এক বিরলতম দৃশ্যের সাক্ষী রইল গোটা বিশ্ব। একই মঞ্চে দেখা গেল আন্তর্জাতিক রাজনীতির তিন হেভিওয়েট নেতাকে – প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে। চিনের তিয়ানজিনে এসসিও সামিটের ফাঁকে তারা পৃথক বৈঠক করেন। তাদের এই বৈঠক ঘুরিয়ে ট্রাম্পকে বার্তা দেওয়ার সামিল। মার্কিন কূটনীতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তিন নেতার হাত ধরাধরিতে ট্রাম্পের রক্তচাপ বেড়ে গিয়েছে। হাওয়া যে একেবারেই তাঁর পক্ষে নেই, সেটা ভালোই বুঝতে পেরেছেন সাদাবাড়ির বড় কর্তা। তাই, বাধ্য হয়ে ট্রাম্প মুখ খুলেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক ভালোই।’
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভারতের ওপর থেকে শুল্ক হ্রাসের কোনও সম্ভাবনা আছে কি না জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন, ‘এমন কোনও পরিকল্পনা নেই। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো। কিন্তু সেই সম্পর্ক একতরফা ছিল। আমি সেটা বদলে দিয়েছি।’ সেই সঙ্গে ট্রাম্পের সংযোজন, ‘ভারত সবসময় আমাদের থেকে বেশি শুল্ক আদায় করত। ওরা ওদের জিনিস জাহাজে বোঝাই করে পাঠিয়ে দিত। ফলে, আমাদের উৎপাদিত পণ্যের ওপর এর প্রভাব পড়ে। আমাদের থেকে ১০০ শতাংশ শুল্ক নেওয়া হত।’
এত কিছুর পরেও ভারতের প্রতি ট্রাম্পের মনোভাব বদলে যাওয়ার কারণ ওই এসসিও সামিট। আমেরিকার অবস্থান ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছে। সে দেশের তরফ থেকে তিনটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট যে ওয়াশিংটন দেরিতে হলেও তাদের ভুল বুঝতে শুরু করেছে। মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবেইরো যে বিবৃতি দিয়েছেন, তা পরিষ্কার হচ্ছে যে এখন যেন তেন প্রকারেন ওয়াশিংটন চাইছে দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত করতে।
আমেরিকা সরাসরি বলছে, ভারতের সঙ্গে যে দ্বন্দ্ব হয়েছে, তা তাড়াতাড়ি মিটে যাবে। এই দুই রাষ্ট্র অতীতে একসঙ্গে কাজ করেছে। ভবিষ্যতেও এক সঙ্গে কাজ করবে। মার্কিন দূতবাস থেকেও একটি টুইট করা হয়েছে। সেই টুইট ঘুরিয়ে এই বার্তা দিতে চাইছে যে তারা বিপাকে পড়েছে। প্রথম মুখ খোলেন স্কট কেনেথ হোমার বেসেন্ট তিনি বলেন, দুটি দেশ কথা বলে তাদের সমস্যা মিটিয়ে নেবে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ভারতের বাজার হাতছাড়া হলে আমেরিকার যে বড় ক্ষতি হবে, সেটা দেরিতে হলেও বুঝতে পেরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাই, বরফ গলাতে উঠে পড়ে লেগেছেন। কিন্তু বরফ গতটা গলবে, তানিয়ে কিছুটা হলেও সন্দিহান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিকমহল।
হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ওরা (ভারত) এখন (মার্কিন পণ্য) শুল্কশূন্য করার প্রস্তাব দিয়েছে। এটা অনেক আগেই করা হয়েছিল।’ তাঁর এই বার্তার পরে পরেই ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূস গয়াল ইঙ্গিত দেন, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য ইস্যুতে আলোচনা চলছে।
উল্লেখ করা যেতে পারে, আমেরিকার একটি আদালত ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কড়া সমালোচনা করে। যদিও এত কিছুর পরেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর অবস্থান থেকে সরতে নারাজ। তবে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে ভারতের বিরুদ্ধে তিনি যে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন, সেই অবস্থান থেকে অনেকটাই সরে এসেছেন। আন্তর্জাতিকমহল মনে করছে, পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আরও নরম হতে বাধ্য করবে। সেটা হয় কি না, সে দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা দুনিয়া।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post