নানা মহলে চলছে আলোচনা, হঠাৎ করে সেনাপ্রধান কেন এত সক্রিয় হয়ে উঠলেন। তবে কি ইউনূসের হাতে সময় কম। কখনও কখনও মনে হয় ইউনূস সর্বময় কর্তা। আবার কখনও কখনও মনে হয় তাকে বাঘ বানিয়ে রাখা হয়েছে, আসলে সেনা যখন চাইবে তখন তিনি বাঘ,আর সেনা যখন চাইবে তিনি বেড়াল হয়ে থাকুন তখন তিনি বাঘের মাসি মানে ঐ বেড়াল আর কি।হাসিনা বিদায়ের পর থেকে অনেক বার সেনার সঙ্গে ছাত্রদের বাকযুদ্ধ হয়েছে। কিন্তু কখনই সরকার প্রধান সেনার বিরুদ্ধে সরাসরি মুখ খুলেন নি। কিন্তু নুরুল হক নুরকে নিয়ে সেনা এবং সরকার প্রধানের বিবৃতিতে দেখা যায় অন্য গল্প। যদিও সেনা প্রধানের সক্রিয়তায় পিছু হটতে হয়েছে সরকারকেই। নুরুল হক নুরের প্রতি আক্রমনের ঘটনায়, সরকারের প্রথম বিবৃতিতে ছিল সেনার প্রতি পচ্ছন্ন হুমকি। কিন্তু একদিনেই ভোল পাল্টে সরকার সেনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে ওঠে। শুধু তাই নয় সেনাদপ্তরে যে সমস্ত রদবদলগুলি এতদিন আটকে রাখা হয়েছিল, সেগুলিও সেনাপ্রধানের ইচ্ছা অনুযায়ী সম্পন্ন করা হয়েছে। অর্থাৎ যে গুঞ্জন চলছে তাকে একেবারে উড়িয়ে দিতে পারছে না বিশেষজ্ঞ মহল। অনেকেই মনে করছেন এই সরকারের হাতে দুই সপ্তাহ সময় রয়েছে, তার মধ্যে সরকারকে করতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।আর এই শর্তেই টিকবে ইউনূসের অন্তবর্তী সরকার। তবে ইউনূসও কম খেলোয়াড় নন, তিনি যখনই বিপদে পড়েন তখন তার পেটোয়া কিছু রাজনৈতিক দলগুলিকে নিয়ে তিনি সর্বদল বৈঠক করেন আর সেখানে আবেগ এবং তার বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে নিজের কাজ হাসিল করার চেষ্টা করেন। যদিও এবার হয়তো তার এই অন্য দলগুলিকে বোকা বানানোর পক্রিয়াটি কাজে আসবে না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তিনিও এটি বুঝেছেন তাই সেনার পছন্দ মত রদবদলের কাজ শুরু করেদিয়েছেন। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল হয়েছে। দুজন কর্মকর্তাকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বগুড়ার এরিয়া কমান্ডার ও জিওসি মেজর জেনারেল আসাদুল হককে নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভারের এরিয়া কমান্ডার হিসেবে বদলি করা হয়েছে । ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পদাতিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহমেদকে বগুড়ার জিওসি করা হয়েছে।কুমিল্লার জিওসি মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিককে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পদাতিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সেনা কল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল হাবিব উল্লাহকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। মিলিটারি অপারেশনসের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজিম-উদ-দৌল্লাকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে কুমিল্লার জিওসি করা হয়েছে।আর সেনা সদরের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেনকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে সেনা কল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে আপতত পতন ঠেকাতে সেনাদপ্তরের সাথে সমঝোতার পথেই হাঁটছেন ইউনূস। শুধু সেনাদপ্তরে রদবলই নয়, একদিনের মধ্যে সেনাকে নিয়ে সরকারের বিবৃতিও বদলে দিয়েছে সরকার। নুরুল হক নুরের আহত হওয়ার ঘটনায়, সেনা দপ্তর আইএসপিআর থেকে জানানো হয়েছিল, মব নিয়ন্ত্রন এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে, এই বিবৃতি দিয়ে নরুল হক নুরের আহত হওয়ার ঘটনাকে জাস্টিফাই করেছিল সেনাদপ্তর। ঠিক একদিন পরই সরকারের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে উল্টো দাবী করা হয়। সরকারের তরফে জানানো হয় নুরের উপর আক্রমনের ঘটনায় সরকার শুধু নিন্দাই জানায়নি, বিচার বিভাগিয় তদন্তের নির্দেশও দিয়েছে। একদিকে রাখাইন করিডর নিয়ে সরকারের সঙ্গে সেনার দুরুত্ব তৈরী হয়েছিল, বর্তমান সময়ে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচনে সহিংস্রতা থামাতে গিয়ে দিশেহারা সরকার, তখন আবার সেনার বিরুদ্ধে উপদেষ্টা সহ বিভিন্ন সরকারী আধিকারিকদের হামলা। এই পরিস্থিতিতে সেনাপ্রধান দেশের প্রধান বিচার পতির সঙ্গে বৈঠক করার পর আরও চাপে পড়ে যায় তদারকী সরকার। ইউনূস বুঝতে পারেন পরিস্থিতি আয়ত্বের বাইরে চলে যাচ্ছে। তখনই সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। আর সেই বৈঠক নিয়ে সরকারের তরফ থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হয় তাতেই সেনার কাজকর্ম নিয়ে উচ্ছ্বসিত ইউনূস প্রশাসন। অর্থাৎ দু-দিন আগের অবস্থান থেকে পুরোপুরি পাল্টি খায় ইউনূস সরকার।












Discussion about this post