সমর্থকদের সাহস বাড়ছে। এর কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের আমলে বাংলাদেশে বেকারত্ব বেড়েছে, বন্ধ হয়ে গিয়েছে বহু কলকারখানা। সেই সঙ্গে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও আনাজপাতির দামও আকাশ ছুঁয়েছে। সাধারণ খেঁটে খাওয়া মানুষজনের নিভিশ্বাস ওঠার জোগার। ফলে তাঁরা এখন বুঝতে পারছেন, শেখ হাসিনাকে সরিয়ে তাঁরা ভূল করেছেন। ফলে আওয়ামী লীগের মিছিলে দিনে দিনে বাড়ছে। অন্যদিকে ইউনূসের বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা অব্যাহত। ঢাকার পাশাপাশি শনিবার রাত থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে। এই সংঘর্ষের জেরে কয়েকজন শিক্ষার্থী যেমন আহত হয়েছেন তেমনই আহত হয়েছেন সহ-উপাচার্য। রবিবার দুপুর ৩টে থেকে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। অর্থাৎ, বেআইনি জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত করেছেন কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, বাংলাদেশে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি তুলতে শুরু করেছে জামায়তে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি। যা নিয়ে ক্রমশ উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। এই দুই দলের দাবি, জাতীয় পার্টি শেখ হাসিনার ‘পোষা বিরোধী দল’-এর ভূমিকা পালন করে আসছে। ঠিক এই আবহেই আওয়ামী লীগের একের পর এক সাহসী মিছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ইউনূস ও তাঁর দোসররা বুঝতে পারছেন, আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা দিনে দিনে বাড়ছে।












Discussion about this post