বছর ঘুরলেই বাংলাদেশে ভোট। অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, ভোট যাতে অবাধ ও সুষ্ঠ হয়, তার জন্য তিনি সব ধরনের পদক্ষেপ করতে প্রস্তুত। সেনাবাহিনীও জানিয়েছে, তারা অন্তর্বর্তী সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। প্রশ্ন উঠছে, জাতীয় নির্বাচনে কি হাসিনা এবং তাঁর দল অংশগ্রহণ করতে পারবে? আরও স্পষ্ট ভাষায় নির্বাচন কমিশন কী বঙ্গবন্ধুকন্যা ও তাঁর দলকে ভোটে লড়াই করার সুযোগ করে দেবে? ইউনূস জানিয়েছেন, এই ব্যাপারে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। যদিও কমিশন এখনও এই বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। তবে কমিশনের গৃহীত একটি সিদ্ধান্ত থেকে স্পষ্ট, হাসিনা এবং তাঁর দলের প্রার্থীরা যাতে কোনওভাবেই ভোটে লড়তে না পারে, তার জন্য তারা একটি অভিনব পদক্ষেপ করতে চলেছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, তারা বাংলাদেশের গণপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২ নম্বর অনুচ্ছেদের ১ উপধারা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব কমিশনে পেশ হয়েছে। প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। নতুন দুটি ধারা সংযোজিত হয়েছে। প্রথমটি হল ফেরার ব্যক্তিরা ভোটে অংশ নিতে পারবে না। দুই অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে না। ভোটে লড়তে হলে প্রার্থীকে সশরীরে কমিশনে এসে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ এবং জমা দিতে হবে।
বাংলাদেশ পুলিশ ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মীকে ফেরার ঘোষণা করেছে। বাড়ি বা কার্যালয়ে গিয়েও তাদের হদিশ পাওয়া যায়নি। এমনকী আদালতেও তারা আত্মসমর্পণ করেননি। ফেরার ঘোষিতদের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রথম ও মধ্যসারির বহু নেতা রয়েছেন। এরা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্য হলে নির্বাচন কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত অনুসারে, এরা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। সিদ্ধান্তে অনেকেই বিস্মিত। কমিশনের বিধিতে বলা হয়েছে, সাত বছরের বেশি সাজাপ্রাপ্তরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। ফেরারি বা অভিযুক্তদের ভোটে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা ছিল না।
পলাতক নেতাদের নির্দল প্রার্থী হিসেবে গোপন আস্তানা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ থাকছে না। আওয়ামী লীগের এক নেতার কথায় দেশের যা পরিস্থিতি, তাতে দলের নেতাদের সশরীরে নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে মনোনয়ন দাখিল করা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। রাস্তায় বেরোলেই খুন হতে হবে। বাংলাদেশে আকছাড় এই ঘটনা ঘটছে। এমনকী আদালতও তাদের কাছে আর কোনওভাবেই নিরাপদ নয়। গত এক বছরে শুধু জেলের ভিতরে ৩২ জন নেতা-কর্মীকে খুন করা হয়েছে।
উল্লেখ করার মতো বিষয় হল, নির্বাচন সংস্কারক বিষয়ক কমিশন অভিযুক্তদের ভোটে অংশ নিতে না দেওয়ার যে সুপারিশ করেছিল, মাস কয়েক আগে বর্তমান নির্বাচন কমিশন তাঁর বিরোধিতা করে। সেই কমিশন এখন বেসুরে গান গাইছে। ইতিমধ্যে কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকায় নিযুক্ত আমেরিকার কার্যনির্বাহী রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের বৈঠক। গত সোমবার আগরগাঁওতে কমিশনের দপ্তরে উভয়ের কথা হয়। তার ঠিক পরের দিন কমিশন বেসুরে গান গাইতে শুরু করেছে। বৈঠক শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, একদিনে ভোট হলে ভোটে অশান্ত সৃষ্টিকারী তিনশো আসনে ভাগ হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা বাহিনীর পক্ষে আরও সহজ হবে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন, একটি কেন্দ্রে একক প্রার্থী থাকলে সেই কেন্দ্রে নোটা থাকবে। জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করলেও প্রার্থীরা নিজ নিজ দলে প্রতীকে লড়তে পারবেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post