সম্প্রতি বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান যমুনায় গিয়ে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে। সরকারিভাবে বলা হয়েছে, সেনাপ্রধানের চিন সফরের খুঁটিনাটি জানাতেই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। কিন্তু কেবলমাত্র এই কারণেই এই বৈঠক যে হয়নি, সেটা স্বীকার করছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্দরে খোঁজখবর রাখা অনেকেই। সরকারের একটি সূত্র জানাচ্ছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল হয়েছে। যা নিয়ে প্রথমদিকে আপত্তি ছিল সেনাপ্রধানের। কিন্তু অবস্থা বেগতিক দেখে সেনাপ্রধান ও সেনাসদনকে খুশি করতে তাঁদের পছন্দের তালিকা অনুযায়ী বদলির নির্দেশিকা জারি করা হল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের অভিমত, আপাতত সংঘাত এড়িয়ে নিজের গদি বাঁচালেন মুহাম্মদ ইউনূস। কিন্তু সেনাপ্রধান কেন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন? এর কারণ খুঁজতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
জানা যাচ্ছে, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র জনতার হত্যার সাথে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত অন্ততপক্ষে ৭২ জন সেনা কর্মকর্তাকে তালিকাভুক্ত করে পঞ্চাশ পেজের একটি রিপোর্ট তৈরী করেছিল জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন। জাতিসংঘের রিপোর্ট প্রকাশিত হবার পর থেকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গুম খুন কমিশন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব ছিল ইউএনের রিপোর্টে উল্লিখিত ওই ৭২ জনকে বিচারের আওতায় আনা। কিন্তু সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার চরম অসহযোগীতা ও অসহনশীল আচরণের কারণে কমিশনগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি বলেই অভিযোগ। সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘাত এড়াতে সম্প্রতি ইউনূসের সরকার ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে তার নীতি বদলাতে বাধ্য হয়েছে বলেই খবর। এ ক্ষেত্রে মূলত সেনাবাহিনীর সাথে তিনটি বিষয়ে মতানৈক্যে আসার চেষ্টা চলছে।প্রথমত, ইউএন-এর রিপোর্টে তালিকাভুক্ত ৭২ জন সেনা আধিকারিকের মধ্যে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ২২ জনকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বোঝাপড়ার মাধ্যমে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা। উল্লেখ্য, এই ২২ জনের মধ্যে ৫ জন ইতিমধ্যেই বিদেশে পালিয়েছেন বলে খবর। বাকি থাকে ১৭ জন। এই ১৭ জনের ১৬ জনই সার্ভিং অফিসার; অর্থাৎ তারা এখনও চাকুরি করছেন। আর এরা প্রত্যেকেই জেনারেল ওয়াকারের আস্থাভাজন।এই কারণেই চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, তার টিম এবং গুম খুন কমিশনের সদ্স্যরা সেনাবাহিনীর অসহযোগীতা মূলক আচরণেই অভিযোগ তুলেছেন বিভিন্ন সময়। তবে জানা যাচ্ছে, সমস্ত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এই ২২ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে অভিযোগ ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে, তাই আইসিটি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেছে। আর ইউনূসের প্রশাসন আইনের মধ্যে থেকেই সেই গ্রেফতারি পরোয়ানা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। কিন্তু জেনারেল ওয়াকার বুঝতে পেরেছেন তাঁর আস্থাভাজন এই সেনাকর্তারা গ্রেফতার হলেই তিনি বেকায়দায় পড়বেন। তাই তিনি কোনোভাবেই সহযোগীতা করছেন না। সেই কারণেই প্রথা ভেঙে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের বাসভবনে গিয়ে একান্ত বৈঠক করেছেন জেনারেল ওয়াকার। কারণ তিনি জানেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে প্রথান বিচারপতি যদি তাঁর দিকে থাকেন, তাহলে সেই সেনাকর্তারা গ্রেফতার হলেও জামিন পেতে সমস্যা হবে না।












Discussion about this post